গাজীপুরের কালিয়াকৈরে স্ত্রীকে বঁটি দিয়ে কুপিয়ে ও জবাই করে হত্যার পর ঘরের দরজা-জানালা বন্ধ করে নিজেকে সেই অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে রাখে স্বামী। এ ঘটনার পর পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীয়দের অভিযানের পর তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার হরিণহাটি এলাকায় গতকাল বুধবার সকালে।
ঘটনার সঙ্গে জড়িত স্বামী গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ থানার হেলালিপাড়া এলাকার রুবেল হোসেন এবং হত্যার শিকার তার স্ত্রী শামসুন্নাহার শিলা ওরফে মামুনি (২৬)।
এলাকাবাসী, নিহতের পরিবার, পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা গেছে, গত ১০-১২ বছর আগে গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ থানার হেলালিপাড়া এলাকার আশরাফ আলীর ছেলে রুবেলের সঙ্গে তার ফুফাতো বোন একই এলাকার শামসুল হকের মেয়ে শিলার প্রেমের সম্পর্কের জেরে বিয়ে হয়। কিন্তু তাদের বিয়েটি পরিবারের লোকজন মেনে নিতে পারেনি। পরে তারা স্বামী-স্ত্রী দুজনে জীবিকার খোঁজে গাজীপুরের কালিয়াকৈরে আসেন। কিন্তু বছরখানেক আগে তারা উপজেলার হরিণহাটি এলাকার জংসের আলীর কলোনির একটি কক্ষ ভাড়া নিয়ে বসবাস শুরু করেন। সেখানে ভাড়া থেকে তারা দুজনে স্থানীয় পোশাক কারখানায় কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করে আসছিলেন। এরই মধ্যে পোশাক কারখানার কাজটি ছেড়ে দেন স্বামী রুবেল। এই নিয়েও স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে ঝগড়া-বিবাদ হতো। গতকাল বুধবার সকালেও স্বামী-স্ত্রী দুজনে রান্নাবান্না ও খাওয়াদাওয়া করেন। কিন্তু হঠাৎ করেই তাদের দুজনের মধ্যে কথা-কাটাকাটির এক পর্যায়ে ঝগড়া শুরু হয়। ঝগড়ার এক পর্যায় স্ত্রীকে টেনেহিঁচড়ে ঘরের ভেতরে নিয়ে দরজা-জানালা বন্ধ করে দেয় স্বামী রুবেল। এ সময় রুবেল ধারালো বঁটি দিয়ে এলোপাতাড়ি কোপাতে থাকলে বাঁচাও বাঁচাও বলে চিৎকার করে স্ত্রী শিলা। কক্ষের বাইরে থেকে পাশের ভাড়াটে লোকজন তাকে বাঁচাতে চাইলেও দরজা খোলেনি রুবেল। এক পর্যায়ে বঁটি দিয়ে জবাই করে হত্যার পর কক্ষের ভেতরে স্ত্রীর রক্তাক্ত লাশের পাশে বসে থাকেন তিনি।
খবর পেয়ে কালিয়াকৈর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গেলে স্ত্রীর লাশ উদ্ধার ও ঘাতক স্বামীকে আটকের চেষ্টা করে। কিন্তু ঘাতক স্বামী তার নিজের গলায় সেই ধারালো বঁটি ধরে নিজেকেই জিম্মি করেন।
