লিজ ট্রাসের পদত্যাগ ঘোষণার পর থেকেই ক্ষমতাসীন কনজারভেটিভদের পরবর্তী নেতা ও ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রিত্বের লড়াইয়ে এমপিদের সমর্থনের দিক থেকে এগিয়ে আছেন ঋষি সুনাক। সবাইকে ছাড়িয়ে এগিয়ে আছেন তিনি। তবে সুনাকের সঙ্গে তিক্ত সম্পর্কের জন্য পরিচিত সাবেক প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসনও হাল ছাড়ছেন না। যদিও এখন পর্যন্ত সুনাকের প্রায় অর্ধেক সমর্থন পেয়েছেন তিনি।
এ পরিস্থিতিতে নতুন প্রধানমন্ত্রী পদে মনোনয়নের সময়সীমা শেষ হয়ে আসতে থাকার মধ্যে বৈঠক করেছেন কনজারভেটিভ পার্টির (টোরি) এ দুই নেতা। স্থানীয় সময় শনিবার রাতে তারা এ বৈঠক করেন। ভিন্ন দুটি সূত্র বিবিসি-
কে একথা জানায়। যদিও সুনাক ও জনসনের মধ্যে কী আলোচনা হয়েছে তা জানা যায়নি। তাই এই বৈঠক নিয়ে নানা গুঞ্জন শুরু হয়েছে। সুনাক-জনসনের মধ্যে রাত ৮টা থেকে ১০টা পর্যন্ত বৈঠক হয়েছে বলে জানিয়েছে ‘দ্য সানডে টাইমস’। ‘দ্য সানডে টেলিগ্রাফ’ তাদের প্রতিবেদনে জানিয়েছে, কনজারভেটিভ পার্টিতে কোন্দল এড়াতে সুনাক ও জনসন বৈঠকে ক্ষমতা ভাগাভাগি নিয়ে সমঝোতায় পৌঁছেছেন। তবে ডেইলি মিরর বলছে, এমন কিছু হওয়ার সম্ভাবনা নেই।
বেঁধে দেওয়া নিয়ম অনুযায়ী, সোমবার যুক্তরাজ্যের স্থানীয় সময় দ্পুুর ২টার মধ্যে সম্ভাব্য একজন প্রধানমন্ত্রী প্রার্থীর অন্তত ১০০ জন টোরি এমপি সমর্থন পেতে হবে। ইতিমধ্যে ঋষি সুনাক প্রধানমন্ত্রী প্রার্থী হতে এমপিদের কাছ থেকে প্রয়োজনীয় সমর্থন জোগাড়ের জন্য বেঁধে দেওয়া সংখ্যাও পার করে ফেলেছেন। এরই মধ্যে পেয়ে গেছেন ১৩০ এমপির সমর্থন। সমর্থন নিশ্চিত হওয়ায় রবিবারই তিনি নির্বাচনে প্রার্থিতার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিয়েছেন। ওদিকে, জনসন ৫৫ এমপির সমর্থন পেয়ে উঠে এসেছেন দ্বিতীয় অবস্থানে। যদিও জনসন শিবির দাবি করছে তারা ১০০ এমপির সমর্থন পেয়ে গেছে, কেবল সে সমর্থন আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা হওয়াটাই বাকি।
এমপিদের সমর্থন জোগাড়ের জন্য সময় আছে সোমবার দুপুর পর্যন্ত। এর মধ্যে এমপিরা একজনকেই বেশি সমর্থন দিলে তিনিই সোমবার টোরি নেতা এবং প্রধানমন্ত্রী হয়ে যাবেন। আর তা না হলে অনলাইনে কনজারভেটিভ দলের সদস্যদের ভোট নেওয়া হবে। এরপর ফল ঘোষণা করা হবে শুক্রবার, অর্থাৎ সেদিন নতুন প্রধানমন্ত্রী পাবে ব্রিটেন। যাকে মন্থর অর্থনীতি ও সার্বিকভাবে টালমাটাল দেশটির হাল ধরতে হবে।
