সুয়ারেজ-কাভানিদের নিয়ে শেষ বিশ্বকাপে উরুগুয়ে

আপডেট : ০৪ নভেম্বর ২০২২, ১১:২৫ পিএম

ফুটবল বিশ্বকাপের প্রথম আসর ১৯৩০ সালে হয়েছিল উরুগুয়েতে। ১৩ দলের টুর্নামেন্টে চ্যাম্পিয়নও হয়েছিল স্বাগতিকরা। পরের দুই বিশ্বকাপে অবশ্য উরুগুয়ে অংশ নেয়নি। তার মূলেও ওই শুরুর বিশ্বকাপের ঘটনাই। ১৯৫০-এ আবার বিশ্ব আসরের মঞ্চে ফিরেই চ্যাম্পিয়ন। এরপর আরও ১১ বিশ্বকাপে অংশ নিলেও মাত্র তিনটিতে সেমি পর্যন্ত যায় উরুগুয়ে। ৫০’র পর থেকে দুইবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের সাফল্য আটকে আছে নিজ মহাদেশীয় কোপা আমেরিকা সাফল্যেই।

১৯৩০-এর ফাইনালে দুই গোলে পিছিয়ে থেকেও আর্জেন্টিনাকে ৪-২ গোলে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয় উরুগুয়ে। ১৯৫০ সালে ব্রাজিলকে কাঁদিয়ে ইতিহাসের একমাত্র ফাইনালহীন ফুটবল বিশ্বকাপটা জেতে দ্য স্কাই ব্লুরা। ১৯৫০-এর বিশ্বকাপে ফাইনাল রাউন্ডে ছিল চারটি দেশ। সেখানে একে অপরের মুখোমুখি হওয়ার পর শীর্ষ দল চ্যাম্পিয়ন হবে এমনই ছিল ফরম্যাট। শেষ ম্যাচে ড্র করলেই চ্যাম্পিয়ন হতো ব্রাজিল। কিন্তু উরুগুয়ের কাছে হেরে যায় সেলেসাওরা। উরুগুয়ে জিতেছিল ২-১ গোলে। তিন ম্যাচে দুই জয়, এক ড্রতে পাঁচ পয়েন্টে শীর্ষে থেকে চ্যাম্পিয়ন হয় উরুগুয়ে। চার পয়েন্টে দুইয়ে থেকে রানার্সআপ ব্রাজিল।

বর্তমানে র‌্যাংকিংয়ে ১৪ নম্বরে আছে উরুগুয়ে। তবে বিশ্বকাপ বাছাইয়ে দক্ষিণ আমেরিকা অঞ্চলে তাদের পারফরম্যান্স তেমন ভালো হয়নি। তৃতীয় হয়ে বিশ্বকাপ নিশ্চিত করলেও আঠারো ম্যাচের ছয়টি হেরেছে। বিশ্বকাপ বাছাইয়ে খারাপ ফলাফলের কারণেই দলটির কোচও বদল হয়। গেল ১৫ বছরে এবারই প্রথম বিশ্বকাপে দলটির কোচের দায়িত্বে থাকছেন না অস্কার তাবারেজ। উরুগুয়েতে তাকে ডাকা হয় মায়েস্ত্রো নামে। ফরোয়ার্ড লুইস সুয়ারেজ ও এডিনসন কাভানি কাতারেই খেলবেন ক্যারিয়ারের শেষ বিশ্বকাপ তা বয়স বিবেচনায় বলাই যায়। সব মিলিয়ে উরুগুয়েকে কাতারে বিশ্বকাপজয়ী হিসেবে খুব কম মানুষই ভাববে।

উরুগুয়ের শীর্ষ দুই গোলদাতা সুয়ারেজ (১৩৪) ও কাভানি (১৩২)। ক্লাব পর্যায়ে বর্তমানে সুয়ারেজ খেলছেন ন্যাসিওনালে। সেখানে সুয়ারেজ ১৩ ম্যাচে করেছেন ৫ গোল। বিশ্বকাপে সুয়ারেজের গোল সাতটি। কাতারে সুযোগ পেয়ে দুটি গোল করলে বিশ্বকাপে দেশের হয়ে সর্বোচ্চ গোল করা অস্কার মিগুয়েজকে ছাড়িয়ে যাবেন। কাভানি ভ্যালেন্সিয়াতে আছেন। চার ম্যাচে করেছেন দুই গোল।

আক্রমণে এ দুই অভিজ্ঞর সঙ্গে থাকবেন ২৩ বছরের স্ট্রাইকরা ডারউন নুনেজ। লিভারপুল এই মৌসুমেই তাকে দলে টানে। এছাড়া সেন্ট্রাল মিডফিল্ডে রিয়ালে খেলা ফেদে ভালভার্দে, টটেনহ্যামে থাকা রদ্রিগো বেনতাকুর আছেন। তরুণ ডিফেন্ডার রোনাল্ড আরোহ আছেন ইনজুরিতে। অভিজ্ঞ ডিফেন্ডার ডিয়েগো গোডিনের নেতৃত্বে বাকিরা কেমন করেন সেটি হবে দেখার বিষয়। সবশেষ সেপ্টেম্বরে ফিফা উইন্ডোতে কানাডার বিপক্ষে জিতলেও হেরেছে ইরানের সঙ্গে। ইরান ১-০তে হারিয়েছিল উরুগুয়েকে। কানাডার বিপক্ষে উরুগুয়ের জয়টা ছিল ২-০ ব্যবধানে। তার আগে জুনে মেক্সিকো ও পানামাকে হারালেও যুক্তরাষ্ট্রের বিপক্ষে গোলশূন্য ড্র করে। মেক্সিকো এবং পানামার বিপক্ষে জোড়া গোল করেছিলেন কাভানি। উরুগুয়ের কোচ ডিয়েগো আলোনসো ম্যাচগুলোতে ভিন্ন ভিন্ন ফরমেশনে খেলিয়েছেন দলকে।

এক যুগ আগে ২০১০ বিশ্বকাপে দারুণ খেলেছিল উরুগুয়ে। গ্রুপপর্বে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পর তারা গিয়েছিল সেমি পর্যন্ত। সেমিফাইনালে উরুগুয়ে হেরেছিল নেদারল্যান্ডসের কাছে। পরে জার্মানির কাছে হেরে চতুর্থ হয়েছিল উরুগুয়ে। তবে ওই বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে ঘানার বিপক্ষে উরুগুয়ের জয়টা আজও অনেকের মনে দাগ কাটে। খেলা ছিল ১-১ সমতায়, লুইস সুয়ারেজ গোল লাইনে হাত দিয়ে বল ঠেকিয়ে লাল কার্ড দেখেছিলেন। পরে পেনাল্টি মিস করেছিলেন ঘানার আসামোহ জিয়ান। সেই ঘানা এবার উরুগুয়ের গ্রুপসঙ্গী। জিয়ান তো বলেই রেখেছেন সুযোগ পেলে ওই হারের বদলা নিতে চান তিনি।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত