নবম ওয়েজ বোর্ড

আয়কর গ্র্যাচুইটি নিয়ে মন্ত্রিসভার সুপারিশ অবৈধ

আপডেট : ০৭ নভেম্বর ২০২২, ০১:৪০ এএম

সংবাদপত্রকর্মীদের জন্য নবম ওয়েজ বোর্ডের প্রস্তাবিত আয়কর ও গ্র্যাচুইটি (আনুতোষিক) বিষয়ক মন্ত্রিসভা কমিটির সুপারিশকে অবৈধ বলে রায় দিয়েছে উচ্চ আদালত। ২০১৮ সালে নবম ওয়েজ বোর্ড গঠন করা হয়।

এ সংক্রান্ত রুল যথাযথ ঘোষণা করে বিচারপতি মো. আশফাকুল ইসলাম ও বিচারপতি মো. সোহরাওয়ার্দীর হাইকোর্ট বেঞ্চ গতকাল রবিবার এ রায় দেয়। হাইকোর্টের এ রায়ের ফলে সংবাদপত্রকর্মীদের আয়কর নিয়ে নবম ওয়েজ বোর্ড রোয়েদাদ কমিটির সুপারিশ বহাল থাকল এবং আয়কর সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের মালিকপক্ষকেই দিতে হবে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট আইনজীবীরা।

নবম ওয়েজ বোর্ডের জন্য সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি মো. নিজামুল হকের নেতৃত্বে ২০১৮ সালের ২৯ জানুয়ারি একটি কমিটি গঠন হয়। অংশীজনদের সঙ্গে আলোচনা ও পরামর্শ সাপেক্ষে সংবাদপত্রে কর্মরতদের বেতন-ভাতা ৮৫ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধির সুপারিশ করে ওই বছরের ২৮ অক্টোবর প্রতিবেদন দেয় কমিটি।

সুপারিশে সাংবাদিক, প্রশাসনিক কর্মচারী এবং প্রেস-শ্রমিকদের বেতনের ওপর আয়কর ফ্রিঞ্জ বেনিফিট (প্রান্তিক সুবিধা) হিসেবে সংবাদপত্র ও সংবাদ সংস্থার কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে প্রদেয় বলা হয়। একই সঙ্গে তাদের চাকরির ক্ষেত্রে সর্বশেষ প্রাপ্ত বেতনের ভিত্তিতে নির্ধারিত দুই মাসের মূল বেতনের সমপরিমাণ অর্থ গ্র্যাচুইটি হিসেবে প্রাপ্ত বলে সুপারিশ করে বোর্ড। ২০১৯ সালের ১২ সেপ্টেম্বর নবম ওয়েজ বোর্ড নিয়ে সরকারের গেজেটে মন্ত্রিসভা কমিটি দুটি সুপারিশ অন্তর্ভুক্ত করে। এতে বলা হয়, সাংবাদিক, প্রশাসনিক কর্মচারী ও প্রেস-শ্রমিকরা তাদের নিজ আয় থেকে আয়কর দেবেন এবং গ্র্যাচুইটি হিসেবে এক মাসের মূল বেতনের সমপরিমাণ অর্থ পাবেন।

মন্ত্রিসভা কমিটির সুপারিশের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থার (বাসস) এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের পক্ষে সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুজ্জামান ২০২০ সালের ২৩ নভেম্বর হাইকোর্টে রিট আবেদন করেন। ওই বছরের ২৫ নভেম্বর মন্ত্রিসভা কমিটির সুপারিশের বৈধতা নিয়ে রুল দেয় হাইকোর্ট। এর ধারাবাহিকতায় রুলের চূড়ান্ত শুনানি শেষে গতকাল এ রায় দেওয়া হয়।

আদালতে রিট আবেদনের পক্ষে শুনানিতে ছিলেন আইনজীবী ড. কাজী আকতার হামিদ। তাকে সহযোগিতা করেন অ্যাডভোকেট রেজাউল হক রেজা ও দিদারুল আলম দিদার। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল কাজী মাঈনুল হাসান।

অ্যাডভোকেট আকতার হামিদ দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘সংবাদপত্রে কর্মরতদের আয়ের বিপরীতে আয়কর দিত মালিকপক্ষ। সংবাদপত্রকর্মীরা তাদের দুই মাসের মূল বেতনের পরিমাণ গ্র্যাচুয়িটি সুবিধাও পেয়ে আসছিল। কিন্তু মন্ত্রিসভা কমিটির সুপারিশে এ দুই বিষয়ের কর্তন ওয়েজ বোর্ডের সুপারিশের সঙ্গে অসংগতিপূর্ণ। আদালতে আমরা যুক্তি তুলে ধরেছি। হাইকোর্টের রায়ের ফলে মন্ত্রিসভা কমিটির সুপারিশের বৈধতা নেই। কর্মরতদের আয়কর মালিকপক্ষকেই দিতে হবে।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত