চিনির বাজার তদারকির আহ্বান কেন্দ্রীয় ব্যাংকের

আপডেট : ২৩ অক্টোবর ২০২২, ১১:১৪ পিএম

বেশ কিছুদিন ধরে কোনো কারণ ছাড়াই চিনির দাম বাড়িয়ে দিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। ‘অসাধু’ ব্যবসায়ীদের ধরতে ইতিমধ্যে মাঠেও নেমেছে ভোক্তা সংরক্ষণ অধিদপ্তর, জরিমানাও করেছে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে। এবার খোদ ব্যাংক খাতের নিয়ন্ত্রক সংস্থা সংবাদ মাধ্যমে একটি বিজ্ঞপ্তি পাঠিয়ে জানিয়েছে, চিনির কোনো ঘাটতি নেই, পর্যাপ্ত আমদানি হয়েছে।

বাজার বিশ্লেষণে দেখা যায়, গত কয়েকদিন ধরে সংকটের কথা বলে সরকারের বেঁধে দেওয়া মূল্যের চেয়ে ১০ থেকে ১৫ টাকা বেশি দামে চিনি বিক্রি করছেন ব্যবসায়ীরা। রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন বাজার ও খুচরা দোকানে চিনি উধাও হয়ে যাওয়ারও খবর পাওয়া গেছে ইতিমধ্যে। তবে কেন্দ্রীয় ব্যাংক বলছে, চাহিদার বিপরীতে দেশে পর্যাপ্ত চিনি আমদানি করা হয়েছে। সংকট হওয়ার কোনো কারণ নেই।

গতকাল রবিবার কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পাঠানো বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গত বছরের তুলনায় এ বছর চিনি সরবরাহে কোনো ঘাটতি নেই। শিগগিরই আরও ১ লাখ টন চিনি আমদানি করা হচ্ছে। তদারকি করলে চিনির বাজার স্বাভাবিক হবে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২১ সালে দেশে ১৭ লাখ মেট্রিক টন চিনি আমদানি করা হয়েছিল। এ বছর প্রথম ৯ মাসে সাড়ে ১৬ লাখ মেট্রিক টন চিনি আমদানি করা হয়েছে। বর্তমানে দেশে বছরে চিনির চাহিদা ১৮ থেকে ২০ লাখ মেট্রিক টন। যার সিংহভাগই আমদানি করতে হয়।

এ বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র জি এম আবুল কালাম আজাদ গণমাধ্যমকে বলেন, সম্প্রতি দেশের বাজারে চিনির দাম বেড়েছে। সংকটের কারণে এ দাম বেড়েছে এমন কথা বলা হচ্ছে। এ তথ্য সঠিক নয়। ২০২১ সালে দেশে ১৭ লাখ মেট্রিক টন চিনি আমদানি হয়েছিল। এ বছর এখন পর্যন্ত সাড়ে ১৬ লাখ মেট্রিক টন চিনি আমদানি হয়েছে। শিগগিরই আরও এক লাখ মেট্রিক টন চিনি আমদানি হবে। তাই দেশে পর্যাপ্ত চিনি আমদানি হয়েছে। যদি সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো একটু বিশেষ তদারকি করে তাহলে চিনির দাম নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব।

ক্রেতারা বলছেন, জনগণকে জিম্মি করে ব্যবসায়ীরা খেলায় মেতেছেন। তারা সরকারের কোনো নিয়ম-নীতি মানছেন না। নিজেদের ইচ্ছেমতো দাম বাড়াচ্ছেন। আর ব্যবসায়ীদের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, বিদ্যুৎ ও গ্যাস সংকটের কারণে চিনির উৎপাদন কমেছে। যে কারণে বাজারে ঘাটতি দেখা দিয়েছে।

রাজধানীর কয়েকটি বাজার ঘুরে দেখা গেছে, রাজধানীর বেশির ভাগ দোকানে খোলা চিনি বিক্রি হচ্ছে ১১০ টাকা কেজিতে। এক সপ্তাহ কিংবা তিনদিন আগের কেনা চিনি কিছু কিছু দোকানে বিক্রি হচ্ছে ১০০ থেকে ১০৫ টাকা কেজিতে। বাজার ও দোকানগুলোতে প্যাকেটজাত চিনি পাওয়া যাচ্ছে না। এই দোকানগুলোতে এক সপ্তাহ আগেও চিনি বিক্রি হয়েছে ৯০-৯৫ টাকা কেজিতে। আর প্যাকেটজাত চিনি ছিল ৯৫ টাকা কেজি।

গত ৬ অক্টোবর সরকারের বাণিজ্য মন্ত্রণালয় খোলা চিনি ৯০ টাকা এবং প্যাকেটজাত চিনির দাম ৯৫ টাকা নির্ধারণ করে দেয়। কিন্তু তা বাস্তবে কার্যকর হয়নি। বরং এখন উল্টো দাম বাড়ছে। সরকারি তথ্য মতে, দেশে চাহিদার বড় একটি অংশ মেটানো হয় আমদানি করা চিনির মাধ্যমে। এই চিনি আমদানি হয় মূলত সিটি, মেঘনা, এস আলম, ইগলু ও দেশবন্ধু গ্রুপের মাধ্যমে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত