দেশের সাতটি উপজেলা পরিষদ, চারটি পৌরসভা এবং ৮৯টি ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে ভোটগ্রহণ হয়েছে গতকাল বুধবার। সাত উপজেলার মধ্যে তিনটিতে সাধারণ নির্বাচন ও চারটিতে উপনির্বাচন, ১৯ ইউপিতে সাধারণ নির্বাচন এবং ১২টিতে চেয়ারম্যান পদে উপনির্বাচন হয়। এছাড়া ৩৬ জেলার ৫২ উপজেলার ৫৮টি ইউপিতে সদস্যের ৬০টি পদে উপনির্বাচন হয়েছে। এই নির্বাচনকে ঘিরে কয়েকটি জায়গায় সংঘর্ষের খবর পাওয়া গেছে। এরমধ্যে মুন্সীগঞ্জের গজারিয়ায় হোসেন্দী ইউনিয়ন পরিষদের উপনির্বাচনে আওয়ামী লীগ মনোনীত ও স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষে তিনজন গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। কুষ্টিয়ার খোকসা উপজেলা পরিষদ উপনির্বাচনে আওয়ামী লীগ মনোনীত চেয়ারম্যান প্রার্থীর সমর্থকদের সঙ্গে স্বতন্ত্র প্রার্থীর সমর্থকদের সংঘর্ষে গুলিবিদ্ধ হয়েছেন আরও একজন।
এদিকে গত কয়েকটি নির্বাচনের মতো এবারও ঢাকা থেকে মাঠপর্যায়ের ভোটগ্রহণে গতকাল সিসি ক্যামেরার মাধ্যমে নজর রাখে নির্বাচন কমিশন। এই নির্বাচনে তেমন কোনো অনিয়ম ধরা পড়েনি বলে দাবি করেছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কাজী হাবিবুল আউয়াল। তিনি বলেন, ‘সিসিটিভির কারণে পরিপূর্ণ শৃঙ্খলা দেখতে পাচ্ছি। নির্বাচন কেন্দ্রে ও ভোটের এলাকায় কোনো রকম উছৃঙ্খলতা আমরা পাইনি।’ গতকাল রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে সিসিটিভি মনিটরিং সেলে পর্যবেক্ষণকালে এসব কথা বলেন সিইসি।
সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে কাজী হাবিবুল আউয়াল বলেন, ‘প্রচুর লোক দাঁড়ানো, তারা সুশৃঙ্খলভাবে ভোট দিয়েছেন। আমার কাছে মনে হচ্ছে এটা একটা সংস্কৃতি যে ভোটাররা সংযমের সঙ্গে, ধৈর্যের সঙ্গে অনেক সময় দাঁড়িয়ে ভোট দিয়েছেন। এটা একটা শুভ লক্ষণ। এটা যদি ধরে রাখা যায়, তাহলে ভবিষ্যতেও ওদের যদি এনকারেজ (উৎসাহ) করা যায় ওরা ভোট দিতে যাবেন। ভোটের পরিবেশ আছে। এটাই আমাদের উদ্দেশ্য।’
মুন্সীগঞ্জে ভোটের সময় গোলযোগ হয়েছে জানালে সিইসি বলেন, ‘সেটা কেন্দ্র থেকে বেশ দূরে। ওটা কী আমরা জানি না। আমাদের নির্বাচন কেন্দ্রে ও ভোটের এলাকায় কোনোরকম উছৃঙ্খলতা আমরা পাইনি।’
সাত উপজেলা, চার পৌরসভা ও ৮৯টি ইউনিয়ন পরিষদে ভোটগ্রহণ শুরু হয় সকাল ৮টা থেকে, চলে বিকেল ৪টা পর্যন্ত। সবমিলিয়ে ৩৮৩টি ভোটকক্ষে ভোটগ্রহণ হয়। মোট ৫০৫টি সিসিটিভির মাধ্যমে এ নির্বাচন পর্যবেক্ষণ করা হয়।
দুই জায়গায় সহিংসতায় গুলিবিদ্ধ ৪ : মুন্সীগঞ্জের গজারিয়া উপজেলার হোসেন্দী ইউনিয়ন পরিষদের উপনির্বাচনে আওয়ামী লীগ ও স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষে ৩ জন গুলিবিদ্ধ হয়েছে। গতকাল সকাল ৯টার দিকে ইস্মানিরচর ২ নম্বর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভোটকেন্দ্রের বাইরে আওয়ামী লীগের মনিরুল হক মিঠু (নৌকা) ও স্বতন্ত্র প্রার্থী হাজি মো. মাহবুব মিয়ার সমর্থকদের মধ্যে ওই সংঘর্ষ হয়। গুলিবিদ্ধরা হলেন সোহেল রানা (৩৬), সাইফুল সরদার (৪৫) ও ওমর ফারুক (৩২)। গজারিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে তাদের ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।
অন্যদিকে কুষ্টিয়ার খোকসা উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি শিমুল খানের ভাই আবদুল আওয়াল খান (২৩) গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। গত মঙ্গলবার রাত ৯টার দিকে বাড়ি ফেরার সময় মাশিলিয়া গ্রামের গোরস্থানের কাছে তার ছোট ভাইকে গুলি করা হয় বলে জানিয়েছেন ছাত্রলীগ নেতা শিমুল।
খোকসা থানার ওসি সৈয়দ আশিকুর রহমান বলেন, ‘উপনির্বাচনের প্রচারণা বন্ধ থাকলেও উভয়পক্ষের সমর্থকদের গোপন প্রচারণাকে কেন্দ্র করে সংঘাত হয়। এ সময় গোলাগুলি চলাকালীন উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতির ভাই ঘাড়ে গুলিবিদ্ধ হন।’
পৌর নির্বাচনে বিজয়ী হলেন যারা : পার্বতীপুরে পৌর নির্বাচনে মেয়র পদে আওয়ামী লীগের মো. আমজাদ হোসেন, জামালপুরের মেলান্দহের হাজরাবাড়ী পৌরসভায় মেয়র পদে আওয়ামী লীগের সামছুজ্জামান।
ইউপি নির্বাচনে বিজয়ীরা হলেন : মুন্সীগঞ্জের গজারিয়ার হোসেন্দী ইউনিয়ন পরিষদের উপনির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনিরুল হক সিঠু, টাঙ্গাইলের ঘাটাইলের দেউলাবাড়ি ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের উপনির্বাচনে নাজমুল হাসান নাহিদ, চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জের দুর্লভপুর ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে স্বতন্ত্র প্রার্থী জামায়াত নেতা আজম আলী, জামালপুরের মেলান্দহের আর্দ্রা ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে আওয়ামী লীগের রফিকুল ইসলাম খোকা, ফুলকোচা ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে আওয়ামী লীগের মামুনুর রশিদ মামুন, জয়পুরহাটের ক্ষেতলালের তুলসীগঙ্গা ইউনিয়নে একই দলের বজলুর রহমান এবং বড় তারা ইউনিয়নে বোরহান উদ্দীন, নড়াইলের কালিয়ার পিরোলী ইউপিতে জারজিদ মোল্যা এবং পাঁচগ্রাম ইউপিতে এস এম সাইফুজ্জামান।
প্রতিবেদনটি তৈরিতে তথ্য দিয়ে সহায়তা করেছেন সংশ্লিষ্ট জেলা ও উপজেলার প্রতিনিধিরা
