বাংলাদেশ বাদে সবারই আছে লেগ স্পিনার

আপডেট : ২৩ অক্টোবর ২০২২, ১১:০৮ পিএম

কার্তিক মায়াপ্পন নামটা অচেনাই ছিল। এবারের টি-টোয়েন্টি বিশ^কাপে হ্যাটট্রিক করে নিজেকে চিনিয়েছেন সংযুক্ত আরব আমিরাতের এ লেগ স্পিনার। টি-টোয়েন্টিতে লেগ স্পিনাররা হয়ে উঠেছেন অত্যন্ত কার্যকরী বোলার। মারমুখী হয়ে থাকা ব্যাটসম্যানদের আলাদা করে লোভ দেখাতে হয় না, নিজেরাই ধরা দেন লেগ স্পিনারের পাতা ফাঁদে। অথচ বাংলাদেশ দলে নেই কোনো লেগ স্পিনার, অদূর ভবিষ্যতে কাউকে দেখা যাবে সেই সম্ভাবনাও ক্ষীণ।

স্বাগতিক অস্ট্রেলিয়াকে দিয়েই শুরু করা যাক। ৬৮ ম্যাচে ৭৭ উইকেট এই লেগ স্পিনারের, ১৩ উইকেট নিয়ে আসরের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ উইকেটশিকারি। গড়ে ওভারপ্রতি রান দিয়েছেন সাতের কিছু কম, প্রতি ১৮ ডেলিভারিতে তুলে নেন একটি উইকেট। ক্রিকেটের দুই কুলীনের আরেক ইংল্যান্ডের লেগ স্পিনার আদিল রশিদের ৮৫ ম্যাচে উইকেটসংখ্যা ৮৯। নিউজিল্যান্ডের ইশ সোধি ৮০ ম্যাচে নিয়েছেন ১০২ উইকেট, ৭৬ ম্যাচে পাকিস্তানের শাদাব খানের উইকেট সংখ্যা ৮৬ আর ভারতের যুজবেন্দ্র চাহাল ৬৯ ম্যাচে নিয়েছেন ৮৫ উইকেট। পেস বোলিংয়েই ভরসা রাখা দক্ষিণ আফ্রিকার তাবরেজ শামসি বামহাতি আন অর্থোডক্স বোলার, তার গুগলিতে বিভ্রান্ত হন ব্যাটসম্যানরা। ৫৭ ম্যাচে ৬৯ উইকেট নেওয়া শামসি স্বীকৃত টি-টোয়েন্টি ম্যাচেও নিয়েছেন ২০০’র বেশি উইকেট। মাত্র দুটো আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি খেলা ইয়ানিক ক্যারিয়াহর ওপর আস্থা রেখেছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ দলও। নির্বাচক ডেসমন্ড হেইন্স তাকে দলে নেওয়ার ব্যাপারে বলেছেন, ‘আমরা তার খেলা দেখে বেশ খুশি, বিশেষ করে ‘এ’ দলের হয়ে সে যেভাবে খেলেছে। এরপর তাকে আমরা নিউজিল্যান্ডে একটা ৫০ ওভারের প্রতিযোগিতায় দেখি। ওর সম্বন্ধে একটা ব্যাপার অনেকেই জানে না যে সে যেমন বল করে তেমনি ভালো ব্যাটও করে।’ মাত্র ৪টা ওয়ানডে খেলা ক্যারিয়াহকে দলে নিতে মোটেও কুণ্ঠাবোধ করেননি ওয়েস্ট ইন্ডিজের নির্বাচকরা; কারণ তারা জানেন অস্ট্রেলিয়ার বড় মাঠগুলোতে মাঝের ওভারে উইকেট তুলে নেওয়ার জন্য লেগ স্পিনাররাই হতে পারেন তুরুপের তাস।

নিজ নিজ দলে, সত্যিকারের তুরুপের তাস হলেন ভানিন্দু হাসারাঙ্গা আর রশিদ খান। শ্রীলঙ্কা ও আফগানিস্তান দলের দুই ক্রিকেটার হলেন সেই বাজির ঘোড়া যার ওপর আস্থা রাখা যায় চোখ বন্ধ করে। ৭১ ম্যাচে ১১৮ উইকেট রশিদ খানের, তবে অঙ্ক আর সংখ্যাতত্ত্বের বাইরে যেটা স্রেফ অনুধাবন করা যায় সেটা হলো ম্যাচে তার প্রভাব। রশিদের ২৪টা বৈধ ডেলিভারিকে বাদ দিয়েই রান তোলার পথ খুঁজতে হয় প্রতিপক্ষকে। হাসারাঙ্গা ছিলেন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সবশেষ আসরে ১৬ উইকেট নিয়ে সর্বোচ্চ উইকেটশিকারি আর এশিয়া কাপে শ্রীলঙ্কার শিরোপা জয়ের পেছনে হাসারাঙ্গার ৯ উইকেটের অবদান কম নয়। জিম্বাবুয়ের রায়ান বার্লও লেগ স্পিনার হিসেবে কম যান না, ৪৭ ম্যাচে তারও আছে ৩২ উইকেট।

টেস্ট পরিবারের বাইরের যে দলগুলো বিশ্বকাপে খেলছে, সেই দলগুলোতেও আছে অন্তত একজন লেগ স্পিনার। আরব আমিরাতের মায়াপ্পনের কথা তো শুরুতেই বলা হয়েছে, নেদারল্যান্ডসে শারিজ আহমেদ, নামিবিয়ার ডিভান লা কক আর স্কটল্যান্ডে ক্রিস গ্রিভস আছেন। অথচ বাংলাদেশে একজনও নেই। এককালে আমিনুল ইসলাম বিপ্লবকে নিয়ে বেশ মাতামাতি হয়েছিল, এখন যেমন রিশাদ হোসেন দলের সঙ্গে ঘুরছেন নেট বোলার হিসেবে। কিন্তু দলে একজন লেগ স্পিনারকেও রাখেনি বাংলাদেশ।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত