সদ্য সমাপ্ত জেলা পরিষদ নির্বাচনে টাঙ্গাইলের বাসাইল উপজেলার সদস্য পদপ্রার্থী ছিলেন রফিকুল ইসলাম সংগ্রাম। ভোট কিনতে ভোটারদের (তৃণমূলের জনপ্রতিনিধিরা) মধ্যে বিপুল অঙ্কের টাকা বিতরণ করেন তিনি। কিন্তু ভোটাররা টাকা নিয়েও প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী ভোট না দেওয়ায় টাকা ফেরত চেয়ে ফেইসবুকে স্ট্যাটাস দেন রফিকুল ইসলাম সংগ্রাম। এমন পরিস্থিতিতে লোকলজ্জায় পড়ে ভোটাররাও গতকাল বুধবার রফিকুলের কাছ থেকে নেওয়া টাকা ফেরত দিতে শুরু করেছেন।
এর আগে গত মঙ্গলবার সকালে ভোটের আগে বিতরণ করা টাকা ফেরত চেয়ে ফেইসবুকে স্ট্যাটাস দেন রফিকুল ইসলাম সংগ্রাম। মুহূর্তের মধ্যেই বাসাইলবাসীর মধ্যে ওই স্ট্যাটাস ছড়িয়ে পড়ে। এ নিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশ হয়। এরপর থেকেই পরাজিত ওই প্রার্থীর কাছ থেকে টাকা গ্রহণকারী ভোটাররা তাদের নাম প্রকাশ না করার জন্য অনুরোধ করতে থাকেন। পরে গতকাল তারা নিজ উদ্যোগে ভোটের আগে গ্রহণ করা টাকা ফেরত দিতে শুরু করেন।
জানা গেছে, ১১ নম্বর ওয়ার্ডের (বাসাইল) সদস্য পদপ্রার্থী মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম ভোটের আগে উপজেলার ফুলকি ইউপির ৮, হাবলা ইউপির ৫, পৌরসভার ৫, সদর ইউপির ১১, কাউলজানী ইউপির ৯, কাঞ্চনপুর ইউপির ৫ এবং কাশিল ইউপির ৭ ভোটারকে টাকা দেন। প্রত্যেক ভোটারকে ১০ হাজার থেকে ৩০ হাজার টাকা করে ১০ লাখ টাকা বিতরণ করেন ওই পরাজিত প্রার্থী। তাদের মধ্যে গণমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশ হওয়ার পর গতকাল হাবলা, সদর, কাঞ্চনপুর, কাউলজানী ও ফুলকি ইউপির অন্তত ৭ জন ভোটার ২ লাখ টাকা ফেরত দিয়েছেন। আগামী দুদিনের মধ্যে বাদবাকি ভোটাররাও টাকা ফেরত দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে নাম প্রকাশ না করতে অনুরোধ করেছেন।
ভোটের আগে কেন টাকা বিতরণ করেছেন এমন প্রশ্নের জবাবে পরাজিত প্রার্থী রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘ভোটাররাই একা দেখা করে বিভিন্ন অঙ্কের টাকা দাবি করে আসছিলেন। তাই নির্বাচনে বিজয়ী হওয়ার লোভে পড়ে ভোটারদের মাঝে টাকা বিতরণ করেছিলাম। তবে বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রচার হওয়ার পরপরই সবাই টাকা ফেরত দিচ্ছেন।’
এ প্রসঙ্গে মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ^বিদ্যালয়ের (মাভাবিপ্রবি) ক্রিমিনোলজি অ্যান্ড পুলিশ সায়েন্স বিভাগের চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. উমর ফারুক বলেন, ‘ভোট কেনা জঘন্য অপরাধ। এটা অন্যের অধিকার টাকা দিয়ে কিনে নেওয়া। একজন মানুষের মানবিক সত্তাকে হরণ করার শামিল। একসময় যারা ভোট কিনত বা বিক্রি করত, তারা এটা নিয়ে লজ্জাবোধ করত। এখন ওই মূল্যবোধগুলো নষ্ট হয়ে গেছে। ভোট কেনা-বেচায় আইনের যথাযথ প্রয়োগ না থাকায় দিন দিন এমন অপরাধপ্রবণতা বাড়ছে।’
উল্লেখ্য, টাঙ্গাইল জেলা পরিষদ নির্বাচন ১১ নম্বর ওয়ার্ডে (বাসাইল) মোট ভোটার ৯৪ জন। পাঁচ প্রার্থীর মধ্যে তিনজনেরই জামানত বাজেয়াপ্ত হয়। সদস্য পদে মো. নাছির খান ৫৫ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। নিকটতম প্রার্থী মোহাম্মদ হোসাইন খান পেয়েছেন ২১ ভোট, মিজানুর রহমান খান পেয়েছেন ১১ ভোট এবং টাকা বিতরণ করা মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম পেয়েছেন ৭ ভোট। আরেক প্রার্থী আতিকুর রহমান কোনো ভোটই পাননি।
