লঘুচাপ রূপ নিচ্ছে ঘূর্ণিঝড়ে, উপকূলে বৃষ্টির পূর্বাভাস

আপডেট : ২২ অক্টোবর ২০২২, ০৩:০০ এএম

আন্দামান সাগরের কাছে তৈরি হওয়া লঘুচাপ আজ শনিবারের মধ্যে নিম্নচাপে পরিণত হয়ে আগামী সোমবারের দিকে ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হতে পারে। আর এর প্রভাবে বাংলাদেশসহ ভারতীয় উপকূলে আগামী এক দিনের মধ্যে প্রবল বৃষ্টি শুরু হতে পারে। তবে ঘূর্ণিঝড়টি বাংলাদেশ উপকূলে আঘাত করবে কি না, তা এখনই নিশ্চিতভাবে বলতে পারছেন না দেশের আবহাওয়াবিদরা।

ভারতের আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, সম্ভাব্য ওই ঘূর্ণিঝড়ের নাম হতে পারে ‘সিত্রাং’। এর প্রভাবে বাংলাদেশসহ ভারতীয় উপকূলে প্রবল বৃষ্টি শুরু হতে পারে। ঘূর্ণিঝড়টির ভারতের পশ্চিমবঙ্গ ও বাংলাদেশের সুন্দরবনসংলগ্ন দক্ষিণ-পশ্চিম উপকূলে আঘাত হানার সম্ভাবনা রয়েছে। ভারতের কেন্দ্রীয় ও পশ্চিমবঙ্গ সরকার ঘূর্ণিঝড়ের প্রস্তুতি হিসেবে দেশটির উপকূলীয় এলাকাগুলোতে জোরেশোরে প্রস্তুতি নিচ্ছে।

বাংলাদেশের আবহাওয়াবিদরা জানান, আগামী ২৫-২৬ অক্টোবরের মধ্যে ঘূর্ণিঝড়টি বাংলাদেশ ও ভারতীয় উপকূলের কাছাকাছি চলে আসতে পারে। ঘূর্ণিঝড়ের সম্ভাব্য গতিপথ দেখে তারা দেশের জন্য সতর্কবার্তা দিয়ে থাকেন। তবে ঘূর্ণিঝড় আঘাত হানুক বা না হানুক, এর প্রভাবে বাংলাদেশ ও ভারতের বিভিন্ন অঞ্চলে বৃষ্টি শুরু হতে পারে।

২০০৭ সালে বাংলাদেশে চলতি শতাব্দীর মধ্যে সবচেয়ে মারাত্মক ঘূর্ণিঝড় সিডর আঘাত হানে। এর দুই বছর পর ২০০৯ সালে ঘূর্ণিঝড় আইলাও ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ চালায়। এরপর ২০১৩ সালে ঘূর্ণিঝড় মহাসেন আঘাত করে। এক বছর বিরতি দিয়ে ২০১৫ সালে কোমেন, ২০১৬ সালে রোয়ানু, ২০১৭ সালে মোরা, ২০১৮ সালে তিতলি, ২০১৯ সালে ফণী, ২০২০ সালে আম্পান এবং ২০২১ সালে ঘূর্ণিঝড় ইয়াস বাংলাদেশ উপকূলে আঘাত হানে। অর্থাৎ ২০১৩ সাল থেকে বাংলাদেশ উপকূলে প্রায় প্রতি বছর একটি করে ঘূর্ণিঝড় আঘাত করছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি শক্তিশালী ছিল ২০২১ সালে আঘাত হানা ঘূর্ণিঝড় ইয়াস। যুক্তরাষ্ট্রের মহাকাশবিষয়ক সংস্থা নাসাসহ বৈশ্বিক আবহাওয়া সংস্থাগুলো একে সুপার সাইক্লোন হিসেবে চিহ্নিত করে। তবে ঝড়টি বাংলাদেশে আঘাত হানার আগে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ ও সুন্দরবনে আঘাত হানায় তা দুর্বল অবস্থায় বাংলাদেশ উপকূলে পৌঁছায়। এ কারণে সিডর বা আইলার মতো বাংলাদেশে এটি তেমন ক্ষতি করতে পারেনি।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত