বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, ‘‘প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, ‘ঘোলা পানিতে মাছ শিকারের চেষ্টা চলছে’। আমি বলবো- ঘোলা পানিতে না। আপনাকে প্রকাশ্যে রাজপথে মানুষ মোকাবিলা করবে। আপনিতো এমনি একটা নড়বড়ে সিংহাসনের উপর বসে আছেন। আপনার সিংহাসনের চেয়ারের চার পা সেটা ধরে রেখেছেন বিদেশি প্রভু এবং আইনশৃঙখলাবাহিনী দিয়ে। এবার তিনি মনে করছেন এটাও মনে টিকবে না। গতকাল পার্লামেন্টে তিনি বলেছেন দেশে ক্রান্তিকাল চলছে। দেশের নয় আপনার সরকারের ক্রান্তিকাল চলছে। আপনাদের দুঃশাসনের বিরুদ্ধে জনগণ এখন ঐক্যবদ্ধ ও সংঘবদ্ধ।’’
রিজভী বলেন, ‘জনগণের উত্তাল মিছিলে আপনার সরকারের পতন ঘটবে। আপনি বরং আপনার প্রাসাদে কাসিমবাজার কুঠি নির্মাণ করেছেন। আপনি সেখানে বসে বিশ্বাসঘাতক ঘষেটি বেগমের ভূমিকা পালন করছেন। আপনি দেশের স্বাধীনতা, গণতন্ত্রকে হরণ করেছেন। ধ্বংস করেছেন। আপনি ঘষেটি বেগমের চেয়েও বড়। আপনার বিরুদ্ধে মানুষ প্রকাশ্যে মিছিলে স্লোগান দিচ্ছে। সে জন্যই মসনদকে উল্টে পড়া থেকে শেষবারের মতো ধরে রাখার চক্রান্ত করছেন।’
আজ বৃহস্পতিবার সকালে নয়া পল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে মহিলা দল আয়োজিত বিক্ষোভ পরবর্তী সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন।
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ও তার সহধর্মিণী ডা. জোবাইদা রহমানের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির প্রতিবাদে এই বিক্ষোভ মিছিল সমাবেশ হয়।
মহিলা দলের সভাপতি আফরোজা আব্বাসের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক সুলতানা আহম্মেদের পরিচালনায় এ সময় মহিলা দলের হেলেন জেরিন খান, নায়াবা ইউসুফ, শাহিনুর নার্গিস, মিসেস শামীমা রাহিমসহ বিভিন্ন স্তরের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। তারা তারেক রহমান দম্পতির বিরুদ্ধে পরোয়ানা প্রত্যাহারের দাবিতে বিভিন্ন স্লোগান দেন।
রিজভী সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে বলেন, অন্যায় ও ষড়যন্ত্রমূলকভাবে আমাদের প্রাণপ্রিয় নেতা দেশনায়ক তারেক রহমানের নামে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা দেয়া হয়েছে। যিনি অনেক দূরে থেকেও গোটা জাতিকে সুসংগঠিত করেছেন। সেই নেতাকে পরিকল্পিতভাবে টার্গেট করেছেন শেখ হাসিনা। শুধু তাকে নয়, এই অবৈধ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যে, কত নিষ্ঠুর ও কত অমানবিক তার উদাহরণ হলো দেশনায়ক তারেক রহমানের সঙ্গে তার সহধর্মিণী যিনি রাজনীতির সঙ্গে কোনো সম্পর্ক নেই। তার নামেও মিথ্যা ও চক্রান্তমূলক মামলা দিয়েছেন। কেন দিয়েছেন সেটা তিনিই জানেন।
এই মামলা চক্রান্তমূলক ও মিথ্যা। জনদৃষ্টিকে ভিন্নদিকে নেয়ার মামলা। মসনদকে উল্টে পড়া থেকে শেষবারের মতো ধরে রাখার চক্রান্ত। কিন্তু এবার জনগণ চূড়ান্ত আঘাত হানবে। তারা আপনার সিংহাসন ধরে টান দেবে।
তিনি বলেন, আজকে আমাদের সমাবেশ ঠেকাতে ছাত্রলীগ, যুবলীগকে লেলিয়ে দিয়েছেন। বিএনপির সমাবেশে যাতে লোকজন না হয়। বিএনপি ও লোকজনকে আঘাত করার জন্য। তারপরও মানুষ পায়ে হেঁটে, নদী সাঁতরে, সাইকেল নিয়ে চিড়া-মুড়ি বেঁধে নছিমন-করিমন-ভটভটিতে করে জনগণ সমাবেশে যাচ্ছে।
‘তিনি বাস বন্ধ করে দিলেন, অন্য যানবাহন বন্ধ করেও বিএনপির জনসভায় এতো লোক হচ্ছে কেনো? ৬৫ কিলোমিটার পথ হেঁটে সমাবেশে যোগ দিয়েছেন বাগেরহাটের একজন। মোস্তাফিজুর রহমান সোহেল অসুস্থ অবস্থায় রংপুরের সমাবেশে স্ট্রোক করে মারা গেছেন। এসব দেখে শেখ হাসিনা ভাবছেন, তিনি তো নড়বড়ে সিংহাসনে বসে আছেন। বিদেশি প্রভু ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী দিয়ে সেই চেয়ারের চারটি খুঁটি ধরে রেখেছেন।’
