(বুধবার প্রথম পর্বের পর)
লেনিন তার জনগণের সামনে আঙুল তুলে নির্দেশ করেছিলেন দুর্ভিক্ষ আর ব্যাধি মহামারীর প্রকোপের কারণ। পুঁজিবাদী আর উপনিবেশবাদী শোষণ, দারিদ্র্য, জনস্বাস্থ্যের পদদলন, অন্যায়, অবিচার যে এর মূলে তা স্পষ্ট করে দিয়েছিলেন। তিনি জনতাকে বুঝিয়েছিলেন শত শত বছরের পুঁজিবাদী অসাম্যের ফল কী ভয়াবহ। আক্ষেপ এটাই, লেনিন আজ কাচের ঘরে মমি হয়ে ঘুমিয়ে আছেন। তার দেশ পরিত্যাগ করেছে সমাজতন্ত্র। বিশাল দেশকে ভেঙে টুকরো টুকরো করেছে জাতীয়তাবাদের নামে।
পুঁজিবাদকবলিত বিশ্ব আজ আক্রান্ত হয়েছে করোনা রোগে। যুদ্ধ-লড়াই বহুমাত্রিক। লড়াইটা কেবল করোনাভাইরাসের বিরুদ্ধে জারি থাকলে চলবে না, সমান্তরালে চালাতে হবে পুঁজিবাদবিরোধী ঐক্য দৃঢ় করবার কাজ। অথচ মহাবিস্ময় আজ চারদিকে। কেবল যে রোমের ভ্যাটিকানের মহামান্য পোপ খ্রিস্টীয় জনতার উদ্দেশ্যে করোনা মুক্তির জন্য ঈশ্বরের কাছে পাপ স্বীকার করে করুণাপ্রার্থী হতে বলেছেন তা নয়, বিশ্বের প্রতিটি দেশের প্রতিটি ধর্মের পোপেরা একই কথা বলছেন। তাদের কণ্ঠস্বর এক। ভারতে নতুন এক দেবীর উদ্ভব ঘটেছে। তার নাম ‘করোনা দেবী’। এদিক ওদিক তার পূজাও হচ্ছে। দেবী মূর্তির মাথার মুকুটে শোভা পাচ্ছে করোনাভাইরাসের বিচিত্র রঙের প্রতীক। বাম-গণতন্ত্রী নেতারা দাবি জানাচ্ছেন অতিদ্রুত নতুন নতুন হাসপাতাল স্থাপনের, অস্থায়ী স্বাস্থ্যকেন্দ্রের আর অধিক চিকিৎসক তৈরির। কিন্তু পাল্টা উচ্চকণ্ঠ হয়েছে কেন্দ্র এবং রাজ্যে রাজ্যে ক্ষমতা-দখলকারী রাজনৈতিক দলের। রামমন্দির তৈরিতে কালঘাম ঝরিয়ে তারা দাবি করছে হাসপাতাল নয়, মন্দির বানাতে। উপদেশ দিচ্ছেন জনগণকে হাসপাতালে ভিড় না জমিয়ে মন্দিরের ঘণ্টা বাজাতে। কেননা রোগের তো নিরাময় আবিষ্কারই হয়নি। ভগবান ভরসা! কিন্তু শুভবুদ্ধির ধারক মানুষের দাবি আলাদা। স্বপ্ন ভিন্ন। তারা চান গণতন্ত্র ধ্বংসের চক্রান্ত ব্যর্থ হোক। মধ্যযুগীয় অন্ধ কুসংস্কার, বিজ্ঞানবিরোধী বিশ্বাস সমাজে-রাষ্ট্রে পুনরুত্থান ঘটানোর যে ব্যয়বহুল সব প্রকল্প চালু হচ্ছে তা সাহসের সঙ্গে প্রতিহত করুক জনতা। কিন্তু বাস্তবতা তার উল্টো। বাম দলগুলোর শক্তি ক্ষয় ঘটে গেছে, অপচয় হয়েছে। গণতন্ত্রী দলগুলো ভেঙে পড়ছে। ওই যে কিশোর কবি সুকান্ত লিখেছিলেন লেনিনের নামে কবিতা, সেই কবিও আজ আর জন্মে না। সুকান্তের স্বপ্নের ঘরে ঘরে লেনিনের জন্ম আজ হয় না। কোনো কবি সুকান্তর মতো নিজেকে লেনিন ভাবার দুঃসাহসও দেখায় না।
প্রাচীন অবতারদের যুগে স্বর্গের ঈশ্বর-নির্বাচিত মহামানবরা জনসেবার কথা বলেছেন। বাইবেলের ওল্ড এবং নিউ টেস্টামেন্টে নবী মোজেস এবং ক্রাইস্টকে কেন্দ্র করে জনসেবার বহু আখ্যান রয়েছে। সেসব আবার লৌকিক আর অলৌকিকে মেশানো। ক্ষুধা এবং কুষ্ঠরোগ কিংবা নারীর ব্যভিচারের পাপের ফল প্রাণঘাতী রোগ থেকে মুক্তির আখ্যান আছে। কিন্তু সবই ব্যক্তি কর্তৃক ব্যক্তির সেবার আখ্যান। নাই সমষ্টির ব্যাধিযুদ্ধের আখ্যান। সমষ্টির জন্য সমষ্টির রোগের বিরুদ্ধে লড়াই নেই সামন্ত সমাজে, নেই পুঁজিবাদী সমাজে। আছে কেবল সমাজতান্ত্রিক বা সাম্যবাদী সমাজে। মানুষ নিজেই তার সভ্যতার কারিগর। হতে পারে সে মানুষ মেধাবী, প্রাজ্ঞ। এটাও হতে পারে সে গবেট, মূর্খ, শারীরিক শ্রম ছাড়া যার কিছুই নেই। কিন্তু সভ্যতা নির্মাণে দুজনের অবদানই সমান। কেননা সভ্যতা নির্মাণে একটিকে বাদ রেখে অন্যটির পূর্ণতা আসে না। শ্রমজীবী মানুষ আর মার্কস-লেনিন। এই দুই মিলেই সভ্যতা। একজন পথ চিনিয়েছেন, অন্যজন পথে পা রেখে লড়াই করেছেন। শ্রেণিহীন সমাজ প্রতিষ্ঠার লড়াইয়ে সৈন্যদলের প্রথম এবং প্রধান সেনানায়ক হচ্ছেন লেনিন। তিনি কেবল শোষণমুক্ত সমাজের জন্যই লড়াই করেননি, লড়াই করেছেন রোগ-ব্যাধিমুক্ত সমাজ প্রতিষ্ঠার জন্যও। তিনি বুঝতে পেরেছিলেন কেবলমাত্র অর্থনৈতিক আর রাজনৈতিক সাম্যই মানবসমাজে মুক্তি এনে দিতে পারে না। অবশ্যই দরকার ব্যাধিমুক্ত সমাজ। অর্জিত সমাজতন্ত্রকে সুরক্ষা দিতে গেলে দীর্ঘমেয়াদি টেকসই গণ-স্বাস্থ্যনীতি নির্ধারণও জরুরি। সোভিয়েত জনগণের জন্য তা-ই করেছিলেন তিনি। জাতীয় সম্পদের বড় একটি অংশ চিকিৎসা গবেষণার কাজে লাগানোর পাশাপাশি জাতীয় স্বাস্থ্যনীতির আধুনিক পরিকাঠামোও নির্মাণ করেন। সমাজের ও রাষ্ট্রের কাছে জনগণের প্রায় নিখরচায় সেবা পাওয়ার অধিকার আছে, এই বাস্তবতার প্রথম রূপকার লেনিন। কেবল তাই নয়, সারা বিশ্বের প্রায় প্রতিটি দেশের বিপ্লবী রাজনীতিবিদদের আপন দেশে নিয়ে এসে দুরারোগ্য ব্যাধির চিকিৎসাদানের নীতিও তিনি সোভিয়েত রাষ্ট্রের দায় হিসেবে গ্রহণ করেন। সবকিছুই ছিল নিখরচায়। সে এক স্বপ্নের পৃথিবী ছিল। আজ সবই ইতিহাস।
ইতিহাস প্রমাণ করেছে যে প্রাণঘাতী সংক্রামক ব্যাধির স্থানান্তর বা মাইগ্রেশন ঘটিয়েছে মানুষ, প্রকৃতি নয়। গোত্র যুদ্ধ বা খাদ্যাভাবের কারণে যাযাবর গোত্রগুলো পরিভ্রমণে বেরিয়ে যেত প্রাচীন যুগ থেকে। সঙ্গে নিয়ে যেত ব্যাধি। সেই ব্যাধি আবার তারা বয়ে নিয়ে আসত বনজঙ্গল থেকে। খাদ্যের খোঁজে, শিকার সন্ধানে মানুষ বনে যেত, নানা প্রজাতির জীবজন্তুর সংস্পর্শে আসত তারা। শিকার করে মাংস আহার করত। এতে জীবজন্তুবাহিত জীবাণু মানব শরীরে প্রবেশ করার সুযোগ তৈরি হয়। অন্যের বাসস্থানে মানুষের এই অনুপ্রবেশ আর অধিকার প্রচেষ্টা অজানা ব্যাধি ছড়িয়ে পড়ার প্রধান কারণ।
সাম্রাজ্য বিস্তারও ব্যাধি-মহামারীর অন্যতম কারণ। মধ্যযুগ ছিল এরই ফলে রোগবিস্তারের উল্লেখযোগ্য কাল। বিস্ময়ের ব্যাপার এই যে, ধর্মযুদ্ধগুলো এক দেশ থেকে অন্য দেশে সংক্রামক ব্যাধি ছড়িয়েছে। বাহক ছিল সৈন্য এবং তাদের রসদ। বিজয়ের ধ্বজা উড়িয়ে পরাজিত জাতির রক্তাক্তভূমিতে যারা তাণ্ডব নৃত্য করছিল তারা ভাবতে পারেনি কোন ব্যাধির বীজ বপন করল জয়করা দেশে আর নিজেরা আক্রান্ত হলো কোন ঘাতক রোগে। অন্যদিকে পরাজিত পলাতক সৈন্যরা কী করে এক দেশ থেকে অন্য দেশে ব্যাধিকে সঙ্গে নিয়ে পালাল, বুঝতেই পারেনি। ক্রিমিয়ার যুদ্ধপলাতক ইতালীয় সৈন্যরা ভূমধ্যসাগর হয়ে মারণ রোগ প্লেগ ছড়িয়ে দেয় পশ্চিম ইউরোপে।
এই যে সাম্রাজ্যবাদ আর উপনিবেশবাদ এবং যুদ্ধ, তারই প্রতিপক্ষ ছিলেন মার্কস এবং লেনিন। লেনিন দেখেছিলেন কী করে ব্রিটিশ, ফরাসি, স্প্যানিশ উপনিবেশবাদীরা ঘাতক মহামারী ছড়িয়ে দিয়েছিল শাসিত এশিয়া, আফ্রিকা আর লাতিন আমেরিকান দেশগুলোতে। ঐতিহাসিক সত্য এই যে, উপনিবেশবাদীরাই সারা বিশ্বে প্লেগ, বসন্ত, কলেরা আর ম্যালেরিয়া, ফ্লু ছড়িয়ে দেয়। ইংরেজ দখলদারদের হাত ধরেই তৎকালীন ঔপনিবেশিক রাজধানী কলকাতায় প্লেগ ছড়িয়ে পড়ে এবং ব্যাপক প্রাণহানি ঘটে। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের মতো মানুষকেও সেদিন শহরে প্লেগ হাসপাতাল স্থাপনে এগিয়ে আসতে হয়েছে। লেনিন বুঝেছিলেন কেবল রাজনৈতিক মুক্তি পেলেই হবে না, মুক্তিটা চাই ব্যাধি থেকেও। তাই তিনি রাজনৈতিক সংগ্রাম আর ব্যাধির বিরুদ্ধে সংগ্রামকে সমার্থক বলেই বিশ্বাস করতেন।
এ কথাও মিথ্যে নয় যে, বিশ্বসাম্রাজ্যবাদ আর উপনিবেশবাদকেও প্রচুর মূল্য গুনতে হয় সংক্রামক ব্যাধির জন্য। ১৮১৭ থেকে ১৮২৪ সাল পর্যন্ত উপনিবেশিক বাংলায় কলেরা মহামারীর দাপট চলতে থাকে। আরও দীর্ঘসময় চলে অবশিষ্ট ভারতবর্ষে। জনগণ তো বটেই এতে দশ হাজারের অধিক ব্রিটিশ সৈন্য মারা পড়ে। ব্যাধি মহামারী বিশেষজ্ঞরা বিশ্বাস করেন স্থানীয় যুদ্ধ এবং বিশ্বযুদ্ধের সঙ্গে অতিমারী বা মহামারীর যোগ রয়েছে। শিবিরের নোংরা অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ, পুষ্টিকর খাদ্যের ঘাটতি, কঠোর পরিশ্রম, মৃত্যুর আতঙ্কে মনের শক্তি হ্রাস, ইত্যাদি কারণে সৈন্যরা সহজেই রোগে আক্রান্ত হয়ে পড়ে।
এই করোনা মহাবিপর্যয়ের ভেতর চরম হতাশা আর মৃত্যুর আতঙ্ক-আচ্ছন্নতার মাঝে অলৌকিক ত্রাণকর্তা হিসেবে এখনই পাথর মূর্তি আর শীতল মমিগৃহ থেকে কার্ল মার্কস আর ভøাদিমির ইলিচ লেনিনের যিশুর মতো বাইবেলীয় পুনরুত্থান ঘটবে, এমন প্রত্যাশা রাখি না। আমরা কৌতূহলের ভেতর লক্ষ করছি যে, হঠাৎ আজ পুঁজিবাদের স্তাবক বিশ্ববুদ্ধিজীবী সমাজ নিশ্চুপ হয়ে গেছে। কথায় কথায় সমাজতন্ত্রের শ্রাদ্ধ করা থেকে বিরত হয়ে গেছে ওরা। হয় নিশ্চুপ, নয়তো ফিসফিস কণ্ঠস্বর। এখানে ওখানে হঠাৎ বলেই ফেলছেন, সমাজতন্ত্র কি আবার ফিরছে? বিশ্ব অর্থনীতির প্রায় ধ্বংসস্তূপের ভেতর অনাগত মহাক্ষুধার অপচ্ছায়া কি তারা এরই ভেতর দেখে ফেলেছে? পুঁজিবাদের ভেতর কি তারা আর কিছু প্রত্যাশা করছে না? ভাড়াটে হিসেবে প্রতিনিয়ত বিভিন্ন মিডিয়ায়, স্ট্যালিনের নামে কারণে-অকারণে যারা মিথ্যাচার করে, আজ তাদের কণ্ঠস্বর নীরব কেন? লেনিন পুনরায় ফিরে আসবেন বলে, লেনিনের পুনর্জাগরণ ঘটবে বলে তারা কি আতঙ্কিত? লেনিন আসবেন, হয়তো ১৯১৭-র পুরনো বলশেভিক বিপ্লবের আকারে নয়, বদলে-যাওয়া বিশ্বের বদলে-যাওয়া রণনীতির ভেতর দিয়ে। ক্ষুধা, শোষণ, রোগব্যাধি, বাজার অর্থনীতি, গ্লোবালাইজেশন আর পুঁজিবাদের জমাট আবর্জনা-জঞ্জালকে জ্বালিয়ে-পুড়িয়ে, মেরুদণ্ডহীন মধ্যবিত্তের ছেনালিপনাকে পদদলিত করে মার্কস ফিরবেন, লেনিন ফিরবেন, স্ট্যালিন ফিরবেন। করোনাভাইরাসের এই ঔদ্ধত্যের পেছনে মানুষ নতুন আগন্তুকের পদধ্বনি শুনতে পাচ্ছে। শুনতে পাচ্ছে আতঙ্কিত, সমাজতন্ত্রে-ভীত পুঁজিবাদের উচ্ছিষ্টভুক বুদ্ধিজীবী নামের বাছুর জাতীয় প্রাণীরাও। এই প্রাণীরা মূল শোষকশ্রেণি, শিল্পপতি, ব্যবসায়ীদের চেয়েও ভয়ংকর ক্ষতিকর ভাইরাস-ব্যাকটোরিয়া। কেননা ওরা জনগণের শরীর ঘেঁষে বসবাস করে।
করোনাভাইরাসে সারা বিশ্বে আজতক যত প্রাণহানি ঘটেছে তার চেয়ে অধিক মানুষ প্রাণ দিয়েছে একাত্তরের স্বাধীনতা যুদ্ধে। যুদ্ধশেষের বিধ্বস্ত ভূমিতে সংক্রামক ব্যাধিতে প্রাণ দিয়েছে মানুষ। প্রাণটা সহজেই দিতে হয়েছে। কেননা যুদ্ধাক্রান্ত দেশে বিপর্যয় ঘটে কৃষির, বাণিজ্যের, ভেঙে পড়ে স্বাস্থ্য পরিকাঠামো। খাদ্যাভাব আর পুষ্টির অভাবে গণস্বাস্থ্যে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয়। জনগণের রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা ব্যাপকভাবে হ্রাস পায়। প্রায় বিনা চিকিৎসায় মৃত্যু ঘটে আক্রান্তদের। জাতীয়তাবাদী শাসকরা নির্বিকার-নির্লিপ্ত, ক্ষমতায় বসে মাত্রাতিরিক্ত সন্তুষ্ট চিত্তে মশগুল। চুয়াত্তরে নামে দুর্ভিক্ষ। ক্ষুধার চেয়ে অধিক গণমৃত্যু ঘটে ব্যাধিতে। ক্ষুধার্ত মানুষের শরীরে রোগপ্রতিরোধের ক্ষমতাই থাকে না। সুযোগটা নেয় রোগজীবাণু আর ভাইরাস। সেদিন যুদ্ধরত দেশে সাহসী আত্মত্যাগী মুক্তিযোদ্ধারা ছিলেন, যুদ্ধশেষের স্বাধীন দেশেও ছিলেন তারা। ছিল রাজনীতি, ছিলেন নেতারা। তারপরও শূন্যতা ছিল, অভাব ছিল। কেননা সবাই থাকলেও ছিলেন না একজন ভøাদিমির লেনিন, একজন জোসেফ স্ট্যালিন।
স্বাধীনতার এত বছর পরেও দেশে কি আধুনিক স্বাস্থ্য পরিষেবা গড়ে উঠেছে? গ্রামের মানুষ, নাগরিক বস্তিবাসী কি চিকিৎসাসেবা পায়? নিখরচায় চিকিৎসাসেবা তো কল্পনাতীত। চিকিৎসা অত্যন্ত ব্যয়বহুল। স্বাস্থ্য খাত বাণিজ্য খাতে পরিণত হয়েছে। বহু মেডিকেল কলেজ তৈরি হয়েছে, কিন্তু নেই বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক। ধনী আর মধ্যবিত্তরা বহু অর্থব্যয়ে বিদেশে চলে যায় স্বাস্থ্যসেবা ক্রয় করতে। সিংহভাগ দরিদ্র যারা বাস করে গ্রামে আর নগরবস্তিতে, তাদের কোথাও যাওয়ার পথ নেই। গ্রামীণ স্বাস্থ্যকেন্দ্রে (সরকারি) উচ্চ প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত ডাক্তার নেই। যেখানে ডাক্তার আছে সেখানে ওষুধ নেই। না থাকারই কথা। কেননা দেশে নেই আধুনিক বিজ্ঞানভিত্তিক গণস্বাস্থ্য নীতিমালা। জাতীয় বাজেটেও স্বাস্থ্য খাতে ব্যয়বরাদ্দ অপ্রতুল। একটাই রয়েছে পথ। ব্যাধির বিরুদ্ধে লড়াইয়ের জন্য চাই মার্কসীয় চিন্তাধারা, লেনিনীয় প্রয়োগপদ্ধতি। শ্রেণিসংগ্রাম তো ব্যাধিমুক্ত জীবন সংগ্রামেরই অংশ। উচ্চারিত হতে হবে সেই পরম বাক্য, একাত্তরের স্বাধীনতার পূর্ণতা আসবে সেদিন, যেদিন পরাভূত হবে পুঁজিবাদ এবং পুঁজিবাদের হাত-ধরে আসা রোগব্যাধি, মৃত্যু। (সমাপ্ত)
লেখক: কথাসাহিত্যিক, প্রাবন্ধিক
