মুক্তিযোদ্ধাকে পেটালেন প্রতিদ্বন্দ্বী আ.লীগ নেতা

আপডেট : ২১ অক্টোবর ২০২২, ০৫:০৯ এএম

মানিকগঞ্জের সাটুরিয়া উপজেলার বরাইদ ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি পদপ্রার্থী বীর মুক্তিযোদ্ধা ইয়াজ উদ্দিন হামলার শিকার হয়েছেন। প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী ওই ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান হারুন উর রশিদ গত বুধবার রাত ৮টার দিকে এই হামলা চালিয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। গুরুতর আহত ইয়াজ উদ্দিন এখন সাটুরিয়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন।

জানা গেছে, আগামীকাল শনিবার সাটুরিয়া উপজেলার বরাইদ ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সম্মেলন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। বীর মুক্তিযোদ্ধা ইয়াজ উদ্দিন এবং হারুন উর রশিদ সভাপতি পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। 

হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ইয়াজ উদ্দিন সাংবাদিকদের জানান, তিনি সভাপতি পদপ্রার্থী হওয়ায় হারুন উর রশিদ নাখোশ হন। বুধবার রাত ৮টার দিকে হারুন কয়েকজন মাস্তান নিয়ে ইয়াজ উদ্দিনের বাড়িতে হামলা চালান। এ সময় তাকে বেধড়ক মারপিট করা হয়। এ ছাড়া তার বাড়ির কয়েকজনও আহত হন।

ইয়াজ উদ্দিন ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, মুক্তিযুদ্ধ করে দেশ স্বাধীন করলাম। আর আমাকে অপমানিত হতে হয় নির্বাচনে অংশ নিয়ে। আমি এ ঘটনার বিচার চাই।

ইয়াজ উদ্দিনের মেয়ে সাটুরিয়া উপজেলার মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান শিউলি আক্তার বলেন, চেয়ারম্যান হারুন তার দলবল রশিদ, হযরত, হাসান, রাজিব, রফিকসহ কয়েকজন বাড়িতে এসে আমার বাবা, ভাইদের পিটিয়ে আহত করেছে। বাবাকে চরম অপমান করেছে।

তবে চেয়ারম্যান হারুন উর রশিদ অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের কাউন্সিলে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকার কথা। ঘটনার সময় আমি সাভার এলাকায় কাউন্সিলে যাওয়ার জন্য দাওয়াত দিচ্ছিলাম। এমন সময় মুক্তিযোদ্ধা ইয়াজ উদ্দিন চাচা আমার ওপর হামলা চালানোর নির্দেশ দেন। তার ছেলে ফিরুজ আমাকে লাঞ্ছিত করে।

তিনি অভিযোগ করে বলেন, সদ্য বহিষ্কৃত আওয়ামী লীগ নেতা মোশারফ হোসেন, বর্তমান চেয়ারম্যান আবদুল হাইকে নিয়ে ইয়াজ উদ্দিন চাচা বুধবার সন্ধ্যায় মিটিং করেন আসন্ন কাউন্সিল বানচাল করার জন্য। মিটিং শেষ করেই আমার ওপর আক্রমণ করেন তারা।

সাটুরিয়া থানার ওসি সুকুমার বিশ্বাস বলেন, আমি হাসপাতাল ও ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। প্রাথমিকভাবে ধারণা করছি, দুজনের মধ্যে ভুল বোঝাবুঝি হয়েছে। এখন পর্যন্ত কোনো পক্ষ লিখিত অভিযোগ করেনি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত