ফুল ছিটিয়ে শেখ রাসেলকে স্মরণ বড় দুই বোনের

আপডেট : ১৯ অক্টোবর ২০২২, ০৪:৫৬ এএম

জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ছোট ছেলে প্রয়াত শেখ রাসেলের ৫৯তম জন্মদিন উপলক্ষে তার কবরে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানিয়েছেন বড় দুই বোন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানা। দিনটি উপলক্ষে গতকাল মঙ্গলবার ভোরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ছোট বোন শেখ রেহানাকে সঙ্গে নিয়ে রাজধানীর বনানী কবরস্থানে যান। সেখানে প্রথমে প্রধানমন্ত্রী শেখ রাসেলের কবরে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান। পরে দুই বোন ছোট ভাইয়ের স্মরণে কিছুক্ষণ নীরবে দাঁড়িয়ে থাকেন। এরপর তারা দুজন সেখানে শেখ রাসেলের পাশাপাশি পরিবারের অন্য সদস্যদের কবর জিয়ারত ও মোনাজাত করেন। সবশেষে দুই বোন পরম মমতায় ছোট ভাই রাসেলের কবরে ছিটিয়ে দেন ফুলের পাপড়ি।

১৯৬৪ সালের ১৮ অক্টোবর রাজধানীর ধানমন্ডির ৩২ নম্বর সড়কের বাড়িতে জন্ম হয়েছিল শেখ রাসেলের। বেঁচে থাকলে গতকাল ৫৯তম জন্মদিন পালন করতেন তিনি। কিন্তু ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট ঘাতকচক্রের বুলেটে পরিবারের অন্য সদস্যদের সঙ্গে নিহত হন শেখ রাসেল। সেদিন বিদেশে থাকায় প্রাণে বেঁচে যান শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানা। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী গত বছর থেকে ১৮ অক্টোবর শেখ রাসেল দিবস হিসেবে পালিত হচ্ছে। দিবসটির এবারের মূল প্রতিপাদ্য হচ্ছে ‘শেখ রাসেল নির্মলতার প্রতীক, দুরন্ত প্রাণবন্ত নির্ভীক’।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং শেখ রেহানার পরে সকাল ৯টার দিকে দলীয় নেতাদের নিয়ে শেখ রাসেলের কবরে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। এ সময় তার সঙ্গে ছিলেন দলটির সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য শাজাহান খান, জাহাঙ্গীর কবির নানক, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হাছান মাহমুদ, আ ফ ম বাহাউদিন নাছিম, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক আবদুস সোবহান গোলাপ, নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী, দপ্তর সম্পাদক বিপ্লব বড়ুয়া, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সম্পাদক আবদুস সবুর, উপদপ্তর সম্পাদক সায়েম খান, কেন্দ্রীয় সদস্য রিয়াজুল কবির কাওছার প্রমুখ।

নেতারা প্রথমে ফুলেল শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। পরে তারা শেখ রাসেলের কবরে ফুলের পাপড়ি ছিটিয়ে দিয়ে কবরস্থান মসজিদে মিলাদ ও দোয়া মাহফিলে অংশ নেন।

শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন ওবায়দুল কাদের। তিনি বলেন, ‘শেখ রাসেলকে যারা হত্যা করেছে এবং ১৫ আগস্টের হত্যাকাণ্ডে যারা জড়িত, ইতিহাস তাদের ক্ষমা করেনি, প্রচলিত আদালতে তাদের অনেকের বিচার হয়েছে, অনেকের হয়নি। তাদের এ ক্ষমার অযোগ্য অপরাধকে দেশের মানুষ ঘৃণা ও ধিক্কার দিয়ে প্রতিবাদ করছে।’

১৫ আগস্টের হত্যাকাণ্ডকে ক্ষমার অযোগ্য উল্লেখ করে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘যারা ইনডেমনিটি দিয়েছিল তাদের উত্তরাধিকার বহন করছে বিএনপি। বিএনপির হাতে বাংলাদেশ ও দেশের শাসন নিরাপদ নয়।’

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘বিএনপি এ দেশের রাজনীতির জন্য বিষফোঁড়া। দেশের নিরাপত্তা, গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় বিএনপি বড় অন্তরায়।’

কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের পক্ষে শ্রদ্ধা নিবেদনের পর ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ আওয়ামী লীগ, মহিলা আওয়ামী লীগ, কৃষক লীগ, যুবলীগ, যুব মহিলা লীগ, ছাত্রলীগসহ দলটির সহযোগী ও ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠনগুলো শেখ রাসেলের কবরে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানায়। এ ছাড়া বিভিন্ন সামাজিক, রাজনৈতিক সংগঠন এবং সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে শেখ রাসেলের প্রতি শ্রদ্ধা জানানো হয়।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত