ইএমকে সেন্টারে এম কেনেডি

প্রতিবন্ধী অধিকার সুরক্ষায় দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তনের তাগিদ

আপডেট : ০২ নভেম্বর ২০২২, ০১:৩৯ এএম

এডওয়ার্ড টেড কেনেডি জুনিয়র প্রতিবন্ধী অধিকার সুরক্ষায় বিশ্বব্যাপী একযোগে কাজ করার পাশাপাশি সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তনের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন। বৈশ্বিক সম্মিলিত আন্দোলনের ভাবনা তুলে ধরে জুনিয়র কেনেডি বলেন, প্রতিবন্ধীদের অন্যান্য নাগরিক আন্দোলনের মতো সংঘটিত করতে হবে। সবার মধ্যে এটা বোঝাতে হবে যে, মানুষের শারীরিক কিংবা মানসিক কোনো পরিস্থিতি প্রতিবন্ধিতা তৈরি করে না। বরং সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গি এ প্রতিবন্ধিতা তৈরি করে। কোনো ব্যক্তির শারীরিক কিংবা মানসিক দশা প্রতিবন্ধিতা তৈরি করে না, প্রতিবন্ধিতা তৈরি করে এ সম্পর্কে সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গি।

মুক্তিযুদ্ধকালে বাংলাদেশের বন্ধু এডওয়ার্ড এম কেনেডির নামে ঢাকায় প্রতিষ্ঠিত ইএমকে সেন্টারে গতকাল মঙ্গলবার ‘প্রতিবন্ধীদের অন্তর্ভুক্তি : অধিকার, সুযোগ নয়’ শীর্ষক বক্তৃতায় এ কথা বলেন কেনেডি জুনিয়র।

উল্লেখ্য, মাত্র ১২ বয়সে ক্যানসারে আক্রান্ত হয়ে এক পা হারানো কেনেডি জুনিয়র যুক্তরাষ্ট্রে প্রতিবন্ধী অধিকার আন্দোলন করছেন।

অধিকারকর্মী কেনেডি জুনিয়র সেমিনারে বলেন, ‘বিশ্বে প্রায় সব পরিবারেই একজন শারীরিক বা মানসিক প্রতিবন্ধী ব্যক্তি রয়েছেন। সারা পৃথিবীতে ১০০ কোটি প্রতিবন্ধী মানুষ আছে। আমেরিকা বা বাংলাদেশ প্রত্যেক দেশেই এ অবস্থা।

প্রতিবন্ধীদের সব ধরনের অধিকার নিশ্চিতের প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরে কেনেডি জুনিয়র বলেন, আমরা যখন প্রতিবন্ধী অধিকারের কথা বলি, তখন আমরা বলি আসলে প্রতিবন্ধী বলতে কী বোঝায়। এর অর্থ হলো, অন্য সব মানুষ যেসব অধিকার ও সুযোগ পায়, প্রতিবন্ধীদেরও একই অধিকার প্রাপ্য।

তিনি বলেন, এ সহজ কাজটি করতে গিয়ে যুক্তরাষ্ট্রেও দীর্ঘ সময় আন্দোলন সংগ্রাম করতে হয়েছে। গত ১০-১২ বছর ধরে সেখানে প্রতিবন্ধীদের অধিকার নাগরিক অধিকার হিসেবে বিবেচিত হয়েছে।

কেনেডি জুনিয়র এ সময় নিজের পা হারানোর বিষয়ে বলেন, ‘আমি ১২ বছর বয়সে যখন পা হারাই, তখনই সবাই আমাকে প্রতিবন্ধীদের তালিকায় ফেলে দেয়। তারপর ডাক্তার যখন বলেন আমার পা কেটে ফেলতে হবে, তখন তো আমি ভেবেছিলাম আমার জীবন শেষ।’

সেই সময়ের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘আমি তখন খুব হতাশ হয়ে পড়ি। ভাবছিলাম আমার সঙ্গে কোনো মেয়ে কি প্রেম করবে? সেই সময় আমার মধ্যেও প্রতিবন্ধী বিষয়ে অনেক বেশি কুসংস্কার ও নেতিবাচক মানসিকতা ছিল। সে সময়েই আমি সিদ্ধান্ত নিই আইনজীবী হব। এরপর নাগরিক আন্দোলনে যুক্ত হয়েছি।’

জুনিয়র কেনেডি এ সময় তার পরিবারের আরেক সদস্যের কথা তুলে ধরে বলেন, ‘পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর অধিকারের জন্য আমাদের পরিবারের অগ্রণী ভূমিকার পেছনে আরও কারণ আছে। আমার এক ফুপু রোজমেরি ছিলেন বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী। তার কষ্ট দেখে আমিও কষ্ট পেতাম।’

ঢাকায় যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাসের সাংস্কৃতিকবিষয়ক কর্মকর্তা শারলিনা হুসেইন মরগ্যানের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বক্তৃতা করেন উইমেন উইথ ডিজঅ্যাবিলিটিজ ডেভেলপমেন্ট ফাউন্ডেশনের (ডব্লিউডিডিএফ) নির্বাহী পরিচালক আশরাফুন নাহার মিষ্টি ও জাগো ফাউন্ডেশনের প্রধান করভী রাখসান্দ। বক্তৃতায় শেষে ইএমকে সেন্টারকে ‘ক্রিস্টাল মার্বেল’ উপহার দেন কেনেডি জুনিয়র।

বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কের ৫০ বছর পূর্তি উদযাপনের অংশ হিসেবে গত শনিবার এক সপ্তাহের ঢাকা সফরে এসেছেন টেড কেনেডি জুনিয়র। সফরের চতুর্থ দিন গতকাল ধানমণ্ডির মাইডাস সেন্টারে তার বাবার নামে প্রতিষ্ঠিত ‘এডওয়ার্ড এম কেনেডি (ইএমকে) সেন্টার ফর পাবলিক সার্ভিস অ্যান্ড দি আর্টস’র দুই আয়োজনে যোগ দিতে যান তিনি।

এ সফরে তার সঙ্গী হয়েছেন স্ত্রী ক্যাথরিন ‘কিকি’ কেনেডি, মেয়ে কিলি কেনেডি, ছেলে টেডি কেনেডি, ভাতিজি গ্রেস কেনেডি অ্যালেন ও ভাতিজা ম্যাক্স অ্যালেন।

শুরুতে ইএমকে সেন্টারে বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের শিল্পীদের আঁকা চিত্রকর্মের প্রদর্শনী উদ্বোধন করেন টেড কেনেডি জুনিয়র। এরপর তাদের ‘যুক্তরাষ্ট্র-বাংলাদেশ চিত্র প্রদর্শনী’ ঘুরে দেখান কিউরেটর শিল্পী অধ্যাপক রোকেয়া সুলতানা।

২০১২ সালে মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর ও ঢাকায় আমেরিকান সেন্টারে যৌথ উদ্যোগে ইএমকে সেন্টার প্রতিষ্ঠা করা হয়। বাবার নামে সেন্টার প্রতিষ্ঠান উদ্যোগকে স্বাগত জানান কেনেডি জুনিয়র।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত