ঢাকায় কেনেডি পরিবারের সদস্যরা

আপডেট : ৩০ অক্টোবর ২০২২, ০২:০১ এএম

সপরিবারে ঢাকা সফরে এসেছেন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রয়াত সিনেটর অ্যাডওয়ার্ড এম কেনেডির ছেলে ও যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট জন এফ কেনেডির ভাতিজা অ্যাডওয়ার্ড এম কেনেডি জুনিয়রসহ তাদের পরিবারের সদস্যরা। বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের কূটনৈতিক সম্পর্কের ৫০ বছরপূর্তি উপলক্ষে আট দিনের সফরে তারা দেশের বেশ কয়েকটি স্থান পরিদর্শন করবেন।

গতকাল শনিবার কেনেডি পরিবারের সদস্যরা ঢাকায় পৌঁছেছেন বলে নিশ্চিত করেছেন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বশীল কর্মকর্তা। এর আগে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস জানায়, ২৯ অক্টোবর থেকে ৫ নভেম্বর কেনেডি পরিবারের সদস্যরা ঢাকা সফর করবেন। এম কেনেডি জুনিয়রের সফরসঙ্গী হিসেবে রয়েছেন তার স্ত্রী ড. ক্যাথরিন কিকি কেনেডি, মেয়ে ড. কাইলি কেনেডি, ছেলে টেডি কেনেডি, ভাতিজি গ্রেস কেনেডি অ্যালেন এবং ভাতিজা ম্যাক্স অ্যালেন।

বাংলাদেশ সফরে এম কেনেডি জুনিয়র প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন। যুদ্ধবন্ধু কেনেডি পরিবারের সম্মানে পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন একটি ভোজের আয়োজন করবেন, তারা সেই অনুষ্ঠানে অংশ নেবেন। এছাড়া নাগরিক সমাজের প্রতিনিধি, মার্কিন সরকারের অর্থায়নে পরিচালিত শিক্ষা বিনিময় কার্যক্রমে অংশগ্রহণকারী সাবেক শিক্ষার্থীদের সঙ্গে মতবিনিময় করবেন তারা।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের স্পিকারস প্রোগ্রামের পৃষ্ঠপোষকতায় জুনিয়র অ্যাডওয়ার্ড ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে একটি বক্তৃতা দেবেন। সেখানে বাংলাদেশের স্বাধীনতার লড়াইয়ের একজন সমর্থক হিসেবে তার পিতার ভূমিকার কথা তুলে ধরবেন। সেই সঙ্গে বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের বন্ধুত্বের নিদর্শন স্বরূপ সাবেক সিনেটর অ্যাডওয়ার্ড কেনেডির রোপণ করা বটগাছটিও পরিদর্শন করবেন তিনি। প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের নাগরিক অধিকার নিয়ে কাজ করা এ আইনজীবী ঢাকার অ্যাডওয়ার্ড এম কেনেডি সেন্টার ফর পাবলিক সার্ভিস অ্যান্ড দ্য আর্টসে প্রতিবন্ধী অধিকারের ওপরও একটি বক্তৃতা দেবেন। বেশ কয়েকটি সাংস্কৃতিক কেন্দ্র পরিদর্শন করবেন কেনেডি পরিবারের সদস্যরা।

১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে প্রেসিডেন্ট রিচার্ড নিক্সন ও তার জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা  হেনরি কিসিঞ্জার পাকিস্তানকে মদদ দেন। তবে বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের  জোরালো সমর্থন ছিল সিনেটর টেড কেনেডি হিসেবে পরিচিত অ্যাডওয়ার্ড এম  কেনেডির। তিনি মুক্তিযুদ্ধের সময় ভারতের পশ্চিমবঙ্গ ও ত্রিপুরা রাজ্য সফরে বাংলাদেশের শরণার্থীদের সঙ্গে কথা বলে পাকিস্তানি বাহিনী যে সাম্প্রতিক মানব ইতিহাসের ভয়াবহ নৃশংসতা চালিয়েছিল, সে সম্পর্কে অবহিত হয়েছিলেন।

পরে যুক্তরাষ্ট্রে ফিরে মার্কিন সিনেটে ‘দক্ষিণ এশিয়ার সংকট’ শীর্ষক একটি প্রতিবেদন জমা দিয়েছিলেন। ওই প্রতিবেদনে তিনি বলেছিলেন, পাকিস্তানি বাহিনী আধুনিক ইতিহাসের সবচেয়ে ভয়ংকর মানবিক দুর্ভোগ সৃষ্টি করেছে। পাকিস্তানি বাহিনী ২৫ মার্চ রাতে পরিকল্পিতভাবে চরম আতঙ্কের বিস্তার ঘটিয়েছিল এবং গণহত্যা চালিয়েছিল, যার প্রমাণ পাওয়া যায়। বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার দুই মাস পরই ১৯৭২ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে সিনেটর অ্যাডওয়ার্ড এম কেনেডি বাংলাদেশ সফরে এসেছিলেন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত