আর্থিক সংকট নিয়ে দুই মন্ত্রীর দুই কথা

আপডেট : ০৯ নভেম্বর ২০২২, ০২:৫৩ এএম

দেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের দুই মন্ত্রী দুই ধরনের অভিমত ব্যক্ত করেছেন। বৈশি^ক প্রেক্ষিতে বাংলাদেশের অর্থনীতি সংকটের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে পরিকল্পনামন্ত্রী এমএ মান্নান তা স্বীকার করলেও তারই প্রতিমন্ত্রী ভিন্নমত ব্যক্ত করেছেন। প্রতিমন্ত্রী ড. শামসুল হক বলেছেন, ‘দেশে তেমন সংকট নেই; রপ্তানি বাড়ছে, রেমিট্যান্সও বাড়ছে।’

গতকাল মঙ্গলবার জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভা-পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে মন্ত্রীদ্বয় এমন পরস্পরবিরোধী মন্তব্য করেন।

পরিকল্পনামন্ত্রী এমএ মান্নান বলেন, ‘অন্যান্য দেশের মতো আমাদের দেশেও বৈশি্বক অর্থনৈতিক সংকটের কিছু প্রভাব পড়েছে। তা সামাল দেওয়ার জন্য প্রধানমন্ত্রী বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েছেন। আমাদের দেশও সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। তবে আশা করি, প্রধানমন্ত্রীর উদ্যোগের ফলে আমরা দ্রুত সংকট কাটিয়ে উঠতে পারব।’

ওই সংবাদ সম্মেলনেই পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী ড. শামসুল আলম ভিন্নমত ব্যক্ত করে বলেন, ‘দেশে তেমন সংকট নেই। আমদানি-রপ্তানি বাড়ছে। রেমিট্যান্সও আসছে।’ টাকার অবমূল্যায়নের পক্ষে যুক্তি দেখিয়ে তিনি বলেন, ‘টাকার মান ও এক্সচেঞ্জ রেট সমন্বয় করতে হবে। ডলারের সরবরাহ বাড়াতে টাকার মান কমাতে হবে। আমরা চাচ্ছি দেশে আরও ডলার আসুক। রপ্তানি ও প্রবাস-আয় বাড়ানোর জন্য টাকার মান কমা ভালো।’

চলতি অর্থবছরের আগস্টের পর থেকে প্রবাস-আয় কমলেও শামসুল আলম দাবি করছেন তা বেড়েছে। তিনি বলেন, ‘রেমিট্যান্স কমছে কথাটা সত্য নয়। জুলাই থেকে অক্টোবর পর্যন্ত বেশি রেমিট্যান্স পেয়েছি। এ সময়ে ৭ দশমিক ১৯ বিলিয়ন ডলার রেমিট্যান্স এসেছে। একই সময়ে রপ্তানি-আয় হয়েছে ১৬ দশমিক ৮৫ বিলিয়ন ডলার। আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় তা বেড়েছে। তাই আমরা কোনো সংকটে নেই। উচ্চ মূল্যস্ফীতি সারা দুনিয়া ফেস করছে, আমরাও করছি।’

আইএমএফের তথ্যে দ্বিমত পোষণ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘আইএমএফ একমত না হলে কিছু আসে-যায় না। প্রথাগতভাবে সরকার রিজার্ভ রক্ষা করছে। সরকার কোথাও কিছু লুকায়নি। বর্তমানে ৩৫ বিলিয়ন ডলারের কাছাকাছি রিজার্ভ আছে।’

গতকাল একনেকে প্রায় ৩ হাজার ৯৮১ কোটি ৯০ লাখ টাকার সাতটি প্রকল্প অনুমোদন করা হয়েছে। এর মধ্যে সরকারি অর্থায়ন ৩ হাজার ৩৯২ কোটি ৩৩ লাখ টাকা, বৈদেশিক অর্থায়ন ৩২২ কোটি ২১ লাখ টাকা এবং সংস্থার নিজস্ব অর্থায়ন ২৬৭ কোটি ৩৫ লাখ টাকা। একনেক চেয়ারপারসন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে শেরেবাংলা নগরের এনইসি সম্মেলন কক্ষে সভা অনুষ্ঠিত হয়।

অনুমোদিত প্রকল্পগুলো হলো নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের চট্টগ্রামের মিরসরাই ও সন্দ্বীপ, কক্সবাজারের সোনাদিয়া দ্বীপ ও টেকনাফ (সাবরাং ও জালিয়ার দ্বীপ) অংশের জেটিসহ অনুষঙ্গিক স্থাপনা নির্মাণ প্রকল্প; স্থানীয় সরকার পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন এলাকায় অঞ্চল-২ ও অঞ্চল-৪-এর ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক অবকাঠামোসহ অঞ্চল-২ ও অঞ্চল-৪-এর সার্ভিস প্যাসেজের উন্নয়ন প্রকল্প; গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের বাংলাদেশ জাতীয় সংসদ ভবন এলাকার বৈদ্যুতিক যান্ত্রিক ও নিরাপত্তা ব্যবস্থাসহ অন্য উন্নয়নকাজ বিষয়ক প্রকল্প; সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের বারৈয়ারহাট-হেঁয়াকো রামগড় সড়ক প্রশস্তকরণ (প্রথম সংশোধিত) প্রকল্প ও নবীনগর-আশুগঞ্জ সড়ক উন্নয়ন (প্রথম সংশোধিত) প্রকল্প এবং কৃষি মন্ত্রণালয়ের দিনাজপুর অঞ্চলে টেকসই কৃষি উন্নয়ন প্রকল্প। এ ছাড়া খরচ ঠিক রেখে মেয়াদ বৃদ্ধির জন্য গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের খুলনা শিপইয়ার্ড সড়ক প্রশস্তকরণ ও উন্নয়ন (প্রথম সংশোধিত) প্রকল্প।

এ ছাড়া স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একটি বরিশাল মেট্রোপলিটান ও খুলনা জেলা পুলিশ লাইন নির্মাণ (আন্তঃখাত সমন্বয়কৃত) প্রকল্প; স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের শেখ সায়েরা খাতুন মেডিকেল কলেজ, মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এবং নার্সিং কলেজ স্থাপন (দ্বিতীয় সংশোধিত) প্রকল্প এবং বিদ্যুৎ, জ¦ালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রণালয়ের চট্টগ্রাম অঞ্চলের বিদ্যুৎ সঞ্চালন ব্যবস্থার সম্প্রসারণ ও শক্তিশালীকরণ (প্রথম সংশোধিত) প্রকল্প অবহিতির জন্য সভায় উত্থাপন করা হয়।

পরিকল্পনা কমিশনের ভাইস চেয়ারম্যান ও পরিকল্পনামন্ত্রী এমএ মান্নান, কৃষিমন্ত্রী ড. আবদুর রাজ্জাক, তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী হাছান মাহমুদ, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মো. তাজুল ইসলাম এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীরা সভায় অংশগ্রহণ করেন।

মন্ত্রিপরিষদ সচিব, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব, এসডিজির মুখ্য সমন্বয়ক, পরিকল্পনা কমিশনের সদস্য এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোর জ্যেষ্ঠ সচিব ও সচিবসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা সভায় উপস্থিত ছিলেন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত