যে নিয়মের জন্য দুবার জিতল বাংলাদেশ

আপডেট : ৩০ অক্টোবর ২০২২, ১১:২০ পিএম

ততক্ষণে সবাই বাউন্ডারি দড়ির বাইরে। করমর্দন শেষ। বাংলাদেশ দলের বিশ্বকাপে দ্বিতীয় ম্যাচ জেতার বিজয়োল্লাসও শেষ। পিচের আলগা ধুলা ও ঘাস মুছতে মেশিন নিয়ে মাঠকর্মী গ্যাবার পিচের কাছে। ঠিক তখনই মাঠের বিগ স্ক্রিনে দেখাল ব্লেসিং মুজারাবানি ‘নট আউট’। অথচ ড্রেসিংরুমে গিয়ে প্যাডও খুলে ফেলেছেন তিনি। মোসাদ্দেক হোসেনের বলে নুরুল হাসান সোহানের করা স্ট্যাম্পিং ছিল নিয়ম বিরুদ্ধ। তাই নো বলে এবং ওভারের শেষ বলটি আবার করতে হবে মোসাদ্দেককে। আসলে স্ট্যাম্পিং করার সময় স্ট্যাম্প লাইনের আগে হাত চলে যায় সোহানের। আইসিসি নিয়ম অনুযায়ী উইকেটকিপার এমনটা করতে পারেন না। তাই আবারও সবাইকে মাঠে ফিরতে হয়। ভাগ্য ভালো ফ্রি হিট মিস করেন মুজারাবানি। আর দ্বিতীয়বার জিতে যায় বাংলাদেশ।

আইসিসি নিয়মের ২৭.৩.১ ধারায় বলা আছে উইকেটরক্ষক কোনোভাবেই স্ট্যাম্পের আগে হাত বাড়িয়ে বল ধরতে পারবেন না। ব্যাটার যদি বল খেলে ফেলেন কেবল তখনই এই চেষ্টা চালাতে পারবেন কিপার। কিন্তু ব্যাটার বল মিস করলে বা স্ট্যাম্পিং করতে বল ধরার জন্য কোনোভাবেই স্ট্যাম্পের আগে গ্লাভসের কোনো অংশ থাকতে পারবে না। কাল জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে শেষ বলে স্ট্যাম্পিং করেই বাংলাদেশ দল জয়োল্লাস শুরু করে। তবে আম্পায়ারদের সন্দেহ হওয়ায় তারা টিভি আম্পায়ারের শরণাপন্ন হন।

রিপ্লে দেখে টিভি আম্পায়ার নটআউটের সিদ্ধান্ত দেন। তাই মাঠে থাকা সবাইকে আবারও মাঠে ফিরতে হয়। কাল নিয়মের আরেক দিকও দেখা গেল। আউট হয়ে বা টিভি আম্পায়ারের সিদ্ধান্ত হওয়ার আগে কোনো ব্যাটার বাউন্ডারি লাইন ক্রস করে ফেললে তার আর মাঠে প্রবেশের সুযোগ নেই। কিন্তু এদিন দুই ব্যাটারই মাঠের বাইরে গিয়ে আবার ফিরলেন। মুজারাবানি তো ফিরেছেন ড্রেসিংরুম থেকে।

সোহানের গ্লাভস এগিয়ে আসা বাদ দিলে স্ট্যাম্পিংটা ছিল স্পষ্ট। তাই দুই দলই হার-জিত মেনে নেয়। বড় পর্দায় নট আউট লেখা ওঠার পর দুই দলের ক্রিকেটাররাই বিস্মিত হন। বিশেষ করে বাংলাদেশ দলের সবাই। জিম্বাবুয়ের জন্যও কম বিস্ময়ের ছিল না। দলটির অধিনায়ক শন উইলিয়ামস বলেন, ‘ক্রিকেট ম্যাচে আমি কখনই এমন কিছু দেখিনি। কিন্তু এটা টি-টোয়েন্টি, যে কোনো কিছুই হতে পারে।’

ইতিহাসে একেবারেই এমন কিছু যে হয়নি তা না। তবে ঠিক বাংলাদেশ-জিম্বাবুয়ে ম্যাচের মতো নয়। গত জুলাইয়ে ইংল্যান্ডের টি-টোয়েন্টি ব্লাস্ট ফাইনালে হয়েছিল এমন কা-। শেষ বলে ল্যাঙ্কাশায়ারের চাই ৫ রান। ২০তম ওভারের শেষ বলে নাথান এলিস গ্লিসনকে বোল্ড করলেও তা হয় নো বল। ততক্ষণে এক রান নিয়ে ফেলেছে ল্যাঙ্গাশায়ারের দুই দল। নো বল থেকে আসে ১ রান। পরে ফ্রি হিট বলে হয় আরও ১ রান। শেষ পর্যন্ত ১ রানে জিতে শিরোপা নিজেদের করে হ্যাম্পশায়ার।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত