চোকার্স তকমাটা নিজেদের গায়ে থেকে কখনো ঝেড়ে ফেলতে পারেনি দক্ষিণ আফ্রিকা। হাজার ছন্দে থাকলেও একটা কারণেই বিশ্বকাপের মঞ্চে কখনো কোনো ম্যাচে তাদের শক্ত ফেভারিট বলার সাহস দেখায় না কেউ। বাংলাদেশকে রীতিমতো গুঁড়িয়ে আজ যখন ভারতের সামনে দলটি, তখনো বাজির দরটা তাই রোহিত শর্মাদের দিকেই বেশি হওয়া স্বাভাবিক। সাম্প্রতিক পরিসংখ্যানে দুদলের মুখোমুখি লড়াই বা বিশ্বকাপের রেকর্ড, সব জায়গায়ও প্রাধান্য ভারতের। এরপরও বাংলাদেশের বিপক্ষে ব্যাটিং ও বোলিংয়ের শক্তি দেখানোর আত্মবিশ্বাসটা পার্থে ধরে রাখতে মরিয়া দক্ষিণ আফ্রিকা।
বাংলাদেশ সময় বিকেল ৫টায় শুরু হবে ম্যাচ। আবহাওয়ার পূর্বাভাসে পার্থের সন্ধ্যা মেঘলা থাকবে বলা হলেও বৃষ্টির সম্ভাবনা নেই। এখন দক্ষিণ আফ্রিকা যদি চোকার্স তকমার সার্থকতা প্রমাণ না করে, তাহলে দারুণ উপভোগ্য একটা ম্যাচই হওয়ার কথা।
চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী পাকিস্তানকে হারিয়ে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সুপার টুয়েলভ পর্ব শুরু করা ভারত পরের ম্যাচে হারায় নেদারল্যান্ডসকে। তাতে পূর্ণ চার পয়েন্ট নিয়ে গ্রুপ-২ এর শীর্ষে তারা। দক্ষিণ আফ্রিকার আসর শুরু হয়েছিল বৃষ্টিতে ম্যাচ ভেসে যাওয়ার হতাশায়। জয়ের পথে থাকলেও হোবার্টের ম্যাচটিতে জিম্বাবুয়ের সঙ্গে ভাগ করতে হয়েছিল পয়েন্ট। তবে এরপর বাংলাদেশের বিপক্ষে দুইশ ছাড়ানো পুঁজি গড়ে ১০৪ রানে ম্যাচ জিতে নেয় দলটি। তিন পয়েন্ট নিয়ে তাতে টেবিলের দুইয়ে অবস্থান টেম্বা বাভুমার দলের। ভারতের বিপক্ষে জয়ের ধারা ধরে রাখতে পারলে যারা উঠে যাবে টেবিলের শীর্ষে। সেক্ষেত্রে ভারতকে প্রথম হারের স্বাদ নিয়ে নামতে হবে দুইয়ে।
কাজটা অবশ্যই সহজ হবে না প্রোটিয়াদের জন্য। যদিও নিউজিল্যান্ডের পর আসরে দুইশ ছাড়ানো একমাত্র দল তারা। আসরের প্রথম সেঞ্চুরিটাও এসেছে তাদের টপঅর্ডারের রাইলি রুশোর ব্যাট থেকে। কুইন্টন ডি ককও দেখিয়েছেন নিজের কার্যকারিতা। দারুণ পেস আক্রমণের সঙ্গে আছে মহারাজ-তাবরেজের স্পিন বৈচিত্র্য।
কিন্তু পরিসংখ্যান বলছে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ভারতের বিপক্ষে পাঁচ বারের দেখায় মাত্র একবারই জিততে পেরেছে দক্ষিণ আফ্রিকা। সেটাও সেই ২০০৯ সালে। ২০১৪ সালে মিরপুরে মুখোমুখি হওয়ার পর আর এই মঞ্চে দেখা হয়নি তাদের। সবমিলে যে ২৩বার দেখা দুই দলের, সেখানেও ভারত এগিয়ে ১৩-৯ ব্যবধানে (একটি ম্যাচ পরিত্যক্ত হয়)। অস্ট্রেলিয়ায় পাড়ি দেওয়ার আগে টি-টোয়েন্টি সিরিজ খেলেছে দুই দল। নিজেদের মাটিতে হওয়া তিন ম্যাচের সেই সিরিজেও ২-১ ব্যবধানে জয় ভারতের। এছাড়া বিরাট কোহলির ফর্মও বিশ্বকাপে ভারতকে যে কোনো দলের থেকে এগিয়ে রাখছে। পাকিস্তানের বিপক্ষে ম্যাচজয়ী ৮২ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলার পর নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষেও করেন অপরাজিত ৬২ রান।
তবে ম্যাচপূর্ব সংবাদ সম্মেলনে প্রোটিয়া পেসার আনরিক নরকিয়া বেশ আত্মবিশ্বাসের সুরে কথা বলেছেন। ভারতের জয়ের ধারায় বাধ দিতে চান তারা, ‘আমরা নিজেদের ওপর আস্থা রাখছি। নিজেদের আমরা সেরা বোলিং আক্রমণগুলোর একটি হিসেবে দেখছি। আমাদের বোলিং বিভাগে দারুণ বৈচিত্র্য আছে। তাই আমরা এই বিভাগে নিজেদের ওপর ভরসা রাখি। আমি নিশ্চিত ছেলেরা আগামীকালের ম্যাচের জন্য মুখিয়ে আছে।’
টানা দুই জয়ে আসর শুরু করা ভারতের অস্বস্তি আপাতত লোকেশ রাহুলের ফর্ম। পাকিস্তান ও নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে রান না পাওয়াতে (৪ ও ৯) সমালোচনা হচ্ছে তার। ঋষভ পান্তকে দিয়ে ওপেন করানো যায় কি না আছে এই আলোচনাও। তবে সেই সম্ভাবনা নাচক করে দিয়েছেন ভারতের ব্যাটিং কোচ বিক্রম রাঠোর, ‘আমরা এমন কিছু ভাবছি না। এটা ঠিক হবে বলেও মনে হয় না। অনুশীলন ম্যাচে খুব ভালো খেলেছে রাহুল। দুই ইনিংসে রান পায়নি বলে বসিয়ে দেওয়া উচিত নয়। আমরা বদলের কথা ভাবছি না।’
দক্ষিণ আফ্রিকা বাধা পেরিয়ে যেতে পারলে ২০০৭ আসরের চ্যাম্পিয়ন ভারতের সেমির পথটা সহজ হয়ে যাবে। বাকি দুই ম্যাচে তাদের প্রতিপক্ষ তুলনায় সহজই বলা চলে বাংলাদেশ ও জিম্বাবুয়ে। দক্ষিণ আফ্রিকার আবার পাকিস্তানের মতো বড় প্রতিপক্ষ আছে সামনে। সেই ম্যাচের আগে ভারতের বিপক্ষে জয় তাদের এগিয়ে চলার বড় টনিক হতে পারে।
