হেরে গেলেন শশী থারুর, কংগ্রেস সভাপতি হলেন মল্লিকার্জুন খড়গে

আপডেট : ১৯ অক্টোবর ২০২২, ০২:৫৩ পিএম

অবশেষে ভারতের বর্তমান প্রধান বিরোধী দল এবং উপমহাদেশের অন্যতম পুরোনো রাজনৈতিক দল ভারতীয় কংগ্রেসের সভাপতি হলেন মল্লিকার্জুন খড়গে। এর মধ্য দিয়ে উপমহাদেশের ঐতিহ্যবাহী দলটি ২৪ বছর পর গান্ধী পরিবারের বাইরে নতুন সভাপতি পেল। বুধবার (১৯ অক্টোবর) দুপুরে ভোট গণনার ফল ঘোষণা করা হয়।

প্রতিদ্বন্দ্বী শশী থারুরকে বড় ব্যবধানে হারিয়েছেন তিনি। কংগ্রেস সভাপতি নির্বাচনে খড়গে পেয়েছেন ৭ হাজার ৮৯৭টি ভোট। অপরদিকে শশী থারুর ভোট পেয়েছেন ১ হাজার ৭২টি। এই ফলের মধ্য দিয়ে আগামী ২০২৪-এর লোকসভা নির্বাচনে কংগ্রেসকে নেতৃত্ব দেবেন খড়গে।

আজ বুধবার দিল্লিতে কংগ্রেসের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে নির্বাচিত নতুন সভাপতির নাম ঘোষণা করা হয়। প্রায় দুই দশক পর গান্ধী পরিবারের বাইরে সভাপতি পেল দলটি। কংগ্রেসের প্রায় ১৩৭ বছরের ইতিহাসে এ নিয়ে ষষ্ঠবারের মতো সরাসরি নির্বাচনের মধ্য দিয়ে সভাপতি বেছে নেওয়া হলো।

রাজধানী নয়াদিল্লিসহ সোমবার (১৭ অক্টোবর) দেশের ৩৬টি পোলিং স্টেশনের ৬৭টি বুথে ভোটগ্রহণ হয়। ভোটগ্রহণের পুরো প্রক্রিয়া ছিল গোপন ব্যালটের মাধ্যমে। ভোটদানে স্বচ্ছতা আনতে প্রথমবারের মতো ভোটদাতাদের কিউআর কোডসহ পরিচয়পত্রও দেয়া হয়েছিল।

তবে নির্বাচনের দিন ভোট কারচুপির অভিযোগ এনেছিলেন থারুর। ভোট গণনার মধ্যেই ‘ব্যাপক অনিয়মের’ অভিযোগ তোলেন শশী থারুর। শশী থারুর এই অভিযোগ আনেন প্রধানত উত্তর প্রদেশের ভোট নিয়ে। তার ও তার নির্বাচনী এজেন্টের অভিযোগ, ওই রাজ্যে সুষ্ঠু ও অবাধ নির্বাচন হয়নি। যেভাবে ভোট করা হয়েছে, তা জানলে মল্লিকার্জুন খাড়গেও তা হতে দিতেন না।

প্রসঙ্গত, গত দেড় দশকে দেশজুড়ে বিজেপির যে উত্থান, তাতে আদৌ বিজেপির সঙ্গে কংগ্রেস রাজনৈতিক লড়াইয়ে পেরে উঠতে পারবে কি না, সেটি নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে ভারতবাসীদের মধ্যে।  অনেকে মনে করেন, বিজেপির সঙ্গে লড়াইয়ের চেয়ে গান্ধী পরিবারমুক্ত হলে কংগ্রেসের অস্তিত্ব টিকে থাকবে।

১৮৮৫ সালে ২৮ ডিসেম্বর ব্রিটিশ-ইন্ডিয়ায় প্রতিষ্ঠা হয় জাতীয় কংগ্রেসের। নব নির্বাচিত সভায় দলটির ৮১তম সভাপতি। এর আগে সোনিয়া গান্ধী ৭ বার এবং রাহুল গান্ধী ১ বার সভাপতি ছিলেন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত