নারীর সক্ষমতা বাড়াতে ৭৩ কোটির তিন প্রকল্প

আপডেট : ২০ অক্টোবর ২০২২, ১১:২৪ পিএম

ভারতের পশ্চিমবঙ্গ সরকার কিশোরীদের জন্য চালু করেছিল ‘সবুজ সাথী’ নামের একটি প্রকল্প। সফল এ প্রকল্পটি ইতিমধ্যে সারা বিশে্ব প্রশংসিত হওয়ার পাশাপাশি জিতে নিয়েছে নানা আন্তর্জাতিক পুরস্কার। তারই অনুকরণে বাংলাদেশের কয়েকটি জেলায় প্রাথমিকভাবে এ প্রকল্প বাস্তবায়ন করতে চায় সরকার। কিশোরী ও নারীদের স্বাস্থ্য সুরক্ষা ও জীবনমান উন্নয়নে ৭৩ কোটি টাকা ব্যয়ে তিনটি প্রকল্প প্রস্তাব করেছে মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তর।

প্রকল্পগুলোর আওতায়, দেশের বিভিন্ন জেলার পিছিয়ে পড়া অবহেলিত কিশোরীদের মধ্যে ১৬ হাজার বাইসাইকেল বিতরণ করবে সরকার। পরীক্ষামূলকভাবে ষষ্ঠ শ্রেণিপড়ুয়া ছাত্রীরা পাবে এসব সাইকেল। ষষ্ঠ শ্রেণির কিশোরীদের বাইসাইকেল চালানোয় সুফল মিললে পর্যায়ক্রমে সারা দেশে এমন উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা হবে। ৩২টি জেলা সদরের ৩৮৪টি স্কুলের ৫৭ হাজার ৬শ কিশোরীর স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করবে সরকার। নারীর অর্থনৈতিক ক্ষমতা সৃষ্টিতে প্রস্তুত ও বিতরণ করা হবে স্যানেটারি টাওয়েল। আর হাওরের নারীদের অর্থনৈতিক ও সামাজিকভাবে এগিয়ে নিতে আনা হচ্ছে প্রশিক্ষণের আওতায়। তিন প্রকল্পে ব্যয় হবে প্রায় ৭৩ কোটি টাকা।

প্রাথমিকভাবে আট জেলায় (রাজবাড়ী, জামালপুর, খাগড়াছড়ি, সুনামগঞ্জ, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, কুড়িগ্রাম, ঝিনাইদহ ও বরগুনা) বাইসাইকেল পাবে ১৬ হাজার কিশোরী। ‘কিশোরী ক্ষমতায়নে স্কুলগামী ছাত্রীদের বাইসাইকেল প্রদান’ শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় এ উদ্যোগ। প্রকল্পের মোট ব্যয় ২৫ কোটি টাকা। চলতি বছরের জুন থেকে ২০২৫ সালের জুনের মধ্যে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হবে।

বাল্যবিয়ে প্রতিরোধ, স্কুলগামী ছাত্রীদের নিরবচ্ছিন্ন শিক্ষা কার্যক্রম বাস্তবায়ন, কিশোরী ক্ষমতায়ন, সহজ ও নির্ভয়ে পথচলা। প্রাথমিকভাবে বাইসাইকেল পাবে আটটি জেলার ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্রীরা। নিরবচ্ছিন্ন শিক্ষা কার্যক্রমের মাধ্যমে ভবিষ্যতে কর্মক্ষেত্রে নারীর প্রবেশের পথ সুগম করা, কিশোরীদের নারী উদ্যোক্তা হিসেবে আত্মপ্রকাশে সহায়তা করবে এ প্রকল্প। নারীর অধিকার ও বাল্যবিয়ে প্রতিরোধে বিভিন্ন কার্যক্রম বাস্তবায়ন করাও অন্যতম উদ্দেশ্য।

নারীর স্বাস্থ্য সুরক্ষায় ন্যাপকিন ব্যবহারে সচেতনতা সৃষ্টিতে ‘কিশোরী স্বাস্থ্য সুরক্ষায় ও নারীর অর্থনৈতিক ক্ষমতা সৃষ্টিতে স্যানেটারি টাওয়েল প্রস্তুতকরণ ও বিতরণ’ শীর্ষক আরেকটি প্রকল্প হাতে নিচ্ছে সরকার। তৃণমূল পর্যায়ে নারী উদ্যোক্তা সৃষ্টির মাধ্যমে বাংলাদেশের কিশোরী ও নারীদের মধ্যে স্যানিটারি ন্যাপকিন ব্যবহারে উদ্বুদ্ধকরণ করা হবে। এটা তাদের প্রজনন স্বাস্থ্য ও ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতা উন্নয়নে রাখবে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা। ২৪ কোটি ৫০ লাখ টাকা ব্যয়ে চলতি সময় থেকে জুন ২০২৫ মেয়াদে বাস্তবায়ন করা হবে প্রকল্পটি।

নারী উদ্যোক্তা সৃষ্টির মাধ্যমে বাংলাদেশের ৩২টি জেলা সদরের ৩৮৪টি স্কুলে এ উদ্যোগ নেওয়া হবে। ৫৭ হাজার ৬শ কিশোরী স্বাস্থ্য সুরক্ষা এবং নারীর অর্থনৈতিক ক্ষমতা সৃষ্টিতে প্রস্তুত ও বিতরণ করা হবে স্যানেটারি টাওয়েল। হাওর এলাকার সুবিধাবঞ্চিত নারীদের আয় ও কর্মসংস্থান বৃদ্ধির মাধ্যমে তাদের জীবনমান উন্নয়ন করা হবে। এজন্য হাতে নেওয়া হবে ২৩ কোটি ৫০ লাখ টাকা ব্যয়ে ‘হাওর এলাকার সুবিধাবঞ্চিত নারীর অর্থনৈতিক ও সামাজিক ক্ষমতায়নের জন্য আয় ও কর্মসংস্থান বৃদ্ধি’ শীর্ষক প্রকল্প।

হাওর এলাকার সুবিধাবঞ্চিত নারী গোষ্ঠীর আয় ও কর্মসংস্থান বৃদ্ধির মাধ্যমে তাদের জীবনমান উন্নয়ন। এজন্য ভাসমান বীজতলা তৈরি, অর্গানিক সবজি চাষ ও হাঁস প্রতিপালন বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। নারীর অধিকার, বাল্যবিয়ে প্রতিরোধে বিভিন্ন কার্যক্রম গ্রহণ-বাস্তবায়ন করার মাধ্যমে নারী-পুরুষ বৈষম্যহীন সমাজ সৃষ্টির মাধ্যমে নারীর অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়ন করা হবে।

সুনামগঞ্জ, হবিগঞ্জ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, কিশোরগঞ্জ, নেত্রকোনা, সিলেট ও মৌলভীবাজার জেলার হাওর অধ্যুষিত এলাকায় প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হবে। এসব এলাকায় বছরে একটি ফসল উৎপাদিত হয়। আগাম বন্যা থেকে সেই ফসল মুক্ত করতে সহায়তা করবে এই প্রকল্প। ভাসমান বীজতলা তৈরি পদ্ধতি হাতে-কলমে প্রশিক্ষণ, ভাসমান বেডের ওপর বিভিন্ন ধরনের সবজি চাষ প্রশিক্ষণ ও হাঁস প্রতিপালন প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে।

মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তর জানায়, তিনটি প্রকল্পে আলাদা আলাদাভাবে মোট ৭৩ কোটি টাকা খরচ করা হবে। সবুজ সাথী প্রকল্প পশ্চিমবঙ্গ সরকারের মাধ্যমে বাস্তবায়িত কর্মসূচির একটি যোজনা, যেখানে একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থীদের বিনামূল্যে সাইকেল বিতরণ করা হয়।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত