জয়ে থাকার লক্ষ্য রূপায়ণ সিটি কুমিল্লার

আপডেট : ৩১ অক্টোবর ২০২২, ০২:২৫ পিএম

সাত সকালেই মাঠের প্রস্তুতি সাড়া। সকালেই কথা হলো টিম বাসে চড়ে হোটেলগামী রূপায়ণ সিটি কুমিল্লা দলের অধিনায়ক সোহানুর রহমান সবুজের সঙ্গে। হকি চ্যাম্পিয়নস ট্রফিতে সেরা হয়ে ইতিহাস গড়ার অভিযান তাদের শুরু হয়েছে জয়ে; সাকিব আল হাসানের মালিকানা ও শাহবাজ আহমেদের মেন্টরে থাকা মোনার্ক পদ্মাকে ৩-২ গোলে হারিয়ে।

আজ তাদের সামনে ওয়ালটন ঢাকা। প্রতিপক্ষের শুরু মেট্রো এক্সপ্রেস বরিশালের কাছে হেরে। তাই তারা চাইবে প্রথম জয়ের স্বাদ নিতে। তবে সবুজ বলেছেন ঢাকাকে সে সুযোগ নিতে না দেওয়ার কথা। সংঘবদ্ধ একটা দল হয়ে তিনি চান জয়ের ধারা অব্যাহত রাখতে। ম্যাচটা শুরু হবে সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায়। দ্বিতীয় ম্যাচে মেট্রো এক্সপ্রেস বরিশাল মুখোমুখি হবে সাইফ পাওয়ার গ্রুপ খুলনার।

দেশসেরা এই ডিফেন্ডার তিন ভিনদেশিকে সুযোগ করে দিতে নিজের পজিশনে পরিবর্তন করে কখনো মিডফিল্ড, কখনো বা খেলছেন ফরোয়ার্ড পজিশনে। মোনার্ক পদ্মার বিপক্ষে তিন গোলের একটির মালিক তার বিশ্বস্ত স্টিক। তাতেই বোঝা যায় দলের প্রয়োজন মেটাতে যে কোনো পজিশনেই স্বচ্ছন্দ সবুজ।

মোনার্ক পদ্মার বিপক্ষে প্রথম কোয়ার্টারে দুই ও দ্বিতীয় কোয়ার্টারে তিন গোলের লিড নিয়েছিল তার দল। শেষ কোয়ার্টারের শেষ দিকে চাপ প্রয়োগ করে দুই গোল পরিশোধ করেছিল পদ্মা। শেষ দিকে শক্ত ডিফেন্স আলগা হয়ে যাওয়া নিয়ে গত দু’দিন ভালো কাজ হয়েছে বলে দাবি সবুজের।

তাছাড়া শেষ সময়ে গ্রিন কার্ড দেখে তাকে দুই মিনিটের জন্য মাঠের বাইরে যেতে হওয়ায় পদ্মা সুযোগ পায় চেপে ধরার, ‘আমি বিশ্বাস করি তিন বিদেশি প্রদীপ মোর, ইজাদ হাকিমি ও কিম সুং ইয়বকে নিয়ে গড়া আমাদের ডিফেন্স লাইন অন্য দলগুলোর চেয়ে অনেক বেশি শক্তিশালী। আসলে প্রথম ম্যাচের শেষ মুহূর্তে গ্রিন কার্ড দেখে আমাকে কিছু সময়ের জন্য বাইরে যেতে হওয়ায় দশজনে পরিণত হয়েছিলাম। তখন তারা কিছু আক্রমণ করে দু’টি গোল আদায় করে নেয়। এ নিয়ে আমরা কোরিয়ান কোচের অধীনে দু’দিন অনেক কাজ করেছি।’

সবুজ যোগ করেন, ‘এখানে যে ক’টি দল খেলছে, প্রতিটিই শক্তিশালী। তাই ওয়ালটন ঢাকাকে খাটো করে দেখার সুযোগ নেই। আমাদের লক্ষ্য থাকবে জয়ের ধারা বজায় রাখা।’

দক্ষিণ কোরিয়ার কোচ কিম ইয়ং কিউর সহকারী মশিউর রহমান বিপ্লব জানালেন, শেষ মুহূর্তে ভারত জুনিয়র হকি দলের ফরোয়ার্ড দর্শন গাওকার দলভুক্ত হওয়ায় তাদের শক্তি অনেক বেড়েছে। তবে প্রতিনিয়ত ম্যাচ থাকায় খেলার তাল লয় এক রাখাটা বড় চ্যালেঞ্জ মনে করেন জাতীয় দলের সাবেক এই তারকা, ‘প্রথম ম্যাচটা জেতায় আমরা উজ্জীবিত। তবে যারা হেরেছে তারা কামব্যাক করার চেষ্টা করবে। আসলে হকি খেলাটার শেষ সাইরেন না বাজা পর্যন্ত স্বস্তির সুযোগ নেই। প্রথম ম্যাচে আমরা প্রথম তিন কোয়ার্টার ডোমিনেট করে খেলেছি। তবে শেষ কোয়ার্টারে প্রতিপক্ষ ফুল-প্রেসিং করে খেলে গোল আদায় করেছে। তাই এই জায়গাটায় আমাদের আরও সতর্ক হতে হবে। আর এটা লম্বা লিগ। যে দলটি ফাইনাল খেলবে তাদের অল্প সময়ের মধ্যে ১৩টি ম্যাচ খেলতে হবে। তাই খেলায় ছন্দপতন ঘটবেই। এখন যাদের সাইডবেঞ্চ শক্তিশালী তারাই এগিয়ে যাবে। আর এই জায়গাটাতে আমরা একটু এগিয়ে। আমাদের রিজার্ভ বেঞ্চ বেশ শক্তিশালী। মোনার্ক পদ্মার বিপক্ষে আমাদের লক্ষ্যই থাকবে পরিল্পনা অনুযায়ী খেলে পূর্ণ তিন পয়েন্ট নিয়ে বের হয়ে আসা।’

ওয়ালটন ঢাকা ভালো খেলেও শেষ মুহূর্তে গোল হজম করে খালি হাতে ফিরেছে প্রথম ম্যাচে। তারা চাইবে না আজ একই ভুল করতে। চাইবে জয়ের খাতা খুলতে। তাই একটা রোমাঞ্চকর ম্যাচের আশা করাই যায়।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত