যুদ্ধ জয় করেছি খেলায়ও জয়ী হব : প্রধানমন্ত্রী

আপডেট : ১০ নভেম্বর ২০২২, ০২:১৮ এএম

খেলোয়াড়দের সহযোগিতা করতে বিত্তবানদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের যারা বিত্তশালী আছেন, তাদের বলব, এসব জায়গায় তারা যেন আরও সহযোগিতা করেন। তা ছাড়া প্রতিটি ইন্ডাস্ট্রির মালিক বা অন্যান্য ব্যবসায়ীকে আমি আহ্বান জানাই, প্রত্যেকে যেন আমাদের খেলোয়াড়দের চাকরি দেন, কাজ দেন। আমি মনে করি, খেলোয়াড়দের কোনো একটা কাজ দিয়ে উৎসাহিত রাখা উচিত।’

সাফজয়ী বাংলাদেশ জাতীয় নারী ফুটবল দলকে দেওয়া সংবর্ধনা ও আর্থিক পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী এ কথা বলেন। গতকাল বুধবার সকালে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে এ অনুষ্ঠান হয়।

সরকারপ্রধান বলেন, ‘যারা খেলাধুলা শেষ করে এখন ব্যবসা করে বেশ টাকা-পয়সার মালিক হচ্ছেন, তাদের তো উচিত এ দিকের প্রতি আরও বেশি করে খেয়াল রাখা।’

আন্তর্জাতিক প্ল্যাটফর্মে সাফল্য অর্জনের লক্ষ্যে আরও প্রতিযোগিতা ও প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করার প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করেন প্রধানমন্ত্রী। একই সঙ্গে তিনি খেলোয়াড়দের জয়লাভের মনোভাব নিয়ে খেলার আহ্বান জানান।

শেখ হাসিনা বলেন, ‘আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সাফল্য অর্জনের জন্য আমাদের যথাযথ প্রশিক্ষণের পাশাপাশি আরও প্রতিযোগিতার ব্যবস্থা করতে হবে।’

তিনি বলেন, ‘আমরা জাতির পিতার আহ্বানে সাড়া দিয়ে এ দেশের মানুষ অস্ত্র হাতে তুলে নিয়ে স্বাধীনতা অর্জন করেছি, আমরা বিজয়ী জাতি। সব সময় এটা মাথায় রাখতে হবে। খেলার মাঠেও মাথায় রাখতে হবে যে যুদ্ধ জয় করেছি, খেলায়ও জয়ী হব। এই চিন্তা নিয়ে সবাইকে চলতে হবে। তাহলেই সাফল্য আসবে। কারণ মনোবল এবং আত্মবিশ্বাস একান্তভাবে দরকার। আর সব সময় প্রশিক্ষণও দরকার।’

নিজের পরিবারের সদস্যদের খেলাধুলার সঙ্গে সম্পৃক্ততার কথা তুলে ধরে শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমরা সব সময় এটা মনে করি যে খেলাধুলা আমাদের অপরিহার্য। আমার আব্বা ঢাকা ওয়ান্ডার্স ক্লাবে খেলতেন, আবার আমার ভাই শেখ কামাল সেও খেলত, সবাই বিভিন্ন টিমের সঙ্গে জড়িত ছিল।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমি এটা মনে করি যে আমাদের ছেলেমেয়েরা যত বেশি খেলাধুলার সঙ্গে সম্পৃক্ত হতে পারবে, সংস্কৃতিচর্চার সঙ্গে সম্পৃক্ত হতে পারবে, সাহিত্যচর্চা করবে, লেখাপড়ার পাশাপাশি এগুলো একান্তভাবে দরকার। শারীরিক, মানসিক সব দিক থেকেই আমাদের তরুণদের একটা আলাদা মানসিকতা ও দেশপ্রেম গড়ে উঠবে।’

নেপালকে ৩-১ গোলে হারিয়ে সাফ শিরোপা জয় করে বাংলাদেশ জাতীয় নারী ফুটবল দল। গতকালের অনুষ্ঠানে দলটির ২৩ জন খেলোয়াড়ের প্রত্যেকের হাতে পাঁচ লাখ টাকার চেক তুলে দেন প্রধানমন্ত্রী। এ ছাড়া ১১ জন প্রশিক্ষক ও কর্মকর্তার প্রত্যেকের হাতে দুই লাখ টাকার চেক তুলে দেন তিনি। পরে খেলোয়াড়রা প্রধানমন্ত্রীর হাতে ‘সাফ উইমেন্স চ্যাম্পিয়নশিপ-২০২২’-এর ট্রফি তুলে দেন এবং ফটোসেশনে অংশগ্রহণ নেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বঙ্গবন্ধু ক্রীড়াসেবী কল্যাণ ফাউন্ডেশন আইন ২০১১’ প্রণয়ন করে একটা ফাউন্ডেশন প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। এই ফাউন্ডেশনকে করোনাকালীন ৩০ কোটি টাকা দিয়েছিলাম। মোট ৪০ কোটি টাকার সিড মানি দেওয়া হয়েছে। আমি আরও ২০ কোটি টাকা দেব।’

এই ফাউন্ডেশন থেকে সমস্যাগ্রস্ত খেলোয়াড়দের সহযোগিতা করার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘ফাউন্ডেশন থেকে যারা আমাদের খেলাধুলার সঙ্গে সম্পৃক্ত অনেক সময় তারা অসুস্থ হয়ে পড়ে অথবা তাদের কোনো রকম অসুবিধা দেখা দেয়, বয়স হয়ে গেলে বাড়িতে তাদের কোনো কিছু করার থাকে না, সেখানে ফাউন্ডেশন থেকে সহযোগিতা করা যায়। আবার এই ফাউন্ডেশন তাদের আর্থিক সচ্ছলতার জন্য অনেক কাজও করতে পারে।’

সরকারপ্রধান বলেন, স্বাধীনতা অর্জনের পর জাতির পিতা অন্যান্য ক্ষেত্রে উন্নয়নের পাশাপাশি দেশের ক্রীড়াঙ্গনকেও সমান গুরুত্ব দিয়েছিলেন। তিনি ১৯৭২ সালেই জাতীয় ক্রীড়া নিয়ন্ত্রণ সংস্থা গঠন করেন এবং ১৬টি জাতীয় ক্রীড়া ফেডারেশন অনুমোদন করেন। ১৯৭৪ সালে আরও ১৮টি জাতীয় ক্রীড়া ফেডারেশন এবং বিভিন্ন জেলা ক্রীড়া সংস্থাকে অনুমোদন দেন। ১৯৭৪ সালে ‘বাংলাদেশ স্পোর্টস কাউন্সিল অ্যাক্ট’ পাস করে আজকের ‘জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ’ গঠন করেন। ১৯৭৫ সালের ৬ আগস্ট ‘বঙ্গবন্ধু ক্রীড়াসেবী ও সংস্কৃতিসেবী কল্যাণ ফাউন্ডেশন’ অনুমোদন দেন।

গত ১৪ বছর ক্রীড়াঙ্গনে বাংলাদেশের সফলতা উত্তরোত্তর বৃদ্ধি পেয়েছে উল্লেখ করে সরকারপ্রধান বলেন, বিভিন্ন ক্রীড়া ক্ষেত্রে বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করে মোট ৪৮৫টি স্বর্ণ, ৪৯৯টি রৌপ্য, ৫৯৫টি ব্রোঞ্জ পদক অর্জন করেছে এবং ১১৪ বার চ্যাম্পিয়ন, ২৬ বার রানার্স আপ ও ২২ বার তৃতীয় স্থান অর্জন করেছে।

তৃণমূল পর্যায়ে খেলাধুলার বিকাশে তার সরকার প্রতিটি বিভাগে বিকেএসপি এবং প্রতিটি জেলায় ইনডোর স্টেডিয়াম নির্মাণ করবে জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, তার সরকার তৃণমূল পর্যায় থেকে খেলোয়াড় গড়ে তোলার পাশাপাশি ক্রীড়া অবকাঠামো উন্নয়ন করছে। প্রথম পর্যায়ে ১২৫টি উপজেলায় শেখ রাসেল মিনি স্টেডিয়াম নির্মাণ করেছে। দ্বিতীয় পর্যায়ে ১৮৬টি উপজেলায় মিনি স্টেডিয়াম নির্মাণকাজ শুরু হয়েছে। তৃতীয় পর্যায়ে দেশের অবশিষ্ট ১৭৩টি উপজেলায় শেখ রাসেল মিনি স্টেডিয়াম নির্মাণ করা হবে। বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামের উন্নয়নকাজ চলমান। ইতিমধ্যে কাবাডি ও ভলিবল স্টেডিয়ামের উন্নয়ন, ১৩টি উপজেলায় স্টেডিয়াম নির্মাণ, সারা দেশে ৫৬টি স্টেডিয়াম, ৮টি সুইমিংপুল, ৬টি শুটিং রেঞ্জ, ৭টি ক্রীড়া কমপ্লেক্স নির্মাণ ও উন্নয়ন করা হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী প্রয়াত আওয়ামী লীগ নেতা আহসানউল্লাহ মাস্টারের জন্মদিনে তার ওপর রচিত ‘আহসানউল্লাহ মাস্টার জীবনালেখ্য’ নামে একটি গ্রন্থের মোড়ক উন্মোচন করেন। বইটি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে উৎসর্গ করা হয়েছে।

অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মো. জাহিদ আহসান রাসেল ও বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতি কাজী মো. সালাউদ্দিন।

স্বাগত বক্তব্য দেন যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. মেসবাহ উদ্দিন। বাংলাদেশ জাতীয় নারী ফুটবল দলের অধিনায়ক সাবিনা খাতুন তার অনুভূতি ব্যক্ত করেন। অনুষ্ঠানে ‘সাফ উইমেন্স চ্যাম্পিয়নশিপ-২০২২’-এর ওপর একটি ভিডিও-ডকুমেন্টারি প্রদর্শন করা হয়। বাসস

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত