চুরি করতে করতে ভোর, ৯৯৯-এ কল করে উদ্ধার চোর

আপডেট : ২১ অক্টোবর ২০২২, ০৫:৩৭ এএম

চুরি করতে গিয়ে রাতভর মালামাল গোছাতে গোছাতে কখন যে ভোরের আলো ফুটেছে তা টের পাননি। চুরির মালামাল নিয়ে বের হতে গিয়ে দেখেন, চারপাশে বহু মানুষের আনাগোনা। তখন বের হতে গেলে গণপিটুনিতে গুরুতর আহত বা প্রাণ হারানোর ঝুঁকি আছে ভেবে জাতীয় জরুরি সেবার নম্বর ৯৯৯-এ কল করেন। পরে পুলিশের একটি দল এসে তাকে উদ্ধার করে। এমনই ঘটনা ঘটেছে বরিশাল সদর উপজেলার চরকাউয়া ইউনিয়নের এ আর খান বাজারে।

উদ্ধার হওয়া ইয়াছিন খান (৪১) পেশাদার চোর। তাকে গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে উদ্ধারের পর বিকেলে চুরির মামলায় কারাগারে পাঠায় পুলিশ। ইয়াছিনের বাড়ি ঝালকাঠির নলছিটির ছিলারিশ গ্রামে। পরিবার নিয়ে থাকেন বরিশাল নগরীর কালুশাহ সড়ক এলাকার একটি ভাড়া বাড়িতে।

পুলিশ জানায়, ইয়াছিন খান গতকাল সকালে জাতীয় জরুরি সেবার নম্বর ৯৯৯-এ কল করে জানান, তিনি খুব বিপদে পড়েছেন। তাকে যেন দ্রুত পুলিশ এসে উদ্ধার করে। এ সময় তাকে কনফারেন্সে রেখে ৯৯৯ থেকে বন্দর থানার (সাহেবের হাট) ডিউটি অফিসারকে বলা হয়, ‘সম্মানিত একজন সিটিজেন বিপদে পড়েছেন। তাকে দ্রুত উদ্ধারের ব্যবস্থা নেন।’ এ সময় কনফারেন্সে থাকা ইয়াছিন খান তাকে কোথা থেকে উদ্ধার করা প্রয়োজন সেই ঠিকানা জানান। কিন্তু চুরি করতে গিয়ে যে আটকে পড়েছেন, এ বিষয়ে ৯৯৯-এর কর্তব্যরত কর্মকর্তা বা থানার ডিউটি অফিসারকে কিছুই বলেননি ইয়াছিন খান।

চোর ইয়াছিন খানের বরাত দিয়ে বন্দর থানা পুলিশ জানায়, বুধবার গভীর রাতে এআর খান বাজারের ঝন্টু মিয়ার মুদি দোকানের তালা ভেঙে চুরি করতে দোকানের ভেতরে ঢোকেন তিনি। এরপর বেছে বেছে মূল্যবান মালামাল একটি ব্যাগে ভরেন। চুরি করা মূল্যবান মালামাল নিয়ে বের হওয়ার সময় দেখতে পান ভোর হয়ে যাওয়ায় বাজারে লোকজনের আনাগোনা শুরু হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে মালামাল নিয়ে দোকানের বাইরে বের হলে লোকজনের হাতে ধরা পড়ে নির্ঘাত গণধোলাইয়ের শিকার হতে হবে। এমন আশঙ্কায় ইয়াসিন খান তার মোবাইল ফোন থেকে ৯৯৯ এ কল করে পুলিশের সহায়তা চান।

বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের বন্দর থানার ওসি আসাদুজ্জামান দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘ভোরে জরুরি সেবা থেকে আমাদের কাছে তথ্য আসে এআর খান বাজার এলাকায় বিপদে পড়েছেন এক ব্যক্তি। এ খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পৌঁছালে তাকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিল না। শেষে মোবাইলে কল করে জানা যায় তিনি ঝন্টু মিয়ার দোকানের মধ্যে। দোকান থেকে বের হতে তার অসুবিধা কোথায় জানতে চাইলে পুলিশ সদস্যদের ইয়াছিন খান বলেন, চুরির মালামাল গুছিয়ে ব্যাগ ভর্তি করতে তার বেশি সময় লেগেছে। সময় গড়িয়ে সকাল হয়ে গেছে। লোকজন দোকানের পাশে অবস্থান করছিল। এ অবস্থায় সেখান থেকে বের হলে মারধরের শিকার হতেন। এজন্য বুদ্ধি করে ৯৯৯ নম্বরে কল করেছেন।’ উদ্ধারের পর জিজ্ঞাসাবাদে ইয়াছিন খান পেশাদার চোর বলে স্বীকার করেন বলেও জানান ওসি।

দোকানমালিক ঝন্টু বলেন, ‘পুলিশ আমার দোকানের কাছে আসলেও কিছুই অনুমান করতে পারিনি। পরে দোকানের মধ্যে থেকে একজনকে বের করায় বুঝতে পারি চোর ধরেছে। এরপর জানি ওই চোর ৯৯৯-এ কল করে সহায়তা চেয়েছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘দোকানের মালামাল খোয়া যায়নি কিছুই। তবে সবকিছু এলোমেলো করে রেখেছে। চোর ভালো ভালো জিনিস ব্যাগে ভরেছিল। কিন্তু নিতে পারেনি।’

চরকাউয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মনিরুল ইসলাম বলেন, ‘এ ঘটনা এখন এলাকার সবখানে আলোচনা হচ্ছে। যে শুনছে সেই অবাক হচ্ছে।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত