বাংলার বাঘ ও অবিভক্ত বাংলার প্রথম প্রধানমন্ত্রী শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হকের ১৫০তম জন্মদিন আজ বুধবার। ১৮৭৩ সালের এই দিনে ঝালকাঠির রাজাপুর উপজেলার সাতুরিয়া মিয়াবাড়ির মাতুলালয়ে জন্মগ্রহণ করেন অবিভক্ত বাংলার অবিসংবাদিত নেতা বাঙালি জাতীয়তাবাদের স্বপ্নদ্রষ্টা শেরে বাংলা। তার পুরো নাম আবুল কাশেম ফজলুল হক। তবে শের-ই-বাংলা (বাংলার বাঘ) এবং ‘হক সাহেব’ নামেই তিনি বেশি পরিচিত ছিলেন। সেই মহান মানুষটির জন্মদিন কবে তাও মনে রাখে না বরিশালের মানুষ। এমনকি তার জন্মস্থানেও তার জন্মদিনটি পালিত হয় না। বরিশালে শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হকের জন্মদিনটি উদযাপিত হয় না। যে মানুষটি বরিশাল বিভাগে জন্মগ্রহণ করেছেন সেই মানুষটি সম্পর্কে শিক্ষার্থী থেকে শুরু করে অনেকেরই নেই ধারণা।
শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হকের জন্মদিন, মৃত্যুবার্ষিকী, তার রাজনৈতিক জীবনী এবং দেশে তার অবদান সম্পর্কে জানতে চাইলে অনেক শিক্ষার্থী শেরে বাংলার নাম শুনেছে কিন্তু তার জীবনী পড়া হয়নি বলে জানায়।
প্রশ্ন করলে শিক্ষার্থীরা বলে, আমরা তার সম্পর্কে কিছুটা জানি, তিনি আমাদের দেশের গর্ব ছিলেন। তিনি অনেক প্রতিষ্ঠানে দান করেছেন। তার নামে অনেক প্রতিষ্ঠান রয়েছে কিন্তু আমরা বিস্তারিত জানি না।
সাকিবুল ইসলাম বরিশালের একটি বেসরকারি স্কুলের নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী। তার কাছে শেরে বাংলা সম্পর্কে জানতে চাইলে বলে, আমি তার সম্পর্কে কিছুই বলতে পারব না। ধারণা কম থাকায় আমি বলতে রাজি না।
জানতে চাইলে বরিশালের সচেতন নাগরিক কমিটি (সানাক) সভাপতি অধ্যাপিকা শাহ শাএজদা বলেন, কালের গর্বে অনেক কিছুই হারিয়ে গেছে। বর্তমানে শিক্ষার্থীরা পরীক্ষায় পাস করার জন্য যতটুকু পড়া দরকার ততটুকুই পড়ছে। তার মতো একজন মহান নেতার জন্মদিন হোক আর মৃত্যুবার্ষিকী হোক আমাদের বরিশালের রাজনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে স্মরণসভা করা উচিত বলে আমি মনে করি। আর বরিশালে তার নামে কোনো শক্ত সংগঠন নেই।
এদিকে বরিশালের বানারীপাড়া উপজেলার চাখারে এই মহান নেতার নামে শের-ই-বাংলা স্মৃতি জাদুঘর রয়েছে। সেই জাদুঘরটিও চলছে খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে। শের-ই-বাংলার চাখারের প্রাণকেন্দ্রে ১৯৮২ সালে সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের অধীন প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের তত্ত্বাবধানে ২৭ শতক জমির ওপর ‘শের-ই-বাংলা স্মৃতি জাদুঘর’ নির্মাণসহ আনুষঙ্গিক কাজ শুরু করা হয়।
আয়তকারাকৃতি ভূমি পরিকল্পনায় ৪৩ মিটার দীর্ঘ ও ১৪ দশমিক ৬০ মিটার প্রস্থবিশিষ্ট এ জাদুঘরটি নির্মাণ করা হয়। জাদুঘরের এ জমিটি শের-ই-বাংলার নিজস্ব বসতভিটার অংশ। জাদুঘর লাগোয়া দক্ষিণ পশ্চিম পাশে শের-ই-বাংলার বিশ্রামাগার ও ফজলুল হক ইনস্টিটিউশন, পূর্ব পাশে মসজিদ, পারিবারিক কবরস্থান, পেছনে উত্তর প্রান্তে বসতভিটা এবং এর অদূরে ১৯৪০ সালে তার প্রতিষ্ঠিত সরকারি ফজলুল হক কলেজ রয়েছে।
১৯৮৩ সালে প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের তত্ত্বাবধানে এ জাদুঘরটি চালুসহ জনবল নিয়োগ করা হয়। এখানে বর্তমানে সাতজন কর্মচারী রয়েছেন। জাদুঘরের ভেতরে মোট পাঁচটি কক্ষ রয়েছে। পশ্চিম প্রান্তের কক্ষটি সহকারী কাস্টোডিয়ানের কার্যালয় হিসেবে ব্যবহার হয়। জাদুঘরে রয়েছে তিনটি ডিসপ্লে রুম, একটি অফিস ও লাইব্রেরি রুম এবং একটি ডরমেটরি। ঢুকেই হাতের বাঁদিকে শেরে বাংলার একটি বিশাল প্রতিকৃতিতে তার জীবনকর্মের সংক্ষিপ্ত ইতিহাস, সামাজিক-রাজনৈতিক, পারিবারিক ছবি, পত্রপত্রিকায় প্রকাশিত শেরে বাংলার বিভিন্ন কর্মকা-ের ছবি।
স্থানীয়রা বলেন, পার্কে যত মানুষের ভিড় হয় এখানে তেমন ভিড় হয় না। প্রতিদিন গড়ে ১০ থেকে ১৫ জন মানুষ আসে। দূর-দূরান্ত থেকে মানুষ বেশি আসে। আমাদের বরিশাল বিভাগের মানুষ আসে কম। স্থানীয় শিক্ষার্থীরা খুবই কম যায় সেখানে।
তারা বলেন, পাকিস্তান থেকে বাদ হওয়ার জন্য বাংলার ম্যাপ করেছিলেন শেরে বাংলা, যার বাস্তব রূপ দিয়েছেন জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। তাদের দাবি শেরে বাংলার স্মৃতি রক্ষায় জাদুঘরটি যেন আরও বেশি তথ্যবহুল করে তোলা হয়। এছাড়া এখানে শেরে বাংলার নামে বিশ্ববিদ্যালয় এবং একটি গবেষণা কেন্দ্র স্থাপনের দাবি জানান।
