আজ রবিবার ‘উপজেলা দিবস’ পালন করছে জাতীয় পার্টি (জাপা)। ১৯৮২ সালে প্রয়াত রাষ্ট্রপতি ও জাপার প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ স্থানীয় সরকার অধ্যাদেশ, ১৯৮২-এর মাধ্যমে উপজেলা পরিষদ গঠন করেন। সেই থেকে দিবসটি পালন করছে জাপা।
এ বছর দিবসটি উপলক্ষে জাপার চেয়ারম্যান জিএম কাদের এবং জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও জাপার প্রধান পৃষ্ঠপোষক রওশন এরশাদের নেতৃত্বাধীন জাপার দুই অংশ আলাদা কর্মসূচি নিয়েছে। জিএম কাদেরের পক্ষে তার প্রেস সেক্রেটারি খন্দকার দেলোয়ার জালালী এবং রওশন এরশাদের পক্ষে তার প্রেস উইংয়ের দায়িত্বশীল কাজী লুৎফুল কবীর আলাদা কর্মসূচির তথ্য জানান।
কর্মসূচির মধ্যে রয়েছেÑদুপুর ১২টায় রাজধানীতে জাপা চেয়ারম্যানের বনানী কার্যালয়ে আয়োজিত আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করবেন জিএম কাদের। আলোচনায় অংশ নেবেন জাপা মহাসচিব মো. মুজিবুল হক চুন্নু এমপিসহ পার্টির শীর্ষ পর্যায়ের নেতারা। একইভাবে জাপার রওশনপন্থি নেতারা বেলা ১১টায় জাতীয় প্রেস ক্লাবের জহুর হোসেন হলে (২য় তলা) এক আলোচনা সভার আয়োজন করেছেন। এতে প্রধান অতিথি করা হয়েছে জাপার সাবেক প্রেসিডিয়াম সদস্য এবং রওশন এরশাদের ডাকা জাতীয় সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক অধ্যাপক দেলোয়ার হোসেন খানকে। সভায় সভাপতিত্ব করবেন জাপার সাবেক প্রেসিডিয়াম সদস্য এসএমএম আলম। সভায় জাতীয় সংসদে বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ ও জাপার সব পদ থেকে অব্যাহতি পাওয়া সাবেক প্রেসিডিয়াম সদস্য মসিউর রহমান রাঙ্গাও উপস্থিত থাকবেন বলে জানানো হয়েছে।
দিবসটি উপলক্ষে জিএম কাদেরের প্রেস সেক্রেটারি এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানান, শত বছরের ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক ব্যবস্থা ভেঙে গণমানুষের দোরগোড়ায় রাষ্ট্রীয় সেবা পৌঁছে দিতেই প্রয়াত চেয়ারম্যান এরশাদ উপজেলা পরিষদ ব্যবস্থা প্রবর্তন করে যুগান্তকারী ভূমিকা পালন করেন। ৪৬০টি উপজেলা পরিষদ গঠন করে মৌলিক অধিকার ও রাষ্ট্রীয় সেবা তৃণমূল মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে সমর্থ হয়েছিলেন তিনি। শহরের সব সেবা গ্রামীণ মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে প্রতিটি উপজেলায় হাসপাতাল, মুন্সেফ কোর্ট, পশুচিকিৎসা, কৃষি উন্নয়নসহ সব সেবা নিশ্চিত করেছিলেন। প্রতিটি উপজেলায় শিক্ষা ও ক্রীড়া উন্নয়নে নানামুখী পদক্ষেপ নেন।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, ৪২টি মহকুমাকে জেলায় পরিণত করেন এরশাদ। এতে বাংলাদেশের জেলার সংখ্যা হয় ৬৪। মেগা প্রকল্পের মাধ্যমে উপজেলা ও জেলা সদর দপ্তর নির্মাণ করেন। ১৯৮৮ থেকে ৯০ সালে সারা দেশে ৫৬৮টি গুচ্ছগ্রাম স্থাপন করে ২১ হাজার ছিন্নমূল ভূমিহীন পরিবারকে পুনর্বাসিত করেন। প্রতি ২ কিলোমিটার এলাকা বা ২ হাজার মানুষের বসবাস এলাকায় একটি করে প্রাথমিক বিদ্যালয় নির্মাণের কাজ শুরু করেন। পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত বিনামূল্যে পাঠ্যবই, খাতা ও পেনসিল বিতরণ শুরু করেন। চারটি শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা একই দিনে নেওয়া শুরু করেন।
