দেশের উপকূলে আঘাত হেনেছে ঘূর্ণিঝড় সিত্রাং। ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে গত রবিবার (২৩ অক্টোবর) রাত থেকে রাজধানীতে শুরু হয়েছে বৃষ্টি। সময় যত গড়াতে থাকে বৃষ্টির মাত্রাও বাড়তে থাকে। বিকেল থেকে শুরু হয় মুষলধারায় বর্ষণ। বৃষ্টির কারণে দুর্ভোগে পড়েন নগরবাসী। বৃষ্টির পানি জমে নগরীর ও আশপাশের অনেক নিচু এলাকা তলিয়ে গেছে। অলিগলিসহ প্রধান সড়কগুলোতে জলাবদ্ধতার কারণে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে বাসিন্দাদের।
এদিকে, ঝড়বৃষ্টির কারণে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পরেছে কর্মজীবীরা। বৃষ্টির কারণে গণপরিবহন কম থাকায় কর্মস্থল থেকে বেরিয়ে অনেকেই বিপাকে পড়েছেন। বৃষ্টি মাথায় নিয়ে কর্মজীবীদের যানবাহনের জন্য অপেক্ষা করতে দেখা যায়। যারা রিকশা বা সিএনজি ব্যবহার করছেন, তাদের দুই থেকে তিনগুণ বেশি ভাড়া গুনতে হচ্ছে।
ঝড়ের কারণে বাংলামোটরে আটকে পড়া রকিবুল ইসলাম জানান, দুই ঘণ্টা ধরে বাসের জন্য অপেক্ষা করছি। মতিঝিলগামী যেসব বাস আসছে সবগুলোতে যাত্রী ঠাসা। পা ফেলার কোনো জায়গা নেই। কয়েকবার বৃষ্টিতে ভিজে গাড়িতে ওঠার চেষ্টা করেছি। কিন্তু যাত্রীদের চাপের কারণে উঠতে পারিনি।
সুমাইয়া নামের আরেক যাত্রী বলেন, অফিসে কাজ শেষে নামার পর দেখি ঝড়বৃষ্টি হচ্ছে। রাস্তায় বেশিরভাগ ব্যক্তিগত বাহন। মিরপুর যাবো বলে সিএনজি নেওয়ার চেষ্টা করি। কিন্তু তিন থেকে চারগুণ বেশি ভাড়া চাইছে।
বেশি ভাড়া দাবি করার কারণ জানতে চাইলে রহমান নামের একজন সিএনজি চালক বলেন, রাস্তায় গাড়ি নেই। সড়কে পানি জমে যাওয়ায় দ্রুত এগুতে পারে না। এতে জ্বালানি খরচ বেশি হয়। অনেক সময় ইঞ্জিনে পানি ঢুকে নষ্ট হয়ে যায়। সেটা তো আর যাত্রীরা দেবে না।
এদিকে ঝড়বৃষ্টির কারণে রাজধানীর বিভিন্ন জায়গায় তৈরি হয়েছে জলাবদ্ধতা। রাজধানীর কারওয়ান বাজার, গ্রীনরোড, মিরপুর , মোহাম্মদপুর, শ্যামলী, আগারগাঁও, রামপুরা, পল্টন, নিউমার্কেট, ধানমন্ডি, মালিবাগ, মৌচাক এলাকায় জলাবদ্ধতা তৈরি হয়। সড়কে পানি জমে যাওয়ায় অনেকে ঘরবন্দি হয়ে পরেন।
রাজধানীর ধানমন্ডির শঙ্করের বাসিন্ধা ফেরদৌস আহমেদ উজ্জ্বল দেশ রূপান্তরকে জানান, শঙ্কর থেকে একটু এগুলে নিরিবিলির গেট থেকে পাঠশালা গলি পর্যন্ত হাঁটু পানি। বাইরে বের হওয়ার কোন উপায় নেই। একটু বৃষ্টি হলে এসব এলাকায় জলাবদ্ধতা তৈরি হয়। বৃষ্টি যতদিন থাকে জলাবদ্ধতাও ততদিন থাকে।
রাজধানীর নিউমার্কেটের বাসিন্দা অর্নব সরকার দেশ রূপান্তরকে বলেন, সারাদিন ঘরবন্দি। এখনও দমকা হাওয়া, বৃষ্টি হচ্ছে। মাঝে মাঝে তা প্রবল আকার ধারণ করে। মার্কেট ফেরত বিক্রেতা, স্টাফরা ভিজে বাড়ি ফিরছে। রাস্তায় রিক্সা, অটোরিক্সা একেবার কম। রাস্তার কোথাও কোথাও বিশেষ করে নিউমার্কেট ১ নম্বর গেটের সামনে পানি জমে আছে।
ঝড়ের কারণে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় রাস্তার ওপর গাছপালা ভেঙে পড়েছে। ফলে তৈরি হয়েছে যানজট। এ অবস্থায় কর্মস্থল থেকে বাড়ির উদ্দেশ্যে বেরিয়ে অনেকেই বিপাকে পড়েন। রাস্তায় অপেক্ষা করতে হয়েছে ঘণ্টার পর ঘণ্টা।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ট্রাফিক সতর্কতা নিয়ে সবচেয়ে বড় গ্রুপ ট্রাফিক এলার্টে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকার ঝড়ের চিত্র তুলে ধরেছেন নেটিজনরা। মোস্তাফিজুর রহমান নামের একজন লিখেছেন, ইসিবি চত্বরে রাস্তায় গাছ পড়ে যাওয়ায় যানজট তৈরি হয়েছে। প্রায় ১ ঘণ্টা সময় লেগেছে রাস্তা পরিষ্কার করতে।
নাজমুল হুদা নামের আরেকজন লিখেছেন, বসুন্ধরা আবাসিক থেকে উত্তরা হাউজ বিল্ডিং পর্যন্ত সিএনজি ৫০০ টাকা ভাড়া চাচ্ছে। অথচ এটুকু পথ দেড়শ টাকা। অনেক রিকোয়েস্ট করে ৩০০ টাকায় রাজি করালাম।
আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, রাজধানীতে বৃষ্টির প্রবণতা আরও দুদিন থাকবে। বুধবার বৃষ্টির রেশ কিছুটা কমে আসবে। এ ছাড়াও আগামী ৪৮ ঘণ্টায় দেশের অধিকাংশ জায়গায় ভারি থেকে অতি ভারি বৃষ্টির হতে পারে বলেও জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।
তবে ঘূর্ণিঝড় সিত্রাংয়ের প্রভাবেই এই বৃষ্টি বলে জানিয়েছেন আবহাওয়াবিদরা। এ ব্যাপারে আবহাওয়াবিদ মো. আবদুল মান্নান বলেন, রংপুর বিভাগ বাদ দিয়ে সারা দেশেই বৃষ্টি হবে। বৃষ্টি হবে মঙ্গলবারও। পরদিন বুধবার বৃষ্টির রেশ কিছুটা কমে আসবে। কিছু কিছু জায়গা বৃষ্টিহীনও থাকতে পারে সেদিন।
