সড়কে নিহত বেড়েছে ২৫%

আপডেট : ২২ অক্টোবর ২০২২, ০৩:০৪ এএম

দেশে সড়ক নিরাপত্তায় সচেতন নাগরিক সৃষ্টির লক্ষ্যে প্রতি বছরের মতো এ বছরও পালিত হচ্ছে জাতীয় নিরাপদ সড়ক দিবস। ‘আইন মেনে সড়কে চলি, নিরাপদে ঘরে ফিরি’Ñপ্রতিপাদ্য সামনে রেখে আজ শনিবার ৬ষ্ঠবারের মতো পালিত হচ্ছে দিবসটি। তবে দেশে এই সময়ে সড়ক দুর্ঘটনা কমেনি। প্রতি বছরই সড়কে মৃত্যুর সংখ্যাও বেড়ে যাচ্ছে। বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) দুর্ঘটনা গবেষণা কেন্দ্রের হিসাবে ২০২০ সালের তুলনায় ২০২১ সালে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহতের সংখ্যা প্রায় ২৫ শতাংশ বেড়েছে।

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) দুর্ঘটনা গবেষণা কেন্দ্রের পরিচালক ও যোগাযোগ বিশেষজ্ঞ ড. হাদিউজ্জামান দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘বাংলাদেশে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহতের সংখ্যা বেড়েই যাচ্ছে। তার বড় কারণ এখনো সড়কে আনফিট গাড়ি দেখা যায়। দক্ষ চালকেরও অনেক অভাব রয়েছে। আর বিজ্ঞানসম্মত সড়ক ডিজাইন করা হয় না। যার জন্য সড়কে যেসব ঝুঁকি আছে, সেগুলো রেখেই অবকাঠামো উন্নয়ন হচ্ছে। তাই ঝুঁকিগুলো ঠিক না করলে নিরাপদ সড়ক হবে না। 

সড়ক নিয়ে কাজ করা সংগঠন বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির মহাসচিব মো. মোজাম্মেল হক চৌধুরী দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘দেশের কর্মক্ষম ব্যক্তিরাই সবচেয়ে বেশি সড়ক দুর্ঘটনায় মারা যাচ্ছে। এর প্রভাব পড়ছে জাতীয় অর্থনীতিতে। দুর্ঘটনায় নিহত ও আহত ব্যক্তি এবং তাদের ওপর নির্ভরশীল ব্যক্তিদের আর্থ-সামাজিক যে ক্ষতি হচ্ছে; সে সম্পর্কে বুয়েটের এআরআই’র হিসাব বলছে, গত তিন বছরে সড়ক দুর্ঘটনায় এমন ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ১ লাখ ৯ হাজার কোটি টাকা।’

তিনি বলেন, ‘সড়ক পরিবহন আইন-২০১৮ এ গঠিত সড়ক দুর্ঘটনায় হতাহতদের আর্থিক সহায়তা তহবিল হতে নিহত ব্যক্তির পরিবারকে ৫ লাখ টাকা ও আহত ব্যক্তিকে ৩ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়ার বিধান থাকলেও আইন কার্যকরের ৩ বছরের মাথায় এই ক্ষতিপূরণ প্রদানের কার্যক্রম আজও শুরু করা হয়নি। তাই জরুরি ভিত্তিতে সড়ক দুর্ঘটনায় হতাহতদের আর্থিক সহায়তা কার্যক্রম চালুর করতে হবে।

রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক সাইদুর রহমান দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘বাংলাদেশের কোনো সড়কই নিরপদ নেই। সড়ক আইন শুধু কাগজে-কলমেই আছে। যার জন্য প্রতিবছর মৃত্যুর সংখ্যা বেড়েই যাচ্ছে। আর সড়ক নিরাপত্তার জন্য সরকার কোনো উদ্যোগ নিলেই পরিবহন মালিক ও কিছু সিন্ডিকেট আছে, যারা সবসময় বাধা সৃষ্টি করে। যার জন্য সড়ক নিরাপদ করা যায় না।’ তবে সরকারকে আরও কঠোর হতে হবে নিরাপদ সড়ক নিশ্চিত করার জন্য বলে জানান তিনি।

এদিকে ‘জাতীয় নিরাপদ সড়ক-২০২২’ উপলক্ষে গতকাল রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী পৃথক দুটি বাণী দিয়েছেন। রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ বলেছেন, ‘সড়ক নিরাপত্তা কার্যক্রম টেকসই করতে সংশ্লিষ্ট সকলকে সচেতন হওয়ার পাশাপাশি যথাযথভাবে দায়িত্ব পালন করতে হবে। তা ছাড়া, উন্নত যোগাযোগ অবকাঠামো এবং যুগোপযোগী পরিবহন সেবা টেকসই আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের পূর্বশর্ত। একটি দক্ষ পরিবহন ব্যবস্থা নিশ্চিতকল্পে সরকার মহাসড়ক নেটওয়ার্ক মেরামত, সংস্কার ও রক্ষণাবেক্ষণ, উন্নয়ন ও সম্প্রসারণ এবং সমন্বিত আধুনিক গণপরিবহন ব্যবস্থা গড়ে তোলার লক্ষ্যে কার্যক্রম পরিচালনা করে যাচ্ছে।

আর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় আমরা আমাদের সড়কগুলোকে নিরাপদ হিসেবে গড়ে তুলতে সক্ষম হব।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত