বৃষ্টি, বিশ্বকাপ আর দক্ষিণ আফ্রিকা এই তিনের যোগফল দুর্ভাগ্য। আর তা শুধু দক্ষিণ আফ্রিকার ওপরই ভর করে। ইতিহাসের অশেষ এই অঙ্ক কাল আবারও ফিরল হোবার্টে। একেবারে হাতের মুঠোয় থাকা ম্যাচ। কে বলবে প্রোটিয়ারা জিতছে না। বৃষ্টিবিঘিœত ম্যাচে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে জয়ের জন্য তাদের প্রয়োজন ৯ ওভারে ৮০। দুই দফায় ব্যাট করে ৩ ওভারেই ৫১ তুলে ফেলে প্রোটিয়ারা। অথচ এই ম্যাচ থেকে মাত্র ১ পয়েন্ট নিয়ে ফিরতে হলো তাদের। কে জানে শেষমেশ এই ১ পয়েন্ট হারানোটাই না তাদের কাল হয়।
কুইন্টন ডি কক যেভাবে শুরু করেছিলেন... আর একটু হলে তো টি-টোয়েন্টিতে দ্রুততম হাফসেঞ্চুরিই পেয়ে যেতেন। রান তাড়ায় নেমে প্রথম ওভারেই ডি কক নেন ২৩ রান। টেন্ডাই চাতারার ওভারে চারটি ৪ ও এক ৬ হাঁকান। পরের ওভারের প্রথম বল শেষে শুরু হয় বৃষ্টি। খেলা যখন শুরু হয় দক্ষিণ আফ্রিকার সামনে বৃষ্টি আইনের হিসাব শেষে লক্ষ্য দাঁড়ায় ৭ ওভারে ৬৪। এর মধ্যে ২৩ রান তো প্রথম ওভারেই (১.১ বল) এসেছে। মানে ৫.৫ ওভারে ৪১ রান চাই দক্ষিণ আফ্রিকার। গারাভার দ্বিতীয় ওভারে চারটি ৪ মেরে আরও ১৭ রান নেন ডি কক। ২ ওভারে প্রোটিয়াদের রান ৪০। তৃতীয় ওভারে সিকান্দার রাজাকে কোনো চার-ছক্কা মারতে না পারলেও ১১ রান নিয়ে নেন ডি কক ও বাভুমা। ৩ ওভারে তাদের রান তখন ৫১। ঠিক তখন আবারও ঝিরঝির বৃষ্টি শুরু। আম্পায়াররা চেষ্টা করেছিলেন খেলা চালিয়ে নিতে। কিন্তু জিম্বাবুয়ে ক্রিকেটারদের অভিযোগ ও বৃষ্টির পরিমাণ বাড়ায় খেলাটা থামাতেই হয়। মাত্র ১৮ বলে ৪৭ রানে অপরাজিত থাকেন ডি কক। বৃষ্টি না থামায় ম্যাচ হয় পরিত্যক্ত। বৃষ্টির সঙ্গে দক্ষিণ আফ্রিকার বন্ধুত্বে পয়েন্ট ভাগাভাগি করে নিল দুই দল। হারা ম্যাচ থেকে গুরুত্বপূর্ণ ১ পয়েন্ট পেল জিম্বাবুয়ে।
এর আগে জিম্বাবুয়ে ৯ ওভার হাতে নিয়ে ঝড়ো শুরু করতে গিয়ে বিপদে পড়ে। ১৯ রানে ৪ উইকেট হারাতে হয় দলটিকে। পরে ওয়েসলি মাধেভেরের ১৮ বলে ৩৫ ও সুম্বার ২০ বলে ১৮ রানে ৫ উইকেটে ৭৯ রান তোলে তারা।
দক্ষিণ আফ্রিকার সঙ্গে ১-এর এক অদ্ভুত মেলবন্ধন। যতবারই তারা ১-এর কবলে পড়েছে ততবারই কেঁদেছে। কালকের অমীমাংসিত ম্যাচ থেকে এলো ১ পয়েন্ট। ২০১৫ বিশ্বকাপ সেমিফাইনালে ১ বল হাতে রেখে তাদের হারিয়েছিল নিউজিল্যান্ড। ২০০৩ বিশ্বকাপে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ১ রান নিতে ব্যর্থ হওয়ায় বিশ্বকাপে থেমে যাওয়া। আর ১৯৯২-এ বৃষ্টি আইনের হিসাবে সেমিফাইনালে ১ বলে চাই ২২ রান। সব ম্যাচেই ছিল বৃষ্টির ছোঁয়া। আরও একটি দুর্ভাগা ম্যাচে বিশ্বকাপটা তাই নিজেদের (চোকার) মতোই শুরু হলো প্রোটিয়াদের।
