রোমাঞ্চকর ম্যাচ জিতে কক্ষপথে রূপায়ণ সিটি

আপডেট : ০৩ নভেম্বর ২০২২, ০৩:২৪ এএম

পুরনো প্রতিপক্ষকে পেয়েই জ্বলে উঠেছে রূপায়ণ সিটি কুমিল্লা। হকি চ্যাম্পিয়নস ট্রফিতে নিজেদের তৃতীয় ম্যাচে দ্বিতীয় জয়ের সঙ্গে সখ্য গড়েছে দলটি। গতকাল তারা ৪-৩ গোলে হারিয়েছে মোনার্ক পদ্মাকে। সাকিব আল হাসান মালিকানাধীন দলটিকেই ৩-২ গোলে হারিয়ে অভিযান শুরু করেছিল রূপায়ণ সিটি কুমিল্লা। দলের অধিনায়ক সোহানুর রহমান দুটি সফল পিসি থেকে করেন জোড়া গোল। এছাড়া অভিজ্ঞ পুস্কর খীসা মিমো ও তরুণ ওবায়দুল হাসান জয়ের স্টিক থেকে আসে একটি করে গোল। আগের দিন সাইফ পাওয়ার গ্রুপ খুলনাকে বড় ব্যবধানে হারানো মোনার্ক পদ্মা চতুর্থ ম্যাচে তৃতীয় হারের তেতো স্বাদ পেল।

ম্যাচের শুরুতে দু’দলই খেলেছে সতর্ক হয়ে। যে কারণে প্রথম কোয়ার্টারে সেভাবে আক্রমণ গড়তে দেখা যায়নি। এই কোয়ার্টারের শেষ মিনিটে অবশ্য উপর্যুপরি তিনটি পেনাল্টি কর্নার আদায় করে নিয়েছিল রূপায়ণ সিটি। তবে তার কোনটিই গোলে রূপ দিতে পারেননি তাদের কোরিয়ান ডিফেন্ডার কিম সুং ইয়ব। তবে ২২ মিনিটে সমন্বিত আক্রমণ থেকে এগিয়ে যায় রূপায়ণ সিটি। ভারতীয় প্রদীপ মোরের হিট দিক পরিবর্তন করে দেন মিলন হোসেন। গোলমুখ থেকে তাতে মিমোর ফ্লিক জালে জড়ায়। পরের মিনিটেই ২-০ করেন জয়। তবে এই গোলে বড় অবদান কিম সুং ইয়বের। শুটিং সার্কেলের ভেতর থেকে এই কোরিয়ানের হিটে শেষ মুহূর্তে স্টিক ছুঁয়ে গোল করেন জয়। চার মিনিট পর অবশ্য ব্যবধান কমান মোনার্ক পদ্মার কৃষ্ণ কুমার। আল নাহিয়ান শুভ কাউন্টার অ্যাটাক থেকে শুটিং সার্কেলে ঢুকে আড়াআড়ি বল বাড়ান। তাতে ফ্লিক করে গোল করেন কৃষ্ণ। তৃতীয় কোয়ার্টারে অবশ্য দলের তৃতীয় চতুর্থ পিসির সুযোগ কাজে লাগান রূপায়ণ সিটির অধিনায়ক সবুজ। মিলনের পুশ সারোয়ার হোসেন থামানোর পর তাতে সবুজের ড্র্যাগ অ্যান্ড ফ্লিক লক্ষ্যভেদ করে। যদিও ৪২ মিনিট ও ৪৩ মিনিটে পরপর দু’গোল করে ম্যাচে ভালোভাবেই ফিরে আসে মোনার্ক পদ্মা। প্রথম পাওয়া পিসিতে গোলে পরিণত করেন দলটির জাপানিজ ডিফেন্ডার মিয়া তানিমিতসু। পরের মিনিটে প্রতি আক্রমণ থেকে জিমি বল বাড়ান সি জংকে। দ্রুত শুটিং সার্কেলের কাছাকাছি গিয়ে রিভার্স হিটে গোল করেন এই কোরিয়ান ফরোয়ার্ড।

শেষ কোয়ার্টারে মরিয়া আক্রমণে মোনার্ককে কোণঠাসা করে ফেলেছিল রূপায়ণ সিটি। ম্যাচ শেষ হওয়ার তিন মিনিট আগে সবুজের আরেকটি সফল পিসি রূপায়ণ সিটিকে এক ম্যাচ পর জয়ে ফেরায়। ম্যাচ শেষে অবশ্য মালয়েশিয়ান আম্পায়ার মোহাম্মদ রোহিজানের ওপর চড়াও হয়েছিলেন মোনার্কের অভিজ্ঞ মিডফিল্ডার রাসেল মাহমুদ জিমি। শেষ মুহূর্তে তাকে সবুজ কার্ড দেখানোয় ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন তিনি। যদিও সতীর্থরা তাকে আম্পায়ার পর্যন্ত পৌঁছতে দেননি। নইলে হয়তো মওলানা ভাসানী জাতীয় হকি স্টেডিয়ামে আরেকবার অঘটন ঘটিয়ে দিতেন মেজাজি জিমি।

দলকে দারুণ জয় পাইয়ে দেওয়া রূপায়ণ সিটির অধিনায়ক সবুজ হয়েছেন ম্যাচসেরা। আর স্বস্তির জয়ের প্রতিক্রিয়ায় দলটির সহকারী কোচ মশিউর রহমান বিপ্লব বলেন, ‘জয়ে ফেরাটাই ছিল চ্যালেঞ্জের। মোনার্ক আগের ম্যাচে অসাধারণ খেলে জিতেছিল। তারপরও শেষ পর্যন্ত সবুজের দুটি সফল পিসি আমাদের জিতিয়েছে। আসলে এক গতিতে চারটি কোয়ার্টার খেলাই একটু চ্যালেঞ্জিং। দেখা যাচ্ছে আমরা লিড নিচ্ছি তবে দ্রুতই তা হারিয়ে ফেলছি। এসব জায়গায় কাজ করার সুযোগ আছে।’

তবে এখনই ভুল শুধরানোর যথেষ্ট সময় পাবে না রূপায়ণ সিটি। আজই তাদের মাঠে নামতে হবে এখন পর্যন্ত আসরের অপরাজিত দল মেট্রো এক্সপ্রেস বরিশালের মোকাবিলায় ‘এরকম একটা প্রেসার গেম খেলার পরের দিনই আমাদের মেট্রোর মতো ধারাবাহিক দলের সঙ্গে খেলতে হবে। মাঝের সময়টাতে ছেলেদের রিকভারিতেই নজর দিতে হবে।’

আজ মাঠে নামার আগে অবশ্য একটা সুসংবাদ দিলেন বিপ্লব। রূপায়ণের হয়ে খেলতে গতকালই স্পেন থেকে ঢাকার বিমান ধরেছেন সে দেশের জাতীয় দলের সাবেক স্ট্রাইকার অ্যান্তোনিও সানজ। ২৬ বছর বয়সীর আজই ঢাকায় নামার কথা। এই স্ট্রাইকারকে দলটি আনছে তাদের ভারতীয় ডিরেক্ট সাইনার দর্শনের জায়গায়। বিপ্লবের বিশ্বাস অ্যান্তোনিওর অন্তর্ভুক্তি তাদের আক্রমণভাগের শক্তি বহুগুণে বাড়াবে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত