দেশের বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের দ্বিতীয় খাত হচ্ছে প্রবাসী আয়। আমদানিনির্ভর বাংলাদেশের বাণিজ্য ঘাটতি মেটাতে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে খাতটি। কিন্তু প্রবাসী আয়ে সরকারের আড়াই শতাংশ প্রণোদনা ছাড়া অন্য কোনো সুবিধা পাচ্ছেন না প্রবাসীরা। তারপরও রেমিট্যান্স পাঠিয়ে দেশের উন্নয়নে অন্যতম ভূমিকা রাখছেন তারা। আর এ উন্নয়নে সবচেয়ে বেশি অবদান রাখছেন ঢাকা বিভাগের প্রবাসীরা। দেশে আসা মোট রেমিট্যান্সের প্রায় অর্ধেকই পাঠাচ্ছেন এ বিভাগের প্রবাসীরা। প্রবাসী আয়ে ঢাকার পরবর্তী অবস্থানে রয়েছেন চট্টগ্রাম, সিলেট, খুলনা, রাজশাহী, বরিশাল, রংপুর এবং ময়মনসিংহ বিভাগের প্রবাসীরা। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সর্বশেষ হালনাগাদ প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য উঠে এসেছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য বলছে, অক্টোবরে রেমিট্যান্স এসেছে ১৫২ কোটি ৫৪ লাখ ডলার। এর মধ্যে ঢাকা বিভাগের প্রবাসীরা ৭২ কোটি ৮৯ লাখ ডলার রেমিট্যান্স পাঠিয়েছে, যা মোট রেমিট্যান্সের ৪৭ শতাংশ। চলতি অর্থবছরের প্রথম মাস জুলাইতে দেশের রেমিট্যান্স এসেছে ২০৯ কোটি ৬০ লাখ ডলার, যার ৫২ শতাংশ ঢাকা বিভাগের। এ ছাড়া আগস্টে ও সেপ্টেম্বরে আসা মোট রেমিট্যান্সের ৫১ শতাংশ এসেছে এ বিভাগের প্রবাসীদের কাছ থেকে। খাতসংশ্লিষ্টরা বলছেন, দেশের মানুষ সাধারণত রাজধানীমুখী। রাজধানীতে অন্যান্য এলাকা থেকে নাগরিক সুবিধা বেশি পাওয়ার কারণে অর্থনৈতিক সচ্ছলতা তৈরি হলেই রাজধানীতে বসবাস করতে পছন্দ করেন।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য বলছে, অক্টোবরে ঢাকা বিভাগের মধ্যে ঢাকা জেলার প্রবাসীরা পাঠান ৫০ কোটি ১৯ লাখ ডলার, টাঙ্গাইলের প্রবাসীরা ২ কোটি ৯৯ লাখ, গাজীপুরের ২ কোটি ২০ লাখ, কিশোরগঞ্জ ২ কোটি, মুন্সীগঞ্জ ২ কোটি ৪০ লাখ, নারায়ণগঞ্জ ২ কোটি ৫৬ লাখ, নরসিংদী ২ কোটি ২৩ লাখ, মাদারীপুর ১ কোটি ৮২ লাখ, শরীয়তপুর ১ কোটি ৭৫ লাখ, ফরিদপুর ১ কোটি ৭০ লাখ, মানিকগঞ্জ ১ কোটি ৫৫ লাখ, গোপালগঞ্জ ৬ লাখ এবং রাজবাড়ীর প্রবাসীরা ৮ লাখ ডলারের রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন। কেন্দ্রীয় ব্যাংকে তথ্য অনুযায়ী, অক্টোবর মাসে চট্টগাম বিভাগের প্রবাসীরা ৩৮ কোটি ৪০ লাখ ডলার, যা ওই মাসে আসা মোট রেমিট্যান্সের ২৫ শতাংশ। অক্টোবরে সিলেট বিভাগের প্রবাসীরা পাঠিয়েছেন ১৭ কোটি ১০ লাখ ডলার। এ ছাড়া অন্য বিভাগের প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্সের পরিমাণ দুই অঙ্ক পেরোইনি। যার মধ্যে খুলনায় ৭ কোটি ৮০ লাখ, রাজশাহীতে ৬ কোটি ২০ লাখ, বরিশালে ৪ কোটি, রংপুরে ৩ কোটি এবং ময়মনসিংহ বিভাগে এসেছে ৩ কোটি ডলার।
