গ্রুপ-১ এর সমীকরণ যা হওয়ার ছিল তাই হয়েছে। জয়ের মাধ্যমে নিউজিল্যান্ড প্রথম দল হিসেবে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সেমিফাইনাল নিশ্চিত করেছে। জিতেছে এই গ্রুপ থেকে সেমির স্বপ্ন দেখা অস্ট্রেলিয়াও। তাতে স্বাগতিকদের শেষ চারের স্বপ্নটা টিকে আছে। কিন্তু স্বপ্ন সত্যি হওয়ার ব্যাপারটা আটকে আছে অন্য জায়গায়। আজ শ্রীলঙ্কা-ইংল্যান্ড ম্যাচের জয়-পরাজয় নিশ্চিত করবে বর্তমান চ্যাম্পিয়নদের টিকে থাকা। লঙ্কা জিতলে অস্ট্রেলিয়া শেষ চারে, ইংল্যান্ড জিতলে ঘরের মাঠেই দর্শক হয়ে থাকবে তারা। কাল নিজেদের ম্যাচে অনায়াসে জিতেছে নিউজিল্যান্ড। অথচ হারতে বসেছিল অস্ট্রেলিয়া। আফগানদের বিপক্ষে তাদের জয় মাত্র ৪ রানের। অল্পের জন্য ম্যাচ হেরে আগেই বিশ্বকাপ থেকে ছিটকে পড়া আটকিয়েছে স্বাগতিকরা। অ্যাডিলেডে আগে ব্যাট করে ৮ উইকেটে ১৬৮ রান তোলে অস্ট্রেলিয়া। জবাবে রশিদ খানের ঝড়ো ইনিংসে ৭ উইকেটে ১৬৪ করে প্রায় জিতেই গিয়েছিল আফগানরা। ওদিকে আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে কিউইদের জয় ছিল সহজ। কেন উইলিয়ামসনের হাফসেঞ্চুরিতে ৬ উইকেটে ১৮৫ রান করে নিউজিল্যান্ড। জবাবে আইরিশরা ৯ উইকেটে ১৫০ রানে আটকে যায়।
চোখ রাখা যাক গ্রুপ-১ এর পয়েন্ট তালিকায়। নির্ধারিত ৫ ম্যাচ খেলেছে নিউজিল্যান্ড ও অস্ট্রেলিয়া। গতকাল ম্যাচ জিতে তাদের দুই দলই ৭ পয়েন্ট নিশ্চিত করেছে। নিউজিল্যান্ডের রান রেট ২.১১। এই রান রেটে কিউইরা নিরাপদ। তাই সেমিফাইনাল স্পটও নিশ্চিত তাদের। তবে অস্ট্রেলিয়া ৭ পয়েন্ট পেলেও আটকে আছে রান রেটে। তাদের সংগ্রহ -০.১৭। এক ম্যাচ কম খেলে ৫ পয়েন্ট পাওয়া ইংল্যান্ডের রান রেট ০.৫৪। ৪ ম্যাচ খেলা শ্রীলঙ্কার ৪ পয়েন্ট ও রান রেট -০.৫৪। এই অবস্থায় লঙ্কানদের হারালেই পজিটিভ রান রেট নিয়ে ৭ পয়েন্টে সেমিফাইনাল নিশ্চিত করবে ইংল্যান্ড। তবে শ্রীলঙ্কা জিতে গেলে শেষ চারে যাবে অস্ট্রেলিয়া। তখন শ্রীলঙ্কার ৬ পয়েন্ট হলেও ৭ পয়েন্টে থাকা স্বাগতিকদের টপকাতে পারবে না তারা।
অস্ট্রেলিয়া তাই আজ পুরোদস্তুর লঙ্কান সমর্থক। তার আগে নিজেদের কাজটা সেরে রেখেছে জয় দিয়ে। আফগানদের বিপক্ষে জয় সহজ ছিল না তাদের। গ্লেন ম্যাক্সওয়েল সময়মতো ব্যাট হাতে না দাঁড়ালে হার নিশ্চিত ছিল দলটির। শেষ পর্যন্ত অপরাজিত থেকে ৩২ বলে ৬ চার ও ২ ছক্কায় ৫৪ রানে অপরাজিত ছিলেন ম্যাক্সওয়েল। এর আগে স্টয়েনিস ২১ বলে করেন ২৫ আর মিচেল মার্শ ৩০ বলে ৪৫ করেন। জবাবে একটি জয়ের শেষ চেষ্টাটা দারুণভাবেই করেছে আফগানিস্তান। ২৩ বলে ৪ ছক্কা ও ৩ চারে ৪৮ রানে অপরাজিত রশীদ খান দলকে জিতিয়েই দিচ্ছিলেন। নিজের ব্যাটিং সামর্থ্য আরও একবার দেখালেও শেষ পর্যন্ত হারের হতাশাই সঙ্গী হয়েছে তার। রশীদের সঙ্গে গুলবাদিন নাইব ২৩ বলে ৩৯ ও ইব্রাহিম জাদরান ৩৩ বলে ২৬ রানে লড়েছেন। বিশ্বকাপের সুপার টুয়েলভে জিততে ব্যর্থ হওয়া একমাত্র দল হয়ে থাকল আফগানরা।
নিউজিল্যান্ড ম্যাচে চলতি আসরের দ্বিতীয় হ্যাটট্রিক চলে এলো। এই কীর্তি গড়লেন আয়ারল্যান্ডের জশ লিটল। নিউজিল্যান্ডের ইনিংসের ১৯তম ওভারে কেন উইলিয়ামসন, জেমস নিশাম ও মিচেল স্যান্টনারকে ফিরিয়েছেন এই পেসার। তাতে বিশ্বকাপ ইতিহাসে হ্যাটট্রিক তালিকায় ষষ্ঠ বোলার হয়ে গেলেন জশ। অবশ্য লিটলকে ছাপিয়ে ম্যাচের নায়ক উইলিয়ামসন। পাওয়ার প্লেতে ফিন অ্যালেন (৩২) ও ডেভন কনওয়ের (২৮) উড়ন্ত সূচনা উইলিয়ামস টেনে নেন। ১৯তম ওভারে ফেরার আগে ৩৫ বলে ৫ চার ও ৩ ছক্কায় করেন ৬১। লোয়ার অর্ডারে ড্যারেল মিচেল ২১ বলে ৩১ করে নিউজিল্যান্ডকে দুইশ’র কাছে নিয়ে যান। বড় রান তাড়ায় নেমে রানের গতি ছোটাতে পারেনি আয়ারল্যান্ড। পল স্টারলিং ৩৭, বলবার্নি ৩০ ও নিচের দিকে জর্জ ডকরেল ২৩ রান করে চেষ্টা করেছেন।
গতবারের দুই ফাইনালিস্ট একসঙ্গেই জিতেছে। নিউজিল্যান্ড গতবারের আক্ষেপ মেটানোর সুযোগ পেয়েছে সেমিফাইনালে পা দিয়ে। এদিকে আজ ইংল্যান্ড না হারলে অস্ট্রেলিয়ার গন্তব্য শেষ হবে গ্রুপ পর্বেই।
