বিনিয়োগকারীদের সমস্যা সমাধানে আশ্বাস বেজার

আপডেট : ২৪ অক্টোবর ২০২২, ০২:১১ এএম

অর্থনৈতিক অঞ্চলগুলোতে বিনিয়োগকারীদের যেকোনো সমস্যা সমাধানের আশ্বাস দিয়েছেন বেজার নির্বাহী চেয়ারম্যান শেখ ইউসুফ হারুন। তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব শিল্পনগরে গ্যাস, পানি ও বিদ্যুতের সরবরাহ নিশ্চিত করা হয়েছে। তারপরও কোনো বিনিয়োগকারীর কোনো ধরনের সমস্যা থাকলে তা বেজাকে জানানোর আহ্বান জানান তিনি।

গতকাল রবিবার ইকোনমিক রিপোর্টার্স ফোরাম (ইআরএফ) কার্যালয়ে সংগঠনের এক মতবিনিময় সভায় সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন বেজার নির্বাহী চেয়ারম্যান।

শেখ ইউসুফ হারুন বলেন, ‘অর্থনৈতিক অঞ্চলে বিনিয়োগকারীদের বিদ্যুৎ ও গ্যাস যথাসময়ে সরবরাহ করতে পারছি নাÑএমন অভিযোগ ঠিক নয়। আমরা তাদের অগ্রাধিকার দিয়ে বিদ্যুৎ ও গ্যাস দিচ্ছি। জ¦ালানি সংকটের কারণে বর্তমানে নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস ও বিদ্যুৎ সরবরাহ করা যাচ্ছে না। যার কারণে সাময়িকভাবে উৎপাদন কিছুটা ব্যাহত হচ্ছে।’ তবে এই সংকট অচিরেই কেটে যাবে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

বেজায় দায়িত্ব নেওয়ার পর বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে কোনো বৈঠক করেছেন কি না জানতে চাইলে নির্বাহী চেয়ারম্যান বলেন, ‘বেজায় বিনিয়োগকারীদের সংগঠনের সবার সঙ্গে আমি যোগ দেওয়ার পর বসেছি। তবে আমাদের যে বিনিয়োগকারী, তাদের সঙ্গে একবার নয়, একাধিকবার বসেছি এবং তাদের মতামতগুলো গুরুত্বের সঙ্গে নিয়েছি।’

প্রধানমন্ত্রীর উদ্বোধনের আগে বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে বসবেন কি না, এই প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, উদ্বোধনের আগে বিনিয়োগকারীদের নিয়ে বসা সম্ভব হবে না।

আগামী বুধবার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা অর্থনৈতিক অঞ্চলে ৫০টি শিল্প ও অবকাঠামোর উদ্বোধন করবেন।

সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বেজার চেয়ারম্যান বলেন, ‘পানিতে ভ্যাট নেওয়া হয় না। আমাদের পরিকল্পনা ছিল এখানে তিনভাবে পানি নিয়ে আসার। একই সঙ্গে ১০০টি টিউবওয়েল বসানোর পরিকল্পনাও ছিল, কিন্তু সমীক্ষা ও বাস্তবতার নিরীখে ব্যাহত হওয়ায় আমরা ২০টি বসাতে পেরেছি। এই ২০টি থেকে দৈনিক ১০ মিলিয়ন লিটার পানি পাচ্ছি।’

শেখ ইউসুফ হারুন বলেন, একটি বড় পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। ফেনী মাতামুহুরী যে সেচ প্রকল্প রয়েছে তার অতিরিক্ত পানি এখানে নিয়ে আসার পরিকল্পনা রয়েছে। প্রথম পর্যায়ে ৫০ মিলিয়ন লিটার এবং পরবর্তী পর্যায়ে আরও ৫০ মিলিয়ন লিটার এবং বিশ^ব্যাংকের আরেকটি প্রকল্পের অধীনে আরও ৩০ মিলিয়ন লিটারসহ এখান থেকেই ১৩০ মিলিয়ন লিটার পানি পাওয়া যাবে। এখান থেকেই ২০২৮ পর্যন্ত বর্ধিত চাহিদা পূরণ করা যাবে। তিনি বলেন, ‘সবচেয়ে আশার কথা, এশিয়া ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক (এডিবি) একটি স্টাডি করেছে ১৬২ কিলোমিটার একটি পানির গ্রিড লাইন তৈরি করবে, মেঘনা থেকে পানি আনার জন্য। এখান থেকে ২০৩০ সাল নাগাদ দৈনিক এক বিলিয়ন লিটার পানি আসবে।’

বেজার নির্বাহী চেয়ারম্যান বলেন, ২০১৯ সালের পর থেকে এ পর্যন্ত ৯৭টি অর্থনৈতিক অঞ্চলের অনুমোদন দিয়েছে সরকার। ১০টি অঞ্চল কার্যক্রম শুরু করেছে। এর মধ্যে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব শিল্পনগর, শ্রীহট্ট অর্থনৈতিক অঞ্চল, জামালপুর অর্থনৈতিক অঞ্চল, মহেশখালী অর্থনৈতিক অঞ্চল ও সাবরাং ট্যুরিজম পার্কে এখন পর্যন্ত প্রায় ২২ দশমিক ১৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের বিনিয়োগ প্রস্তাব পাওয়া গেছে। এখানে ৮ লাখ ১৬ হাজার কর্মসংস্থান হবে। এ থেকে আরও ২৮টি অঞ্চল ইতিমধ্যে কার্যক্রম পরিচালনার জন্য চলমান রয়েছে।

তিনি বলেন, ১২টি লাইসেন্সপ্রাপ্ত বেসরকারি অর্থনৈতিক অঞ্চলে ইতিমধ্যে প্রায় ৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বিনিয়োগ করা হয়েছে। সরকারি ও বেসরকারি অর্থনৈতিক অঞ্চলে ২৯টি শিল্পপ্রতিষ্ঠান বাণিজ্যিক শিল্পোৎপাদন শুরু করেছে এবং আরও ৬১টি শিল্প নির্মাণাধীন রয়েছে। এই অঞ্চলগুলোতে উল্লেখযোগ্য বিদেশি বিনিয়োগ হয়েছে জাপান, চীন, ভারত, অস্ট্রেলিয়া, নেদারল্যান্ডস, জার্মানি, আমেরিকা, যুক্তরাজ্য, সিঙ্গাপুর, দক্ষিণ কোরিয়া, নরওয়েসহ বিশে^র বিভিন্ন দেশ থেকে।

শেখ ইউসুফ হারুন আরও বলেন, ‘বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব শিল্পনগরে প্রথমবারের মতো উদ্বোধন হতে যাচ্ছে ৪টি শিল্পের বাণিজ্যিক কার্যক্রমÑ যার মধ্যে রয়েছে ভারতের এশিয়ান পেইন্টস, জাপানের নিপ্পন, বাংলাদেশ ম্যাকডোনাল্ড ও টিকে গ্রুপের সহযোগী প্রতিষ্ঠান সামুদা কনস্ট্রাকশন লিমিটেড। শ্রীহট্ট অর্থনৈতিক অঞ্চলেও প্রথমবারের মতো উদ্বোধন হতে যাচ্ছে একটি কারখানা ডাবল গ্লেজিং লিমিটেড। এ ছাড়া বিভিন্ন বেসরকারি অর্থনৈতিক অঞ্চলের আরও ৯টি শিল্প ইউনিটের বাণিজ্যিক উৎপাদন শুরু হতে যাচ্ছে, যার মধ্যে রয়েছে দেশের সর্ববৃহৎ পিভিসি কারখানা।

অনুষ্ঠানে উপস্থিতি ছিলেন বেজার মহাব্যবস্থাপক (প্রশাসন ও অর্থ) ও প্রকল্প পরিচালক মোহাম্মদ হাসান আরিফ, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব শিল্পনগরের প্রকল্প পরিচালক (পিডি) আবদুল্লাহ আল মাহমুদ ফারুক প্রমুখ।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত