করোনার আগের অবস্থায় এখনো ফিরতে পারেনি হলিউড। সেপ্টেম্বর মাসের শেষে এ বছর হলিউডের ডমিস্টিক আয় ৫.৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। করোনার আগে ২০১৯ সালে এই আয়ের পরিমাণ ছিল ১১.৪০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। করোনার আগের বছরের সমান আয় করতে হলে এ বছরের বাকি তিন মাসে আরও ৫.৮ বিলিয়ন ডলার আয় করতে হবে। প্রায় অসম্ভব একটা ব্যাপার। তবে আশান্বিত হওয়ার কারণও আছে। ২০২১ সালে হলিউডের মোট আয় ছিল ৪.৫০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার, সেখানে এ বছর ৯ মাসেই আয় ৫.৬ বিলিয়ন। তার মানে বক্স অফিসের চাকা ঘুরতে চলেছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই প্রবণতা অব্যাহত থাকলে বাকি তিন মাসেই বক্স অফিস আয় করোনাপূর্বের আয়ের সমান হয়ে যাবে।
কীসের ভিত্তিতে বলছেন তারা এই কথা? সিনেলিটিক নামের কনটেন্ট অ্যানালিটিক ফার্ম মুক্তি প্রতীক্ষিত চারটি ছবির বিষয়বস্তু বিশ্লেষণ করে পাঠিয়েছে সিনেমাবিষয়ক ম্যাগাজিন ভ্যারাইটির কাছে। সেই রিপোর্ট অনুযায়ী দেখা যাচ্ছে, যদি অপ্রত্যাশিত কিছু না ঘটে তাহলে আগামী তিন মাসে দর্শকসংখ্যা অনেক বাড়বে।
সামনের তিন মাসে মুক্তি প্রতীক্ষিত ছবির মধ্যে রয়েছে জেমস ক্যামেরনের ‘অ্যাভাটার : দ্য ওয়ে অব ওয়াটার’। ২০০৯ সালে রেকর্ড ব্যবসা করা ‘অ্যাভাটার’-এর পরের কিস্তি যে বক্স অফিসে তুমুল হিট হবে, সেটা আগে থেকেই বোঝা যাচ্ছে। ছবিটি মুক্তি পাবে ১৬ ডিসেম্বর। ১১ নভেম্বর বাজার কাঁপাতে মুক্তি পাবে ডিজনির ‘ব্ল্যাক প্যান্থার : ওয়াকান্ডা ফরএভার’। গতকাল মুক্তি পেয়েছে ওয়ার্নার ব্রাদার্সের ‘ব্ল্যাক অ্যাডাম’। তারও আগের সপ্তাহে মুক্তি পেয়েছে [১৪ অক্টোবর] ইউনিভার্সাল-এর ‘হ্যালোইন এন্ডস’। সিনেলিটিক জানিয়েছে, তারা নিশ্চিত ‘অ্যাভাটার : দ্য ওয়ে অব ওয়াটার’ ৬৫০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার আয় করবেই। ক্যামেরনের ছবিটির প্রথম কিস্তি আয় করেছিল ৭৭২ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। এ বছর এখন পর্যন্ত হলিউডের সবচেয়ে বেশি আয় করা ছবি ‘টপ গান ম্যাভেরিক’ ১.৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। সিনেলিটিক অগ্রিম জানিয়েছে, ‘ব্ল্যাক অ্যাডাম’ ও ‘ব্ল্যাক প্যান্থার : ওয়াকান্ডা ফরএভার’ আয় করবে যথাক্রমে ৩২৮ ও ৪২৩ মিলিয়ন ডলার, ‘হ্যালোইন এন্ডস’ ১৩০ মিলিয়ন ডলার। এই পূর্বাভাস বাস্তবে মিলে গেলে ২০১৯ সালের আয়ও ছাড়িয়ে যাবে হলিউড। বাস্তবে কী ঘটে সেটাই দেখার বিষয়।
