উন্নয়নের প্রচার-প্রকল্প বাদ টাকার অভাবে

আপডেট : ০২ নভেম্বর ২০২২, ০১:৫৮ এএম

সবচেয়ে আলোচিত বিষয় এখন রিজার্ভ সংকট। অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নাজুক। জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় খুব গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প না হলে এখন অনুমোদন মিলছে না।

উন্নয়ন কর্মকান্ডের প্রচারের জন্য সারা দেশে ৪৯২টি উপজেলায় ১৩২ কোটি টাকা খরচ করে এলইডি ডিসপ্লে স্থাপনের উদ্যোগ নিয়েছিল তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি বিভাগ। আর্থিক সংকট বিবেচনায় প্রকল্পটি প্রত্যাহৃত হয়েছে। সম্প্রতি পরিকল্পনা কমিশনের আর্থ-সামাজিক বিভাগে এই সংক্রান্ত একটি চিঠি দেওয়া হয়েছে। পরিকল্পনা কমিশন সূত্রে একথা জানা গেছে।

গত জুলাই মাসে খুব গুরুত্বপূর্ণ না হলে প্রকল্প আপাতত স্থগিত রাখার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এখন একনেক সভায় খুব গুরুত্বপূর্ণ না হলে নতুন প্রকল্পে অনুমোদন দেওয়া হচ্ছে না।

গত ২৮ সেপ্টেম্বর এলইডি ডিসপ্লে স্থাপনের প্রকল্পটি প্রত্যাহারের অনুরোধ জানিয়ে পরিকল্পনা কমিশনে চিঠি দেয় উদ্যোগী সংস্থা তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি বিভাগ। চিঠিতে বলা হয়েছে, ‘জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প ছাড়া অন্য প্রকল্পগ্রহণকে নিরুৎসাহিত করতে হবে। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা মেনে প্রকল্পটি ‘সি’ ক্যাটাগরিতে রাখা হয়েছে। বর্তমান বৈশ্বিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি বিবেচনায় প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা সমীচীন নয়।’

চিঠিতে বলা হয়, ‘তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি বিভাগের অনুরোধে, সারা দেশে ৪৯২টি উপজেলায় এলইডি ডিসপ্লে স্থাপন’ শীর্ষক প্রকল্পটি পরিস্থিতি বিবেচনায় একনেক সভার কার্যতালিকা থেকে প্রত্যাহারের ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ করা হলো।’

এই প্রসঙ্গে পরিকল্পনা বিভাগের সচিব মো. মামুন আল রশিদ বলেন, ‘তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি বিভাগ প্রত্যাহারসংক্রান্ত চিঠি পাঠিয়েছে। তারা বলছে, জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পে প্রায়োরিটি দিতে চাচ্ছে তারা।

উল্লিখিত প্রকল্পটি হাতে নেওয়া হয়েছিল মুজিববর্ষকে লক্ষ্য করে। যেহেতু মুজিববর্ষ পার হয়ে গেছে, তাই প্রকল্পটি থেকে সরে এসেছে সংশ্লিষ্ট বিভাগ।’ 

এটি ‘সি’ ক্যাটাগরির প্রকল্প কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘প্রকল্প এখনো পাস হয়নি; তাহলে ‘সি’ ক্যাটাগরিতে এটি পড়ে কীভাবে?’

গত জুলাই মাসে ব্যয়ের লাগাম টানতে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে থাকা কম গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পগুলো আপাতত স্থগিত রাখতে বলেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এখন খুব গুরুত্বপূর্ণ না হলে কোনো প্রকল্প আপাতত একনেকে উপস্থাপিত হচ্ছে না।

এর আগে তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি বিভাগ থেকে প্রকল্প প্রস্তাব পাওয়ার পর গত বছরের ৩১ অক্টোবর প্রকল্প মূল্যায়ন কমিটির (পিইসি) সভা অনুষ্ঠিত হয়। ওই সভায় দেওয়া সুপারিশ প্রতিপালিত হওয়ায় প্রকল্পটি একনেক বৈঠকে উপস্থাপনের সুপারিশ করা হয়েছিল। ২০২৩ সালের অক্টোবরের মধ্যে এটি বাস্তবায়ন করার কথা। বাস্তবায়নে ব্যয় ধরা হয়েছে ১৩২ কোটি ৪২ লাখ ৭২ হাজার টাকা।

প্রকল্পের লক্ষ্য হচ্ছে, মুজিববর্ষ ২০২০-২১ এবং স্বাধীনতার ৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন সংস্থার বিভিন্ন উদ্যোগ প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর কাছে প্রচার করা। এর মাধ্যমে নাগরিক সম্পৃক্ততা ও সচেতনতা বাড়বে এবং সুশাসন প্রতিষ্ঠায় সহায়তা হবে বলে আশা সংশ্লিষ্টদের।

প্রকল্পটির দায়িত্বপ্রাপ্ত পরিকল্পনা কমিশনের একজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করে বলেন, ‘প্রকল্প প্রস্তাবের সময়ের বিবেচনায় এটি অনুমোদনযোগ্য ছিল। কিন্তু বর্তমান ব্যয়-সংকোচন নীতির কারণে কম গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পের তালিকায় রয়েছে এটি। তাই প্রত্যাহারের আবেদন করা হয়েছে।’

প্রকল্প প্রত্যাহারের বিষয়ে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের উপ-সচিব আসপিয়া আক্তার দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘প্রকল্পটি এমনিতেও কম গুরুত্বপূর্ণ ছিল। তারপরও সাম্প্রতিক বিশ্ব পরিস্থিতি বিবেচনায় আমরা এটিকে প্রত্যাহার করে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।’

২০১৯ সালের ২৮ অক্টোবর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উদযাপন উপলক্ষে মিডিয়া, প্রচার ও ডকুমেন্টেশন উপ-কমিটির সভা হয়। ওই সভায় সারা দেশে এক হাজারটি ডিজিটাল ডিসপ্লে স্থাপন করে সারাদিন বাংলাদেশ ও বঙ্গবন্ধুর ওপর কনটেন্ট প্রচারের সিদ্ধান্ত হয়। এই বিষয়ক ওয়ার্কিং কমিটি এবং আইসিটি বিভাগ অডিও-ভিজ্যুয়াল প্রদর্শনী স্থানীয় সরকার বিভাগের সঙ্গে সমন্বয় করে নিজস্ব অর্থায়নে বাস্তবায়নের ব্যবস্থার কথা চিন্তা করে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত