বিশ্বকাপ শুরু হতে আর ১০ দিন বাকি। এই সময় মাথায় আকাশ ভেঙে পড়া খবর আর্জেন্টিনা ও সেনেগালের জন্য। হ্যামস্ট্রিং ইনজুরিতে বিশ্বকাপ শেষ মিডফিল্ডার জিওভানি লে সেলসোর। ওদিকে হাঁটুতে চোট পেয়ে ছিটকে পড়ার মারাত্মক শঙ্কায় আছেন সাদিও মানে। আর্জেন্টিনা কোচ লিওনেল স্কালোনি জানিয়েছেন লে সেলসোর বদলি অসম্ভব। এদিকে মানের ইনজুরিতে পুরো সেনেগালের আক্ষেপ বিশ্বকাপের সময় নিয়ে। গত ৩০ অক্টোবর অ্যাথলেটিক বিলবাওয়ের বিপক্ষে ম্যাচে হ্যামস্ট্রিং চোট পান সেলসো। পরে স্ক্যান করে দেখা গেছে সেলসোর হ্যামস্ট্রিং অংশে চিড় ধরেছে। নিশ্চিতভাবেই বিশ্বকাপ মিস করছেন এই মিডফিল্ডার। মধ্যমাঠে সেরা একাদশের একজনকে হারিয়ে হতাশ আর্জেন্টিনা কোচ স্কালোনি। টিওয়াইসি স্পোর্টসকে বলছিলেন, ‘সংখ্যার দিক থেকে সেলসোর বদলি নেওয়া অবশ্যই সম্ভব। কিন্তু ফুটবলীয় দিক থেকে তার অভাব পূরণ করা একদমই অসম্ভব। অন্য ফুটবলারের অন্য গুণ থাকবে। কিন্তু জিওভানি কী করতে পারে তা সে আগেই প্রমাণ করেছে। আমরা তার সার্ভিসটা মিস করব।’
এবারই প্রথম বিশ্বকাপ হচ্ছে নভেম্বর-ডিসেম্বরে। সবসময় চার বছর অন্তর ইউরোপিয়ান ফুটবল মৌসুমের বিরতিতে জুন-জুলাইয়ে হয়ে থাকে। স্কালোনি এই সময়ে বিশ্বকাপ আয়োজনের সমালোচনাও করেছেন, ‘একটা চ্যাম্পিয়নশিপের মাঝে বিশ্বকাপ খেলতে গেলে এটাই হবে। অক্টোবরে সবসময় প্রতি তিন দিন অন্তর লিগ ম্যাচ হয়। যেখানে ফুটবলাররা সর্বোচ্চটা দিয়ে থাকে। আর আপনি একটা বিশ্বকাপের তিন দিন আগে ফুটবলারদের ক্লান্ত অবস্থায় পাচ্ছেন।’ স্কালোনি জানান, আর্জেন্টিনার পক্ষ থেকে ইউরোপিয়ান ক্লাবগুলোর কাছে কিছু নির্দিষ্ট অনুরোধ করেছিলেন তারা। কিন্তু কোনোটাতেই ক্লাবগুলোকে রাজি করানো সম্ভব হয়নি ‘আমরা ক্লাবগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলাম যে যারা বিশ্বকাপ দলে আছে তাদের সব ম্যাচ না খেলানোর, অথবা একটু আগে ছেড়ে দেওয়ার। কিন্তু ক্লাবগুলো রাজি হয়নি। এটা আমরাও বুঝি তারা মোটা দাগের অর্থ খরচ করেই দল গড়েছে।’ গ্রুপ সি’তে ২২ নভেম্বর সৌদি আরবের সঙ্গে নিজেদের প্রথম ম্যাচ খেলবে আর্জেন্টিনা। তার আগে ১৬ নভেম্বর আরব আমিরাতের সঙ্গে একটি প্রস্তুতি ম্যাচ খেলবে তারা।
সাদিও মানে চোট পেয়েছেন ওয়ের্ডার ব্রেমেনের বিপক্ষে বায়ার্নের ৬-১ গোলে জেতা ম্যাচে। তবে ফরাসি দৈনিক লে’একিপ জানিয়েছে মানে হ্যামস্ট্রিং চোটে পড়েছেন এবং বেশ কিছু সপ্তাহের জন্য মাঠের বাইরে থাকবেন। অবশ্য মানের অবস্থা নিয়ে নিশ্চিত সংবাদ এখনো আসেনি। জানা গেছে কিছু টেস্ট করানো হবে মানের। ওই টেস্টের রিপোর্টের ওপরই নির্ভর করছে সেনেগালের তারকার বিশ্বকাপ খেলা।
তবে সেনেগালজুড়ে ইতিমধ্যে মানেকে হারানোর ভয় ঢুকে গেছে। ইউরোপিয়ান লিগের মাঝে বিশ্বকাপ করায় ফিফার সমালোচনাও হচ্ছে ব্যাপক। এবারের বিশ্বকাপে আফ্রিকান দলগুলোর মধ্যে সেরা সম্ভাবনায় থাকা দলটির এক নম্বর তারকা মানে। তাকে হারানোয় আফ্রিকান চ্যাম্পিয়নদের জন্য জোর ধাক্কাই হবে। এ গ্রুপে নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে কঠিন ম্যাচ দিয়ে ২১ নভেম্বর শুরু হবে সেনেগালের বিশ্বকাপ মিশন।
