সবার শতভাগ চেষ্টার পরও হারটা দুর্ভাগ্যজনক : শান্ত

আপডেট : ০৬ নভেম্বর ২০২২, ০৫:৪৪ পিএম

এবারের বিশ্বকাপটা শুধুই অঘটনের। সেটা আরও প্রমাণ করলো নেদারল্যান্ডস। সকালে তারা দক্ষিণ আফ্রিকাকে ১৩ রানে হারিয়ে চমকে দিয়েছে ক্রিকেট বিশ্বকে। তাদের সেই জয় আশীর্বাদ হয়ে এসেছিল বাংলাদেশের জন্য। সমীকরণটা একদম জলের মতো পরিষ্কার হয়ে গিয়েছিল, পাকিস্তানকে হারালেই নিশ্চিত হবে সেমিফাইনাল। কিন্তু সেই সুযোগ কাজে লাগাতে পারলেন না টাইগার ক্রিকেটাররা। বাবর আজমদের কাছে হেরে বিশ্বকাপ থেকে ছিটকে গেছে তারা। সঙ্গে যুক্ত হয়েছে, আগামী বছরে বাছাইপর্বে নেমে যাওয়ার হতাশা।  

ম্যাচ শেষে তাই আক্ষেপের সুর শোনা গেল নাজমুল হোসেন শান্তর কণ্ঠে। আজ অ্যাডিলেড ওভালের সংবাদ সম্মেলন কক্ষে বাংলাদেশের হয়ে অর্ধশত রানের ইনিংস খেলা এই ব্যাটসম্যান শোনালেন পুরনো সেই ‘আরও কিছু রান পেলে’ লাইনটা।

একটা সময় বাংলাদেশ ম্যাচ হারের পর শোনা যেত এই লাইনটা, ‘অন্তত ২০ রান কম হয়েছে।’ আজও ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে এসে একই সুরে শান্ত বলেন, ‘আমার মনে হয় উইকেটটা আজকে ১৪০ বা ১৫০ রানের ওরকমই ছিল। আমরা বুঝছিলাম যে আমার শেষ করাটা একটা গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপার ছিল। যেটা আমি করতে পারিনি। ওই জন্য একটু আফসোস লাগছে। কিন্তু তারপরেও আমি বলবো যে শেষের যে ব্যাটসম্যানরা ছিল, তারা আরেকটু যদি ভাল করতে পারতেন, তাহলে আরও প্রতিযোগিতামূলক ম্যাচ হতো।’

নিজে ৫৪ রানের ইনিংস পেলেও খেলেছেন ৪৮টি বল। যার মধ্যে ১৯টি ছিল ডট বল। তাই নিজের এই ইনিংসটি আলাদা করে সেরা মানতে নারাজ শান্ত মনে করেন, পুরো দলের ব্যাটিং পারফরম্যান্সই হতাশাজনক। বাঁহাতি এই ওপেনার তাই বলেন, ‘না আমার মনে হয় লোয়ার মিডল অর্ডার বলে কোনো কথা নেই। পুরো দল হিসেবে ভালো খেলিনি, আর যে দুটি ম্যাচে জিতেছি সেগুলোতে আমরা পুরো দল হিসেবে ভালো খেলছি। লোয়ার মিডল অর্ডার বা মিডল অর্ডার বা ওপেনার মানে এটা সবারই দায়িত্ব যে ভাল করা। তাই আমরা দল হিসেবে হয়তো আজকের ম্যাচটা ভালো করতে পারিনি।’

আগের ম্যাচে ভারতের বিপক্ষে দাপট দেখিয়েছিল বাংলাদেশ। প্রথমে লিটন দাস শুরু করেছিলেন দুর্দান্ত, আর শেষ বেলায় সোহানের ঝড়। তবে মিডল অর্ডাররা সেদিন ভালো কিছু করতে না পারায় হারের তিক্ত স্বাদ পেতে হয়েছে তাদের। তবুও আগের ম্যাচের লড়াইটা অনুপ্রেরণা হিসেবেই কাজ করেছিল টাইগারদের। তাই তো মাঠে নামার পাকিস্তানের বিপক্ষে জয়ের সংকল্প ছিল। কিন্তু একই ভুলের মাশুল যখন আবারও দিতে হলো টাইগারদের তখন হতাশা তো গ্রাস করবেই ক্রিকেটারদের।

দুই জয় পেলেও হতাশাতেই বিশ্বকাপ মিশন শেষ টাইগারদের। শেষ ম্যাচে বোলারদের ভুগিয়েছে মিডল অর্ডারের বর্থতা। যেখানে ছিল না লড়ে যাওয়ার ছিটেফোঁটা মানসিকতাও। তবুও নিজেরা শতভাগ দিয়েই চেষ্টা করেছেন বলে দাবি শান্তর। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘দেখুন, সবাই জিততে চায়। টিম ম্যানেজমেন্ট এবং আমরা সবাই  জিততে চেয়েছি। এই সুযোগটা নেওয়ার চেষ্টা করেছিলাম। সবাই শতভাগ চেষ্টা করেছে। তবে দুর্ভাগ্যজনকভাবে হয়নি। কিন্তু আমরা সবাই মন থেকেই শতভাগ দেওয়ার চেষ্টা করেছি।’

লিটনের সঙ্গে শান্ত উদ্বোধনী জুটিটা বড় হয়নি। কিন্তু ছিল আগ্রাসী ক্রিকেটের ছাপ। তাতে দুর্দান্ত শুরু পায় বাংলাদেশ। কিন্তু মিডল অর্ডারের ব্যাটাররা সে ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে পারেননি। তাতে আরও একবার হতাশা নিয়েই বিশ্বকাপ শেষ হয়েছে বাংলাদেশের। যদিও ১৫ বছর পর টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের মূল পর্বে জয় পেয়ে গর্বিত টাইগাররা। টেকনিক্যাল কনসালটেন্টের পর আজ সাকিবও যেন তৃপ্তির ঢেকুর তুললেন, আর একই সুরে সুর মিলিয়ে বললেন, ‘বিশ্বকাপে এটাই আমাদের সেরা সাফল্য।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত