আমেরিকার রাষ্ট্রদূত পিটার ডি হাস বলেছেন, ‘বাংলাদেশে কভিড-১৯-এ সবচেয়ে বড় দাতা দেশ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। এখানকার মোট ভ্যাকসিন অনুদানের ৭০ শতাংশ দিয়েছে আমেরিকা। এ সপ্তাহের শুরুর দিকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশকে আরও ৬০ লাখ ফাইজার ভ্যাকসিন দিয়েছে। বাংলাদেশ ৭৫ শতাংশ জনগোষ্ঠীকে টিকা কার্যক্রমের আওতায় আনতে সক্ষম হয়েছে, যা বিশ্বে সর্বোচ্চ বলে মনে করছি। এ অর্জনের জন্য আগামী সেপ্টেম্বরে জাতিসংঘের আয়োজনে বাংলাদেশকে নিমন্ত্রণ জানানো হবে।
গতকাল বুধবার ইউএসএআইডির অর্থায়নে ও সিটি করপোরেশনের সহায়তায় কমিউনিটি হেলথ সিস্টেম স্ট্রেনদেনিং (সিএইচএসএস) প্রকল্পের আওতায় নারায়ণগঞ্জে শিশুদের জন্য করোনা টিকাদান কর্মসূচি পরিদর্শনে এসে তিনি এসব কথা বলেন। এর আগে রাষ্ট্রদূত পিটার সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় অংশ নেন। নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের সহযোগিতায় ব্র্যাক এই কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে।
শিশুদের টিকা প্রদান কার্যক্রম পরিদর্শনের সময় সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভী ও নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসক মঞ্জুরুল হাফিজ, পুলিশ সুপার গোলাম মোস্তফা রাসেল, সিভিল সার্জন ডা. এএফএম মুশিউর রহমানসহ যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাস, ইউএসএআইডি, জেলা প্রশাসন ও ব্র্যাকের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
আমেরিকার রাষ্ট্রদূত পিটার ডি হাস আরও বলেন, বাংলাদেশকে এখন পর্যন্ত ১০ কোটি করোনাভাইরাস প্রতিরোধক ভ্যাকসিন দিয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। আর এটাকে মহামারী মোকাবিলায় যুক্তরাষ্ট্র-বাংলাদেশ অংশীদারিত্বের একটি মাইলফলক চিহ্নিত করা হচ্ছে। এই মাইলফলকটি আমাদের দুই দেশের মধ্যে শক্তিশালী অংশীদারিত্বের ওপর জোর দেয় এবং সারা দেশের প্রায় ৭৫ শতাংশ মানুষকে সম্পূর্ণরূপে টিকা দেওয়ার ক্ষেত্রে বাংলাদেশ যে অবিশ্বাস্য অগ্রগতি করেছে, তার একটি অংশ মাত্র। তাই আমি বাংলাদেশি শিশু এবং প্রাপ্তবয়স্কদের মহামারী থেকে রক্ষা করার জন্য জড়িত সবাইকে অভিনন্দন জানাই। এটি একটি উল্লেখযোগ্য অর্জন।
বাংলাদেশে এই টিকাদান কর্মসূচিতে আমেরিকা গর্বিত অংশীদার উল্লেখ করে রাষ্ট্রদূত বলেন, এখানে এসে শিশুদের এভাবে আগ্রহের সঙ্গে টিকা নিতে দেখে আমি খুব আনন্দিত। নারায়ণগঞ্জের শিশুরা বেশ সাহসী। তাদের কেউই টিকা নিতে ভয় পাচ্ছে না।
অনুষ্ঠানে নারায়ণগঞ্জ সিটি মেয়র সেলিনা হায়াৎ আইভী বলেন, ‘শুধু স্কুলের শিশুরা নয়, বাইরে থেকে এসেও শিশুরা টিকা নিচ্ছে। আর যারা বাদ পড়বে আমরা তাদেরকে এনেও টিকা দেওয়ার ব্যবস্থা করব।’
