দেশে প্রতি বছর তিন লাখের বেশি মানুষ যক্ষ্মায় নতুন করে আক্রান্ত হচ্ছে। আর মারা যাচ্ছে ৪০ হাজার রোগী। অর্থাৎ প্রতিদিন ১১০ জন করে যক্ষ্মা রোগী মারা যাচ্ছে। মারা যাওয়ার হার কমে এসেছে। আগে যক্ষ্মায় প্রতি বছর ৭০ হাজারের বেশি রোগী মারা যেত। আমাদের মৃত্যু বেশি, কারণ আমাদের জনসংখ্যাও বেশি।
গতকাল রবিবার রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে যক্ষ্মা নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচির নবম যৌথ মনিটরিং কর্মশালায় অংশ নিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক এসব কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, যক্ষ্মায় আক্রান্তদের ৯৫ ভাগই চিকিৎসা পাচ্ছেন। দেশের ভালো মানের চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। তাদের জন্য দেশেই ওষুধ তৈরি করছে সরকার। আগামীতে ওষুধ বিদেশেও রপ্তানি করা হবে। যক্ষ্মা আমাদের যে বাজেট বরাদ্দ রয়েছে, প্রয়োজনে তা বাড়ানো হবে।
জাহিদ মালেক বলেন, যক্ষ্মা নিয়ন্ত্রণে অগ্রগতি হয়েছে, শনাক্তকরণ (স্ক্রিনিং) কার্যক্রম বেড়েছে। আমাদের সব হাসপাতালে পরীক্ষার যন্ত্রপাতি রয়েছে। যক্ষ্মা নিয়ে মানুষের মধ্যে এখনো ভ্রান্ত ধারণা রয়েছে, তবে পরিবর্তন আসছে, মানুষ চিকিৎসা কেন্দ্রে যাচ্ছে। বর্তমানে আক্রান্তদের ৮৫ থেকে ৯০ ভাগই চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হচ্ছে। আমরা চাই মানুষ চিকিৎসা নিতে আসুক। এ জন্য আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো এগিয়ে আসায় তাদের ধন্যবাদ। তিনি আরও বলেন, করোনার কারণে আমাদের স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হয়েছে। এ সময় আমাদের স্বাস্থ্য খাত চাপে পড়েছিল। হাসপাতালের বেশিরভাগ শয্যা করোনা রোগীদের জন্য দিয়ে দিতে হয়েছিল। নতুন নতুন হাসপাতাল করতে হয়েছে, শয্যা ও সুযোগ-সুবিধা যুক্ত করতে হয়েছে। তবে করোনা নিয়ন্ত্রণ করে খুব দ্রুতই আমরা স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে এসেছি।
ডেঙ্গু পরিস্থিতির বিষয়ে জাহিদ মালেক বলেন, ডেঙ্গুতে মৃত্যু বেড়েছে। প্রতিদিন শত শত মানুষ আক্রান্ত হচ্ছে। এখন প্রতি জেলাতেই রোগী পাওয়া যাচ্ছে। আমরা ডেঙ্গু প্রতিরোধের দায়িত্বে থাকা প্রতিষ্ঠানগুলোকে সহযোগিতা করতে প্রস্তুত। আমরা সহায়তাও দিচ্ছি।
