রুপার্ট মারডক ৯১ নট আউট

আপডেট : ০৭ নভেম্বর ২০২২, ০৯:৪৬ পিএম

এ কি নাৎসি অধিগ্রহণ : ৯১ বছর বয়স তার শরীরের শক্তি যতটুকুই হরণ করুক না কেন স্ত্রী তালাকের ঘোষণা দিয়ে রুপার্ট নিজেও সংবাদ হয়েছেন। ফরিদ জাকারিয়ার টিভি শোতে এসেছিলেন আর এক ধনকুবের জর্জ সরোস। তিনি মন্তব্য করলেন, জার্মান ভাইমার রিপাবলিক যেমন নাৎসিরা অধিগ্রহণ করে নিয়েছিল, ঠিক সেভাবেই সবকিছু দখল করে নিচ্ছেন রুপার্ট মারডক। গণমাধ্যমের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ চলে জর্জ সরোসের টাকায়। তার কাছে রুপার্ট হয়ে উঠেছেন গণমাধ্যমের হিটলার। জর্জ সরোসের অর্থ বাড়লেও মিডিয়া জগৎ চলে গেছে রুপার্ট মারডকের দখলে।

দ্য ফোর্থ স্টেট : জেফ্রি আর্চারের দ্য ফোর্থ স্টেট উপন্যাসে দুজন মিডিয়া টাইকুন কিথ টাউনস্যান্ড ও রিচার্ড আর্মস্টং মূলত রুপার্ট মারডক ও রবার্ট ম্যাক্সওয়েল। রবার্ট ম্যাক্সওয়েল (১৯২৩-১৯৯১) ও রুপার্ট মারডকের বৈরিতা দীর্ঘদিনের। ম্যাক্সওয়েল মিরর পত্রিকা গ্রুপের মালিক, ১৯৯১-এর ৫ নভেম্বর প্রশান্ত মহাসাগরে তার প্রমোদতরী থেকে সমুদ্রে পড়ে মৃত্যুবরণ করেন। এ মৃত্যুকে কেউ মনে করেন হত্যা, কেউ আত্মহত্যা। ইহুদি ধর্মাবলম্বী ম্যাক্সওয়েলকে সমাহিত করা হয় জেরুজালেমের মাউন্ট অব অলিভে। কিথ ও রিচার্ড দুজন এ উপন্যাসটির প্রাণ। জেমস বন্ড সিরিজের টুমরো নেভার ডাইস-এর অন্যতম প্রধান চরিত্র এলিয়ট কার্ভার কারও মতে রুপার্ট মারডক, কেউ মনে করেন ম্যাক্সওয়েল।

৯১ নট আউট : ১১ মার্চ ২০২২ রুপার্ট মারডক ৯১ পেরোলেন। নট আউট, স্কোর নব্বইয়ের ঘরে এলেই নার্ভাস নাইনটির শোর ওঠে। তার ইনিংসটা যে শেষ হয়নি। বেশ খেলেছেন এত দিন। ৯১ বছর বয়সে রুপার্ট মারডক স্ত্রীকে তালাকের ঘোষণা দিয়ে সংবাদ হয়েছেন। তালাক ও পুনরায় বিয়েএ দুয়ের মধ্যবর্তী সময়টা অন্তত রুপার্টের বেলায় খুবই সংক্ষিপ্ত। মিডিয়া টাইকুন, মিডিয়া ম্যাগনেট, মিডিয়া মোগল কত কিছুই না বলা হয় তাকে। রুপার্ট মারডকের বাড়ি অস্ট্রেলিয়া, তার কোম্পানিটি আমেরিকান। নিয়ন্ত্রণ করেন যুক্তরাজ্য ও ইউরোপ, হাত প্রসারিত ভারতে। এ বুড়োকে আর থামায় কে? ‘দ্য সিম্পসনস’-এর সেই উক্তি ‘আমি রুপার্ট মারডক, দ্য বিলিয়নিয়ার টাইরেন্ট’স্বেচ্ছাচারী কোটিপতি। জর্জ সরোস বলেই ফেলেছেন, যে আগ্রাসন রুপার্টের তাতে তাকে একমাত্র হিটলারের সঙ্গেই তুলনা করা চলে। সে সময় রুপার্ট চীন দেশে বিনিয়োগ করেছেন বিলিয়ন ডলার। সবই গচ্চা গেছে। কিন্তু উঠিয়ে এনেছিলেন ওয়েন্ডিকে। ওয়েন্ডিই বলেছে, রুপার্টের অফুরন্ত প্রাণ ও শক্তি। কিন্তু সেই ওয়েন্ডিও থাকেননি। ১৪ বছর ঘর করে কড়ায়-গ-ায় পাওনা আদায় করে বিদায় নিয়েছেন। তাতে তার বয়েই গেল। তিনি ৮৪ বছর বয়সে ১ নভেম্বর ২০১৬ তারিখে ৫৯ বছরের মডেল জেরি হলকে বিয়ে করলেন। রকস্টার মিক জ্যাগারের সাবেক স্ত্রী জেরি দীর্ঘদিন রুপার্টের বাহুলগ্ন হয়ে থেকেছেন। কিন্তু জেরি ও রুপার্টের সংসারও ভাঙল। না ভাঙলে নতুন সংসার হবে কেমন করে! রুপার্টের প্রথম বিয়ে ১৯৫৬ সালে সাবেক দোকানি ও বিমানবালা প্যাট্রিসিয়া বুকারের সঙ্গে। রুপার্ট মাডরকের বয়স তখন ২৫। ১১ বছর টিকে ছিল এ সংসার। সেই সংসারে একটি মেয়ে প্রুডেন্স। তারপর স্ত্রী হয়ে এলেন সাংবাদিক আন্না টর্ভ, ১৯৬৭ থেকে ১৯৯৯ সংসারের মেয়াদ, সিডনির ডেইলি টেলিগ্রাফের শিক্ষানবিস সাংবাদিক স্কটিশ মেয়ে আনা ট্রোভের ঘরে তিন সন্তান এলিজাবেথ (১৯৬৮), ল্যাচলান (১৯৭১) এবং জেমস (১৯৭২)। তারপর বিচ্ছেদ। তালাক নিষ্পত্তিতে আনা ট্রোভ লাভ করেন ১ দশমিক ২ বিলিয়ন ডলারের সম্পত্তি। ওয়েন্ডির ঘরে দুই সন্তানগ্রেইস (জন্ম ২০০১) এবং শোলে (২০০৩), দুজনেরই জন্ম নিউ ইয়র্কে। সম্প্রতি তার চতুর্থ বিয়েবিচ্ছেদের ঘোষণা কৌতূহলও সৃষ্টি করেছে, তাহলে পঞ্চম স্ত্রী কে?

যত না ধনী তার চেয়ে বেশি ক্ষমতাশালী : ফোর্বস প্রকাশিত ধনী মানুষের তালিকায় রুপার্ট মারডক অনেক পেছনে পড়ে আছেন, ক্ষমতাশালী ব্যক্তিত্বের তালিকায় তিনি প্রথম কাতারে। ক্ষমতার যেসব সূচক ব্যবহার করা হয়ে থাকে, তা নিয়ে বিতর্ক রয়েছে। গর্ডন ব্রাউনকে যখন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী হিসেবে রুপার্ট পছন্দ করলেন না, পেইজ থ্রিখ্যাত দ্য সান (তৃতীয় পৃষ্ঠায় অর্ধনগ্নবক্ষ নারীই দ্য সানের ব্র্যান্ড) লিখে গেল তার বিরুদ্ধে। ব্রাউন অপসারিত হলেন। ডেভিড ক্যামেরন, রক্ষণশীল নেতা প্রধানমন্ত্রী হলেন। আগের রক্ষণশীল প্রধানমন্ত্রী জন মেজরের নির্বাচিত হওয়ার পেছনেও রুপার্ট মারডকের মিডিয়ার বিশেষ ভূমিকা ছিল। আবার শ্রমিক দলকে সমর্থন দিয়েছেন, যখন ব্লেয়ার প্রধানমন্ত্রী পদের জন্য নির্বাচন করেছিলেন। কার্যত রুপার্টের ক্ষমতা আরও বেশি, প্রয়োগ তেমন করেন না।

মেলবোর্ন থেকে যাত্রা : রুপার্ট মারডকের জন্ম অস্ট্রেলিয়ার মেলবোর্ন নগরে। বাবা স্যার কিথ মারডকের মালিকানায় বেশ কটি স্থানীয় পত্রিকা। বিত্তবান পরিবারের একমাত্র ছেলে রুপার্ট গ্রামার স্কুলে পড়েছেন। অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে দর্শন, রাজনীতি ও অর্থনীতির পাঠ নিয়েছেন। বিলেতের এ ছাত্রজীবনে রুপার্ট লেবার পার্টিকে সমর্থন করতেন। তার বয়স যখন ২২ বছর, স্যার কিথ মারডক মারা গেলেন। বাবার ব্যবসার হাল ধরার জন্য রুপার্টকে ১৯৫৩ সালে অক্সফোর্ড ছেড়ে দ্রুত ফিরতে হলো মেলবোর্ন। এসেই বাবার নিউজ লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক। সাম্রাজ্য বিস্তারের মতোই তিনি নেমে পড়লেন ব্যবসা বিস্তারে। কিনে ফেললেন অস্ট্রেলিয়ার পার্থ থেকে প্রকাশিত সানডে টাইমস। খবরের কাগজের মালিকানার নেশা পেয়ে বসল তাকে। কিনে ফেললেন নিউ সাউথ ওয়েলস, কুইন্সল্যান্ড, ভিক্টোরিয়া ও নর্দান টেরিটরির প্রায় সব সংবাদপত্র এবং এমনকি সিডনির ট্যাবলয়েড দ্য ডেইলি মিরর।

ট্যাক্সিক্যাবে ঘুরতে ঘুরতে : সাগর পাড়ি দিয়ে যুবক রুপার্ট এলেন নিউজিল্যান্ডে। বন্ধু কজন মিলে ভাড়া করলেন মরিস মাইনর ট্যাক্সি, প্রতিবেশী দেশটি ঘুরে দেখবেন। গাড়িতেই খবরের কাগজে পড়লেন কানাডার নিউজ পেপার ম্যাগনেট লর্ড থম্পসন নিউজিল্যান্ডের ডেইলি ডমিনিয়ন কিনে নিতে চাচ্ছেন, ডাকে অংশ নিয়েছেন আরও কজন ধনী ক্রেতা। দ্রুত সিদ্ধান্ত নিলেন, তিনিও চেষ্টা চালাবেনবিদেশে একটি পত্রিকার মালিকানা তার গুরুত্ব আরও বাড়িয়ে দেবে। তিনি লর্ড থম্পসনসহ আরও দুজন পাকা ব্যবসায়ীকে হারিয়ে দিয়ে কিনে নিলেন দ্য ডমিনিয়ান। ১৯৬৪ সালে রুপার্ট মারডকের হাতেই সৃষ্টি হলো অস্ট্রেলিয়ার প্রথম জাতীয় দৈনিক দ্য অস্ট্রেলিয়ান। প্রথমে ক্যানবেরা ও পরে সিডনিতে সদর দপ্তরভিত্তিক দ্য অস্ট্রেলিয়ানই হয়ে উঠল গোটা অস্ট্রেলিয়া মহাদেশের গুণগত মানের সংবাদপত্রের প্রতীক। এ দৈনিকের কারণে ক্ষমতাবানরা এসে লুটিয়ে পড়ল তার কাছে। অস্ট্রেলিয়ার অপর মিডিয়া টাইকুন ফ্র্যাংক প্যাকারের কাছ থেকে কিনে নিলেন প্রাতঃকালীন ট্যাবলয়েড দ্য ডেইলি টেলিগ্রাফ। পরে সাধারণ নির্বাচনের সময় রুপার্ট মারডক সমর্থন দিলেন গফ হুইটলামের নেতৃত্বাধীন লেবার পার্টিকে। গফ হুইটলাম প্রধানমন্ত্রী হলেন।

ব্রিটেনের ঘরে ঘরে রুপার্ট মারডক : ১৯৬৪ সালে প্রকাশিত ব্রডশিট দৈনিক দ্য সান বিক্রি হচ্ছে। রুপার্ট মারডক এ রকম একটা সুযোগের অপেক্ষায় ছিলেন। ১৯৬৯ সালে আট লাখ পাউন্ড দিয়ে দ্য সান কিনে এটাকে ট্যাবলয়েড পত্রিকা বানিয়ে অল্প সময়ে একে ব্রিটেনের সবচেয়ে জনপ্রিয় দৈনিকে পরিণত করলেন। প্রচার সংখ্যা ৩০ লাখ ছড়িয়ে গেল। ১৯৮১ সালে কিনে নিলেন লন্ডনের দ্য টাইমস ও দ্য সানডে টাইমস। তখন শ্রমিক আন্দোলন ও ধর্মঘটে টাইমস এমনিতে অচল হয়ে পড়েছিল। ছাত্রজীবনে শ্রমিক দল সমর্থক, নিজ দেশ অস্ট্রেলিয়ায় শ্রমিক দলকে ক্ষমতাসীন হতে সহায়তাকারী রুপার্ট মারডক ব্রিটেনে হয়ে উঠলেন রক্ষণশীল প্রধানমন্ত্রী মার্গারেট থ্যাচারের অন্যতম সমর্থক। সান ও টাইমস আদি চরিত্র শ্রমিক দলের প্রতি সমর্থন প্রত্যাহার করে মালিকের ইচ্ছে অনুযায়ী থ্যাচার সরকারের নীতির গুণকীর্তনে মেতে উঠল। কিন্তু পরের প্রধানমন্ত্রী জন মেজরের শাসনকালের শেষভাগে রুপার্ট আবার পুরনো রাজনৈতিক অবস্থানে ফিরে গেলেনশ্রমিক দলের প্রতি সমর্থন জোগালেন। ক্ষমতায় এলেন টনি ব্লেয়ার। কিন্তু পরে প্রধানমন্ত্রী গর্ডন ব্রাউনের সময় রুপার্টের পত্রিকা নীতি বদলে আবার রক্ষণশীল শিবিরে ফিরে এলো। ক্ষমতায় এলেন ডেভিড ক্যামেরন। রুপার্ট মারডকের সমর্থন এখন ব্রিটিশ রাজনীতির চরিত্র বদল করে দিতে পারে। জনমত তৈরির বৃহদাংশের মালিকানা এখন তারই হাতে।

ক্ষমতার উৎস মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র : ১৯৭৩ সালে মারডক আটলান্টিকের ওপারে। সবার আগে কিনে নিলেন সান অ্যান্টোনিও এক্সপ্রেস নিউজ। যুক্তরাষ্ট্রকে কবজা করতে না পারলে তো আর বিশ্ববিজয় সম্ভব নয়। রুপার্টের বেলায় উইপন অব মাস ডেস্ট্রাকশন নয়খবরের কাগজ, একবার মার্কিনিদের ঘরে ঢুকিয়ে দিতে পারলেই কাজ হয়ে যাবে। শিগগিরই গোড়াপত্তন করলেন সুপারমার্কেট ট্যাবলয়েড স্টার পত্রিকার; ১৯৭৬-এ কিনে ফেললেন নিউ ইয়র্ক পোস্ট। অবিশ্বাস্য কাজ করলেন ১৯৮৫ সালে। চলচ্চিত্রের সোনার খনি টোয়েন্টিথ সেঞ্চুরি ফক্স স্টুডিও কিনে নিলেন। পরের বছর কিনলেন মেট্রো মিডিয়ার মালিকানাধীন ছয়টি টেলিভিশন স্টেশন। স্থাপন করলেন ফক্স ব্রডকাস্টিং কোম্পানি। শুরু হলো ফক্স নেটওয়ার্কের অবিশ্বাস্য অগ্রযাত্রা। ১৯৯৬ সালে চালু করা ফক্স নিউজ চ্যানেল২৪ ঘণ্টার কেবল নিউজ স্টেশন সিএনএনের জনপ্রিয়তায় ধস নামিয়ে দিল। শেষ পর্যন্ত ফক্স হয়ে উঠল সবচেয়ে প্রিয় সংবাদ চ্যানেল। অস্ট্রেলিয়ায় কিনে নিলেন আরও দুটি সংবাদপত্র দ্য হেরাল্ড এবং উইকলি টাইমস। চালু করলেন পে টেলিভিশন ফক্সটেল। তার হাত ধরে যাত্রা শুরু করল ওয়েব ম্যাগাজিন দ্য উইকলি স্ট্যান্ডার্ড। তার স্কাই টিভির আগ্রাসী অভিযাত্রা সবাইকে চমকে দিল। ছয় বিলিয়ন ডলার দিয়ে আমেরিকার সর্ববৃহৎ স্যাটেলাইট চ্যানেল ডিরেকটিভির বড় শেয়ার হস্তগত করলেন। তার নিউজ করপোরেশনের সদর দপ্তর অস্ট্রেলিয়ার এডিলেড থেকে যুক্তরাষ্ট্রে স্থানান্তর করলেন। ২০০৭-এ তিনি যখন ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল কিনলেন হইচই পড়ে গেলএ কোন সাম্রাজ্যবাদ!

মারডক হিউ হেফনার নন : হিউ হেফনারের মতো প্লেবয় সাম্রাজ্য গড়ে তোলার সুযোগ তারও ছিল। কিন্তু গণমাধ্যম দিয়ে বিশ্বজয়ের যে নেশা তাকে পেয়েছে, তার কাছে যৌনতার মূল্য খুব বেশি নয়।

অনেক অভিযোগ রুপার্টের বিরুদ্ধে। অন্যতম একটি হচ্ছে রাজনৈতিক চরিত্রহীনতা, প্রধানমন্ত্রী গর্ডন ব্রাউনকে অপ্রিয় করে তুলতে একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে রুপার্টের ট্যাবলয়েড দ্য সান। নিজ দেশ অস্ট্রেলিয়ায় শুরুতে সমর্থন দিয়েছেন অস্ট্রেলিয়া জাতীয় দলের জন ম্যাকইউয়েনকে, তারপর গফ হুইটলামকে, কিন্তু নতুন সখ্যও দীর্ঘমেয়াদি হয়নি। রুপার্ট মারডক যেখানেই গিয়েছেন, নিজেকে গুরুত্বপূর্ণ করে তুলেছেন, বড় লাভের ব্যবসার দিকে তাকাননিতার লক্ষ্য ছিল গণমাধ্যম। তিনি প্রায় পাঁচশ সংবাদপত্র ও টিভি চ্যানেলের মালিক ও নীতিনির্ধারক। ফক্স নিউজের বিরুদ্ধে অভিযোগ অনেক সময়ই ফক্স একপেশে সংবাদ পরিবেশন করে থাকে। নিউ ইয়র্ক টাইমস সম্পাদক বিল কেলার মনে করেন, ফক্স সংবাদ আমেরিকানদের নৈরাশ্যবাদী, একপক্ষীয় ও কর্কশ করে তুলছে।

রুপার্ট জানতেন নাইন-ইলেভেন ঘটবে! : অনুসন্ধিৎসু সাংবাদিক ক্রিস্টোফার কলিন বিভিন্ন ঘটনাপ্রবাহ বিশ্লেষণ করে বেশ জোর দিয়েই বলেছেন, এ নাশকতার বিষয়টি রুপার্টের জ্ঞাতসারেই ঘটেছে। নাইন-ইলেভেনের আগে যারা ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারের মালিকানা কিনে নেন এবং এ নাশকতার ঘটনাকে পুঁজি করে বিপুল লাভবান হন, তারা তার ঘনিষ্ঠজন। ২০০১ সালের ৪ মার্চ ফক্স টিভিতে দ্য লোন গানম্যান সিরিজে যাত্রীবাহী উড়োজাহাজ হাইজ্যাক করে এ ধরনের নাশকতামূলক কাজের চিত্র তুলে ধরা হয়েছে। এটিকে ইহুদি চক্রান্তকারীদের কাজ উল্লেখ করা হয়েছে। রুপার্টের নানা ইহুদি এবং রুপার্টের মধ্যেও জঙ্গি ইহুদিদের বীজ রয়ে গেছে। রুপার্ট মারডক এসব অভিযোগ নাকচ করে দিয়েছেন। অবশ্য রুপার্টকে নিয়ে এ মুহূর্তে মিডিয়ার আগ্রহ পঞ্চম নারী তাহলে কে? রুপার্ট মারডকের বয়স ৯১ পেরিয়ে গেছে, তাতে কী? বয়স তো কেবল একটি সংখ্যামাত্র।

লেখক: সরকারের সাবেক কর্মকর্তা ও কলামিস্ট

[email protected]

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত