গাড়ির বিষাক্ত গ্যাসের কারণেই গাজীপুরের শিক্ষক দম্পতির মৃত্যু হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে নিশ্চিত হয়েছে পুলিশ। তবে এখনো ভিসেরা রিপোর্টের জন্য অপেক্ষা করা হচ্ছে। একটি বিড়াল দিয়ে পরীক্ষার মাধ্যমে পুলিশ প্রাথমিকভাবে মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত হয়।
শিক্ষক দ¤পতি যে প্রাইভেট কারটি ব্যবহার করেছিলেন সম্প্রতি সে গাড়িতে একটি বিড়াল রেখে এসি ছেড়ে দরজা বন্ধ করে দেওয়া হয়। ১০-১২ মিনিট পর বিড়ালটি দুর্বল হয়ে পড়ে। ২৫-২৬ মিনিট পর বিড়ালটি মারা যায়। শিক্ষক দ¤পতিও স্কুল থেকে রওনা দেওয়ার পর যে স্থান থেকে লাশ উদ্ধার করা হয় সেই দূরত্বটিও ছিল আনুমানিক একই সময়ের। এই পরীক্ষা থেকে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, শিক্ষক দ¤পতির মৃত্যু বিষাক্ত গ্যাস থেকেই হয়েছে।
গত বৃহস্পতিবার বিকেলে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা গাছা থানার এসআই নাদির-উজ্জামান এসব কথা জানিয়ে বলেন, এখন জব্দ করা আলামতের পরীক্ষা-নিরীক্ষা চলছে। গাছা থানার ওসি ইব্রাহীম হোসেন বলেন, ‘এটি আমরা এখনই প্রকাশ করতে চাচ্ছি না। আরও পরীক্ষা-নিরীক্ষার ফল পাওয়া গেলেই বিষয়টি আমরা নিশ্চিত হতে পারব।’
গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজের ফরেনসিক বিভাগের প্রধান মো. শাফি মোহাইমেন বলেন, এখন পর্যন্ত নিহতদের ভিসেরা প্রতিবেদন আসেনি। যার কারণে ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনও দেওয়া হয়নি। প্রতিবেদন কবে আসবে সেটিও সঠিক করে বলা যাচ্ছে না। তবে এসব পরীক্ষার জন্য সর্বোচ্চ তিন মাস সময় লাগে।
গাছা থানা পুলিশ জানায়, বিভিন্ন সংস্থার আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত ও আলামত সংগ্রহ করেছে। বিভিন্ন স্থান থেকে সিসি ক্যামেরার ফুটেজ সংগ্রহ করেছে। কিন্তু কোথাও ক্লু পাওয়া যায়নি।
পুলিশ জানায়, গাজীপুর সিটি করপোরেশনের খাইলকুর এলাকা থেকে গত ১৮ আগস্ট ভোরে ব্যক্তিগত গাড়ি থেকে শিক্ষক দ¤পতির লাশ উদ্ধার করা হয়। তাদের মুখ দিয়ে সামান্য লালা বের হওয়া ছাড়া আর কোনো আঘাতের চিহ্ন ছিল না। দুই মাসের বেশি সময় ধরে থানা পুলিশ, গোয়েন্দা পুলিশ, পিবিআই, সিআইডি, র্যাব-১সহ বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাটি তদন্ত করে আসছেন।
গত ১৭ আগস্ট গাজীপুরের কামাড়জুরী এলাকার বাসিন্দা গাজীপুর টঙ্গীর শহীদ স্মৃতি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক এ কে এম জিয়াউর রহমান (৫১) ও তার স্ত্রী টঙ্গীর আমজাদ আলী সরকার বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মাহমুদা আক্তার (৩৫) স্কুলে গিয়ে সন্ধ্যায় বাড়ির উদ্দেশে রওনা দিয়ে নিখোঁজ হন। পরদিন ভোরে তাদের ব্যবহৃত ব্যক্তিগত গাড়ি থেকে মৃতদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
ঘটনার এক দিন পর নিহতের বড় ভাই স্কুলশিক্ষক আতিকুর রহমান বাদী হয়ে অজ্ঞাত ব্যক্তিদের আসামি করে হত্যা মামলা করেন।
