ডিউক বলেও নাবিলের ঘূর্ণিজাদু

আপডেট : ০৪ নভেম্বর ২০২২, ১১:২৪ পিএম

দেশের প্রথম শ্রেণিতে এই প্রথম ডিউক বলের ব্যবহার। এই বল নাকি পেসারদের হাতে পোষ মানে ভালো। পেসবান্ধব উইকেটে তারা হয়ে ওঠেন ভয়ংকর। জাতীয় লিগের ২৪তম আসরে বগুড়া ও মিরপুরে হওয়া ম্যাচে সেই প্রমাণ মিলেছেও। তার মানে পেসাররা এবার রাজত্ব করবেন, সেরা উইকেটশিকারি হওয়ার লড়াইয়ে নামবেন। কিন্তু চতুর্থ রাউন্ড শেষে ওই তালিকায় চোখ রাখলে সবার ওপরে দেখা মিলবে একজন স্পিনারের। ঘরোয়া ক্রিকেটে পরিচিত মুখ এই বাঁহাতি স্পিনার চার ম্যাচ শেষে ২৫ উইকেট নিয়ে শীর্ষে। দ্বিতীয় স্থানে অবশ্য একজন পেসারই আছেন। তবে নাবিলের চেয়ে ঢাকা বিভাগের সুমন খান ১৯ উইকেট নিয়ে একটু দূরে।

চট্টগ্রাম বিভাগের সঙ্গে বৃহস্পতিবার শেষ হওয়া ম্যাচটি নাবিলের ক্যারিয়ারের শততম ম্যাচ এই ফরম্যাটে। এমন মাইলফলকের মৌসুমে সেরা উইকেটশিকারি হওয়াটাই যথাযথ। তার জন্য নাবিলকে আরও দুই রাউন্ড একই ধারায় এগোতে হবে। নাবিলের বিশ্বাস পারবেন। তার সফলতার কারণ যে বেশ কিছুর মিলিত ফল। কিছুটা ভাগ্য, কিছুটা ফর্ম ও নিজের চেষ্টার মিশেলে দারুণ সফল এই স্পিনার। ডিউক বল হাতে পাওয়ায় নিজেকে করেছেন আরও কার্যকর। দেশ রূপান্তরকে জানালেন সিমে হিট করার কৌশলে এবার ভালো করছেন, ‘ডিউক বল পেসারদের জন্য ভালো। আবার সব বোলারের জন্যও। যে মাঠগুলোতে আমি খেলেছি সবগুলোই ফ্ল্যাট উইকেট ছিল। আমি একটা কৌশল চেষ্টা করেছি। এই বলটা অনেকক্ষণ শক্ত থাকে, ২০ ওভার পরও স্পিনারদের হেল্প করে। সিম খাড়া থাকায় (বল করার সময়) সিমে হিট করার চেষ্টা করেছি। এতে টার্ন পেয়েছি। এটা একটা পরিকল্পনা ছিল। এছাড়া সবসময় যা ছিল তাই, ভালো জায়গায় বল করা। ব্যাটারদের দুর্বলতা খুঁজে সেই জায়গায় ফেলা, লম্বা সময় একই জায়গায় বল করা এগুলোই।’

নাবিল এবার সিলেটের হয়ে প্রথম ম্যাচ খেলেছেন চট্টগ্রামের বিপক্ষে চট্টগ্রামে। ম্যাচের প্রথম ইনিংসে ৫ ও দ্বিতীয় ইনিংসে নেন ৪ উইকেট। পরের ম্যাচে সাভারে ঢাকা বিভাগের সঙ্গে ৫ ও ২ উইকেট। বৃষ্টিবঘ্নিত তৃতীয় রাউন্ডে রংপুরের বিপক্ষে এক ইনিংস বল করে পান ১ উইকেট। আর চতুর্থ রাউন্ডে চট্টগ্রামের সঙ্গে ফিরতি দেখায় সিলেটে নিয়েছেন ৫ ও ৩ উইকেট। নাবিল এখন বগুড়া বা মিরপুরের পেসবান্ধবে উইকেটে ভালো করার চ্যালেঞ্জ নিতে চান, ‘ফর্মের কারণেও এবার ভালো হচ্ছে বলতে পারেন। না হলে এতগুলো উইকেট তো নিতে পারতাম না। তবে যে মাঠগুলোয় খেলেছি সব তো ফ্ল্যাট পিচের। বগুড়া-মিরপুরে পেসারদের পিচ। ওখানে ভালো করতে পারলে তখন বলব যে চ্যালেঞ্জ জিতেছি।’ নাবিলের চ্যালেঞ্জ নেওয়ার অপেক্ষা বেশি দূরে নয়। ১৪ নভেম্বর থেকে বগুড়ায় শেষ রাউন্ডে রংপুরের বিপক্ষে খেলবে সিলেট। 

ঘরোয়া ক্রিকেটে নাবিল পুরনো মুখ। ২০০৬ অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ খেলা এ স্পিনার ২০০৩ থেকেই খেলছেন প্রথম শ্রেণি ও ঢাকা প্রিমিয়ার লিগ। কিপটে বোলার হিসেবে তার সুনাম আছে। ২০১০ থেকে টি-টোয়েন্টিতে ৬.৬০ ইকোনমিতে ৭৭ ম্যাচে নিয়েছেন ৫৮ উইকেট। লিস্ট ‘এ’-তে ৪.১২ ইকোনমিতে ১৩২ ম্যাচে ১৬০ ও প্রথম শ্রেণিতে ১০০ ম্যাচে নিয়েছেন ৩৩৭ উইকেট। অথচ গত পাঁচ বছরে প্রথম শ্রেণি থেকে দূরেই সরে গিয়েছিলেন এ স্পিনার। চার বছর লম্বা ফরম্যাট খেলেননি। গত বছর চট্টগ্রামের হয়ে খেলেছেন এক ম্যাচ। এবার নিজের দল সিলেটে ফিরে ছন্দ পেয়েছেন যেন। তবে এই ছন্দে ৩৬ বছর বয়সী স্পিনার স্বপ্ন পূরণের আশা করছেন না। স্বপ্নটা অবশ্যই জাতীয় দলে খেলার। নাবিল জানেন বাস্তবতাটাও, ‘জাতীয় দলে খেলার স্বপ্ন তো সবসময়ই থাকে। সব ক্রিকেটার অবসর নেওয়ার আগ পর্যন্ত তা ধরে রাখে। কিন্তু বাস্তবতাটাও দেখতে হবে। বাংলাদেশে এমন নজির নেই যে আমি যে বয়স বা পর্যায়ে আছি সেখান থেকে জাতীয় দলে সুযোগ পাওয়া। আমি তো আগেও জাতীয় দলে সুযোগ পাইনি। তো এই বয়সে সুযোগ পাব এই রকম নজির নেই। তাই বাস্তবতা মেনে নিচ্ছি।’

জাতীয় দলের স্বপ্ন পূরণ না হলেও সিলেটের হয়ে প্রথম জাতীয় লিগ জয়ের স্বপ্ন পূরণ করতে চান নাবিল। টায়ার-১-এ সিলেট চার রাউন্ড শেষে ২১ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে আছে। বাকি দুই রাউন্ডে এই শীর্ষস্থান আগলে রাখলে প্রথমবার জাতীয় লিগ শিরোপা যাবে সিলেটে। নাবিলরা অবশ্য পারফরম্যান্সটা আগে ঠিক রাখতে চাইছেন, ‘আমরা এ বছর চ্যাম্পিয়ন হলে অবশ্যই বিশাল অর্জন হবে। চতুর্থ রাউন্ডে যদি জিততে পারতাম তাহলে আরও এগিয়ে যেতাম। তবে এখনো আমরা টপে আছি, চেষ্টা থাকবে এই ধারাটা রেখে পরের দুটো ম্যাচ খেলা। শিরোপা জেতার হলে এমনিতেই হবে। তার আগে নিশ্চিত করতে হবে যেন আমাদের পারফরম্যান্সের দিকটা ঠিক থাকে।’ 

সিলেটের সঙ্গে নাবিল। যেভাবে ছুটছেন, সেই গতি ধরে রাখলে ১৮ নভেম্বর বগুড়ায় হতে পারে সিলেটের প্রথম জাতীয় লিগ শিরোপা উৎসব।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত