উপহার আত্মসাৎ করে ইমরান খান ভোটে অযোগ্য

আপডেট : ২২ অক্টোবর ২০২২, ০২:৫৭ এএম

পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানকে বেআইনিভাবে রাষ্ট্রীয় উপহার বিক্রির দায়ে সংসদ সদস্য পদ থেকে বহিষ্কার করেছে দেশটির নির্বাচন কমিশন (ইসিপি)। কমিশন বলেছে, ইমরান সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার জন্য প্রতিদ্বন্দ্বিতা এবং কোনো সরকারি দায়িত্ব পালনের যোগ্যতা হারিয়েছেন। গতকাল শুক্রবার ইসিপি সর্বসম্মতভাবে এই আদেশ দেয়। ইসিপির আদেশের বরাতে বিবিসি ও জিও নিউজের খবরে বলা হয়েছে, পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফের (পিটিআই) চেয়ারম্যান ইমরান আর দেশটির ন্যাশনাল অ্যাসেম্বলির (পার্লামেন্ট) সদস্য নন। ইমরান খানের একজন আইনজীবী বলেছেন, যে ধারায় পিটিআই চেয়ারম্যানকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছে তাতে তাকে সরকারি দায়িত্ব পালনে পাঁচ বছরের জন্য নিষিদ্ধ করা হয়েছে। অর্থাৎ এ সময়ের মধ্যে তিনি কোনো নির্বাচনে অংশগ্রহণও করতে পারবেন না।

পাকিস্তানের বর্তমান ক্ষমতাসীন জোট ইমরান খানের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছিল যে, ইমরান খান ২০১৮ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রী থাকার সময় বিদেশি উচ্চপদস্থ গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিবর্গের কাছ থেকে যেসব উপহার পেয়েছিলেন, সেগুলোর কথিত বিক্রি থেকে পাওয়া অর্থের বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করেননি। গত ২২ আগস্ট ন্যাশনাল অ্যাসেম্বলির স্পিকার রাজা পারভেজ আশরাফ ইমরান খানকে অযোগ্য ঘোষণার আবেদনটি নির্বাচন কমিশনে পাঠান। তবে ২৮ পৃষ্ঠার মূল আবেদনটি করেন আলি গোহার খান, পাকিস্তান মুসলিম লিগ-নওয়াজের (পিএমএল-এন) মোহসিন নওয়াজ রানঝা ও অন্য পাঁচজন। তাদের আবেদনে বলা হয়, তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান রাষ্ট্রীয় তোষাখানা থেকে ৫২টি উপহার নিয়েছেন। তিনি আইন ও বিধি লঙ্ঘন করে নামমাত্র মূল্যে এসব উপহার নিয়েছেন। অধিকাংশ উপহার তিনি বিক্রি করে দিয়েছেন। উপহারের মধ্যে কিছু দামি হাতঘড়িও রয়েছে। এসব উপহারের আনুমানিক মূল্য ১৪ কোটি ২০ লাখ রুপি।

ইমরান খানও গত মাসে স্বীকার করেন যে, তিনি প্রধানমন্ত্রী থাকার সময় পাওয়া অন্তত চারটি উপহার বিক্রি করেছিলেন। তবে সে বিষয়ে কোনো তথ্য দিতে অপারগতা প্রকাশ করেন তিনি। 

পরে দেশটির প্রধান নির্বাচন কমিশনার সিকান্দার সুলতান রাজার নেতৃত্বে কমিশনের পাঁচ সদস্যের বেঞ্চ মামলাটির শুনানি গ্রহণ করেন। শুনানিতে ইমরান খানের আইনজীবী দাবি করেন, নিয়ম মেনে তোষাখানা থেকে উপহার কিনেছিলেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্র্তৃপক্ষকেও অবহিত করা হয়।

তবে পাকিস্তানের ডন পত্রিকার এক রিপোর্টে বলা হয়, নির্বাচন কমিশনের ট্রাইব্যুনাল বলেছে, সংবিধানের ৬৩(১) (পি) ধারা অনুযায়ী ইমরান খানকে পার্লামেন্ট বা প্রাদেশিক আইনসভার সদস্য হিসেবে নির্বাচিত বা মনোনীত হওয়ার অযোগ্য বলে ঘোষণা করা হয়েছে।  আইন বিশেষজ্ঞদের উদ্ধৃত করে সংবাদমাধ্যমটি বলছে, কমিশনের আদেশের অর্থ হচ্ছে, ইমরান খান বর্তমান পার্লামেন্টের মেয়াদ পর্যন্ত এর সদস্য হওয়ার অযোগ্য থাকবেন। পার্লামেন্টে তার আসনটিতে উপনির্বাচন হতে পারে বলেও উল্লেখ করা হয়।

এদিকে ইমরান খান বলছেন, এ বিষয়টি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, পাকিস্তানের কয়েকটি শহরে ইমরান খানের সমর্থকরা রাস্তা আটকে দিয়ে বিক্ষোভ করেছে। তবে কোনো সহিংস ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত