স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বললেন

বিশ্ব শান্তিরক্ষায় অবদান রাখছে বাংলাদেশ পুলিশ

আপডেট : ৩১ অক্টোবর ২০২২, ০৭:০২ এএম

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান বলেন, বাংলাদেশ পুলিশ বিশ্বের যুদ্ধবিধ্বস্ত ও সংঘাতপূর্ণ বিভিন্ন দেশে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে আন্তরিকতা, নিষ্ঠা ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে বিশ^ শান্তিরক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে।

জাতিসংঘের ডিপার্টমেন্ট অব পিস অপারেশনসের পুলিশ ডিভিশন এবং বাংলাদেশ পুলিশের যৌথ উদ্যোগে ঢাকায় অনুষ্ঠিত হয়েছে ইউনাইটেড নেশনস পুলিশ ডে-২০২২। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান প্রধান অতিথি হিসেবে গতকাল সকালে রাজধানীর একটি হোটেলে ‘ইউএনপোল ডে’ উদ্বোধন করেন।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের সিনিয়র সচিব মো. আখতার হোসেন, পুলিশের মহাপরিদর্শক চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন জাতিসংঘের পুলিশ ডিভিশনের ভারপ্রাপ্ত পুলিশ অ্যাডভাইজার কমিশনার জুন টান, জাতিসংঘ সদর দপ্তরের ইন্টিগ্রেটেড ট্রেনিং সার্ভিসের প্রধান মার্ক পেডারসেন, আইএপিটিসির নির্বাহী কমিটির পুলিশ চেয়ার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল জিওভানি বারবানো, অতিরিক্ত আইজিপি মো. আতিকুল ইসলাম অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন।

অনুষ্ঠানে পুলিশ ডিভিশন ও ইন্টিগ্রেটেড ট্রেনিং সার্ভিসের প্রতিনিধি, বাংলাদেশ পুলিশের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা, প্রশিক্ষক এবং শান্তিরক্ষা মিশনগামী কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

শান্তিরক্ষা মিশনে নারী পুলিশ প্রেরণে বাংলাদেশ বর্তমানে শীর্ষ অবদানকারী দেশ উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের নারী শান্তিরক্ষীরা জেন্ডারভিত্তিক সহিংসতা, সংঘাত এবং সংঘর্ষ কমাতে, বিশেষ করে নারী ও শিশুর নিরাপত্তা প্রদানে মূল চালিকা শক্তি হিসেবে কাজ করছে।’

মন্ত্রী বলেন, ‘বর্তমানে বাংলাদেশ পুলিশের ৫০০ সদস্য জাতিসংঘ পুলিশ হিসেবে বিশ্বের বিভিন্ন শান্তিরক্ষা মিশনে পেশাদারির সঙ্গে দায়িত্ব পালনের মাধ্যমে বিশ^বাসীর ব্যাপক প্রশংসা অর্জন করেছেন। তাদের অনন্য অবদানের জন্য বাংলাদেশের সম্মান ও মর্যাদা বেড়েছে।’

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আশা প্রকাশ করে বলেন, বাংলাদেশ পুলিশ থেকে আরও বেশিসংখ্যক সদস্য জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে মোতায়েন করা হলে তারা বিশ^সম্প্রদায়ের সেবায় দক্ষতার পরিচয় দিতে সক্ষম হবেন।

সিনিয়র সচিব মো. আখতার হোসেন বলেন, বিশ্বের বিভিন্ন দেশে নিরাপত্তা ও শান্তিরক্ষায় বাংলাদেশ পুলিশ অনন্য ভূমিকা রাখছে। আমাদের নারী পুলিশ সদস্যরা এফপিইউ মিশনে অসাধারণ সাফল্য প্রদর্শন করছেন।

ইন্সপেক্টর জেনারেল অব পুলিশ, বাংলাদেশ চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন বলেন, আমাদের স্বাধীনতার মহান স্থপতি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিশে^ শান্তি ও সহযোগিতা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে বিশ^বাসীর সঙ্গে একাত্ম হওয়ার আকাক্সক্ষা ব্যক্ত করেছিলেন। বঙ্গবন্ধুর চেতনা ধারণ করে বিশ^ব্যাপী শান্তি প্রতিষ্ঠায় জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে বাংলাদেশ পুলিশের গৌরবময় পদযাত্রা সূচিত হয় ১৯৮৯ সালে।

আইজিপি জাতিসংঘ সদর দপ্তর এবং শান্তিরক্ষা মিশনে সিদ্ধান্ত গ্রহণ পর্যায়ে বাংলাদেশ পুলিশের আরও বেশি অংশগ্রহণ প্রয়োজন বলে উল্লেখ করেন। তিনি বাংলাদেশকে ‘ইউএনপোল ডে-২০২২’-এর ভেন্যু নির্বাচিত করায় আয়োজকদের আন্তরিক ধন্যবাদ জানান।

জাতিসংঘের পুলিশ ডিভিশনের ভারপ্রাপ্ত পুলিশ অ্যাডভাইজার কমিশনার জুন টান শান্তিরক্ষা মিশনে বাংলাদেশ পুলিশের শান্তিরক্ষীদের পেশাদারি ও  নিষ্ঠার ভূয়সী প্রশংসা করেন।

জাতিসংঘ সদর দপ্তরের পুলিশ ডিভিশন ‘ইউএনপোল ডে’ উদযাপনের মাধ্যমে বিশ^ব্যাপী ইউনাইটেড নেশনস ট্রেনিং আর্কিটেকচার প্রোগ্রাম এবং আন্তর্জাতিক পুলিশিংয়ের জন্য কৌশলগত গাইডেন্স ফ্রেমওয়ার্কের আওতায় শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে জাতিসংঘের পুলিশিং কার্যকারিতা বৃদ্ধি এবং প্রমিত পদ্ধতির করার বিষয়ে পুলিশ প্রেরণকারী সদস্য রাষ্ট্র ও পিসিকিপিং প্রশিক্ষকদের অবহিত করে থাকে। এ ছাড়া পুলিশ সদস্যরা নিজেদের শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে অংশগ্রহণের উপযোগী করে গড়ে তুলতে প্রশিক্ষণ, দক্ষতা এবং লজিস্টিকস সক্ষমতা সম্পর্কে সম্যক ধারণা লাভ করেন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত