চলচ্চিত্র, টিভি নাটক-টেলিফিল্ম, ওয়েব সিরিজ ও ওয়েব ছবির সাম্প্রতিক কাহিনীচিত্র ও অভিনয়ের পরিস্থিতি নিয়ে সংশ্লিষ্ট সব মাধ্যমের শিল্পী ও কর্তাব্যক্তিদের অংশগ্রহণে একটি সেমিনারের আয়োজন করেছে অভিনয়শিল্পী সংঘ বাংলাদেশ। গত শুক্রবার বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমিতে আয়োজিত এই সেমিনারের মূল নিবন্ধ উপস্থাপন করেন অভিনেতা-নির্মাতা তৌকীর আহমেদ। ‘জয়যাত্রা’খ্যাত এই নির্মাতা তার দীর্ঘ নিবন্ধে ১৮৯৮ সালে ঢাকায় প্রথম চলচ্চিত্র প্রদর্শনী থেকে শুরু করে এই সময়ের কাহিনীচিত্র ও অভিনয়ের বিবর্তনের ওপর আলোকপাত করেন। এক পর্যায়ে তিনি বলেন, ‘যেকোনো পেশার উন্নয়নের জন্য শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ অপরিহার্য। যার ধারেকাছেও নেই আমরা [অভিনয়শিল্পী ও নির্মাতারা]। নিয়মিত কর্মশালা তো দূরে থাক, ব্যক্তিগত পড়াশোনা বা দেখা ও অনুশীলনের অভাবও প্রকট। আবার তাকে কাজ করতে হয় স্বল্প বাজেটে, স্বল্প পারিশ্রমিকে। চাহিদা তাকে প্রতিদিন শ্যুটিং করতে বাধ্য করে। প্রতিদিন সেটে যাওয়া ও কোনোমতে সংলাপ উগড়ে দেওয়াটাই এখন রেওয়াজ হয়ে দাঁড়িয়েছে।’
‘সাম্প্রতিক কাহিনীচিত্র ও অভিনয় বাস্তবতা’ প্রসঙ্গে বলতে গিয়ে তৌকীর আহমেদ ঢাকাই চলচ্চিত্রে অভিনয়শিল্পের বিবর্তন, নির্দিষ্ট কিছু চরিত্র নিয়ে নাটকের গল্প তৈরি করা, আঞ্চলিক ভাষার সৌন্দর্য নষ্ট, টিভি চ্যানেলের অনিয়ম ও ওটিটির উত্থানের সঙ্গে ভালো অভিনয়শিল্পীদের কদর বাড়ার কথাও উল্লেখ করেন। দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, ‘স্বাধীনতার অর্ধশতক পেরিয়ে গেলেও দেশে এখনো কোনো অভিনয়ের স্কুল বা ইনস্টিটিউট হয়নি, যা হয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের কিছু নাট্যকলা বিভাগ।’
সেমিনারে অংশ নেন অভিনেতা মামুনুর রশীদ, তৌকীর আহমেদ, জাহিদ হাসান, তারিন জাহান, জয়া আহসান, চঞ্চল চৌধুরী, জিয়াউল ফারুক অপূর্ব, নরেশ ভুইয়া, তনিমা হামিদ, সাজু খাদেম, বৃন্দাবন দাস, এজাজ মুন্না প্রমুখ। বিভিন্ন মাধ্যমের সংগঠনের প্রতিনিধিদের মধ্যে ছিলেন অভিনয়শিল্পী সংঘের সভাপতি আহসান হাবিব নাসিম ও সাধারণ সম্পাদক রওনক হাসান, চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির সভাপতি ইলিয়াস কাঞ্চন, ডিরেক্টরস গিল্ডের সভাপতি সালাহউদ্দিন লাভলু, টেলিপ্যাবের সভাপতি মনোয়ার পাঠান, নাট্যকার সংঘের সভাপতি হারুন অর রশীদ, সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের সাধারণ সম্পাদক আহকামউল্লাহ প্রমুখ।
সেমিনারে আলোচনার বিভিন্ন পর্বে উপস্থিত অন্য শিল্পী, কলাকুশলীরাও তাদের বিভিন্ন ধরনের মতামত প্রকাশ করেন। অভিনেতা চঞ্চল চৌধুরী বলেন, ‘আমাদের মুখের মেরুদ- বাঁকা হয়ে গেছে। আর পিঠের মেরুদ-ের কথা বাদই দিলাম। আমরা আসলে যা কিছু বলি, তা করতে পারি না। বলে নয়, আমাদের করে দেখাতে হবে। তা না হলে শিল্পীরা ধ্বংস হয়ে যাবে।’
