শিশুকে ধর্ষণের পর হত্যা করে নালায় ফেলে লাশ

আপডেট : ২৯ অক্টোবর ২০২২, ০১:৪৮ এএম

গলি দিয়ে যাওয়ার সময় সাত বছরের শিশু বর্ষাকে টাকা দেওয়ার কথা বলে ফুসলিয়ে দোকানের ভেতরে গোডাউনে নিয়ে যায় মুদি দোকানি লক্ষণ দাশ (৩০)। এরপর সেখানে মুখ চেপে ধরে ধর্ষণ করে। এতে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ দেখে গলা টিপে হত্যা করে বস্তা ভরে লাশ নালায় ফেলে দেয়। পরে তার পরনের কাপড়চোপড় ও স্যান্ডেল ফেলে দেওয়া হয় একই নালায়।

চট্টগ্রাম নগরীর জামালখান এলাকায় শিশু মারজানা হক বর্ষা হত্যা মামলায় গ্রেপ্তারের পর  লক্ষণ দাশ এমন তথ্য দিয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। তার বাড়ি লোহাগাড়া উপজেলার উত্তর পদুয়া এলাকায়। নগরীর জামালখান এলাকায় সিকদার হোটেলের পেছনের গলিতে শ্যামল স্টোর নামে একটি দোকান চালায় সে।

জামালখান সিকদার হোটেলের পেছনে নালায় শিশু বর্ষার বস্তাবন্দি লাশ উদ্ধারের পর গত বৃহস্পতিবার রাতে আটক করা হয় লক্ষণ দাশকে। রাতে কোতোয়ালি থানায় নিয়ে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ করা হয় তাকে। প্রথমে ঘটনার কথা স্বীকার না করলেও জিজ্ঞাসাবাদের এক পর্যায়ে ধর্ষণ, হত্যা ও বস্তা ভরে লাশ ফেলে দেওয়ার কথা স্বীকার করে সে।

লক্ষণ দাশ জিজ্ঞাসাবাদে পুলিশকে জানিয়েছে, গত সোমবার বিকেলে দোকান থেকে চিপস কিনে বাসায় ফেরার সময় শিশু বর্ষাকে একশ টাকা দেওয়ার লোভ দেখিয়ে ফুসলিয়ে দোকানের ভেতর গোডাউনে নিয়ে যায় লক্ষণ। এরপর সেখানে মুখ চেপে ধরে তাকে ধর্ষণ করে। ধর্ষণের পর অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ হচ্ছে দেখে ভয়ে গলাটিপে তাকে হত্যা করে। পরে গোডাউনে থাকা বস্তায় লাশ ভরে পাশের নালায় ফেলে দেয়।

সিএমপির অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার (দক্ষিণ) নোবেল চাকমা দেশ রূপান্তরকে বলেন, শিশু বর্ষার লাশ উদ্ধারের পর আমরা সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা ও লাশভর্তি বস্তা পরীক্ষা করে সন্দেহজনকভাবে শ্যামল স্টোর থেকে লক্ষণ দাশকে আটক করি। রাতে জিজ্ঞাসাবাদে সে ঘটনার কথা স্বীকার করে এবং আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেওয়ার ইচ্ছা ব্যক্ত করে। শুক্রবার তাকে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি গ্রহণের আবেদনসহ আদালতে পাঠানো হয়েছে।

নোবেল চাকমা আরও জানান, মূলত বর্ষার লাশভর্তি বস্তাই আমাদের লক্ষণ দাশ পর্যন্ত নিয়ে যায়। লাশ উদ্ধারের পর বস্তার গায়ে টিসিবির সিল দেখা যায়। এরপর টিসিবির সিলযুক্ত বস্তার খোঁজে আশপাশের দোকানের গোডাউনে তল্লাশি চালানো হয়। একপর্যায়ে শ্যামল স্টোরের গোডাউনে একই ধরনের একটি বস্তা পাওয়া যায়। পরে আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ পরীক্ষা করে ও স্থানীয় লোকজনের কাছ থেকে তথ্য নিয়ে ওই দোকান থেকে লক্ষণ দাশকে আটক করা হয়।

আদালত সূত্র জানায়, স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি গ্রহণের জন্য লক্ষণ দাশকে মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট সাদ্দাম হোসেনের আদালতে নেওয়া হয়েছে। গতকাল সন্ধ্যা ৬টায় এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত জবানবন্দি গ্রহণ চলছিল বলে সূত্র জানায়।

প্রসঙ্গত, সাত বছর বয়সী শিশু মারজানা হক বর্ষা কুসুমকুমারী বালিক উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রথম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। তাদের গ্রামের বাড়ি চাঁদপুর জেলার শাহরাস্তি উপজেলায়। তার পিতার নাম আবদুল হক। নগরীর জামালখান সিকদার হোটেলের পেছনে একটি বিল্ডিংয়ে ভাড়ায় থাকত তাদের পরিবার। গত সোমবার বাসা থেকে চিপস কেনার জন্য বের হওয়ার পর আর ঘরে ফেরেনি সে। পরিবারের সদস্যরা তাকে আশপাশের বিভিন্ন জায়গায় খোঁজ করে না পাওয়ায় এলাকায় মাইকিং করে। পরদিন এ ব্যাপারে কোতোয়ালি থানায় একটি জিডি করা হয়। বৃহস্পতিবার বিকেলে সিকদার হোটেলের পেছনের নালা থেকে তার বস্তাবন্দি লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত