১৮ বছর আগে কারারক্ষী পদে নিয়োগে অনিয়মে জড়িতদের বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে তা জানতে চেয়েছে উচ্চ আদালত। আদেশ পাওয়ার এক মাসের মধ্যে কারা মহাপরিদর্শককে এ বিষয়ে হলফনামা (এফিডেভিট) আকারে প্রতিবেদন দিতে বলেছে হাইকোর্ট। এ সংক্রান্ত একটি রিট আবেদনের ওপর শুনানি শেষে গতকাল বুধবার বিচারপতি কে এম কামরুল কাদের ও বিচারপতি মোহাম্মদ আলীর হাইকোর্ট বেঞ্চ রুলসহ এ আদেশ দেয়। জালিয়াতির মাধ্যমে ওই পদে একজনের নামে আরেকজনের নিয়োগের অভিযোগের পর প্রতিকার চেয়ে সম্প্রতি হাইকোর্টে এ আবেদনটি করেন নিয়োগপ্রার্থী জহিরুল ইসলাম এশু। রুলে কারারক্ষী পদে রিট আবেদনকারীর যোগদানপত্র গ্রহণ করে আবেদনকারীর (কারারক্ষী) পদে চাকরি করা অন্য ব্যক্তির বিরুদ্ধে যথাযথ আইনী ব্যবস্থা গ্রহণে কেন নির্দেশ দেওয়া হবে না, জানতে চেয়েছে হাইকোর্ট। চার সপ্তাহের মধ্যে স্বরাষ্ট্র সচিব, কারা মহাপরিদর্শক, কারা উপমহাপরিদর্শক, সিলেট কেন্দ্রীয় কারাগারের জ্যেষ্ঠ জেল সুপারসহ ছয়জনকে রুলের জবাব দিতে বলেছে হাইকোর্ট। আদালতে রিট আবেদনের পক্ষে শুনানিতে ছিলেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মো. খুরশীদ আলম খান। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ বাশার।
আইনজীবীদের তথ্যমতে, গত জুলাইতে গণমাধ্যমে কুলাউড়ার জহিরুলের পরিবর্তে জালিয়াতি করে কারারক্ষী পদে অন্যজনের চাকরি এবং ১৮ বছর পর বিষয়টি তদন্তে প্রমাণিত হওয়া নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। প্রতিবেদন অনুযায়ী কারারক্ষী পদে চাকরির জন্য ২০০৩ সালে নিয়োগ পরীক্ষা দিয়েছিলেন কুলাউড়ার বাসিন্দা জহিরুল ইসলাম এশু। নিয়োগ পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার পর পুলিশ ভেরিফিকেশন হয়। কিন্তু যোগদানপত্র না আসায় চাকরির আশা ছেড়ে ব্যবসা শুরু করেন তিনি। তবে দীর্ঘ ১৮ বছর পর তিনি জানতে পারেন প্রতারণার মাধ্যমে তার নাম-পরিচয় ব্যবহার করে ওই পদে আরেকজন চাকরি করছেন। কারারক্ষী নিয়োগে অনিয়মের বিষয়টি তদন্তে আসে। চাকরি ফিরে পেতে গত জানুয়ারিতে সিলেটের কারা উপমহাপরিদর্শক বরাবর আবেদন করলেও তাতে সাড়া পাননি এশু। এরপর হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন তিনি।
গত মঙ্গলবার রিট আবেদনের ওপর শুনানি নিয়ে গতকাল বুধবার আদেশের জন্য ধার্য করে হাইকোর্ট। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ওই প্রতিবেদনের সূত্র ধরে সাংবাদিকদের বলেন, তদন্তে ২০০ জনের মধ্যে ৮৮ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে। এর মধ্যে এমন তিনজন পাওয়া গেছে, যারা প্রকৃত ব্যক্তির পরিবর্তে ওই চাকরি করছেন। অনেকে কাগজপত্র জাল-জালিয়াতি করেছেন। অ্যাডভোকেট খুরশীদ আলম খান দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘পিটিশনার জহিরুল ইসলাম এশু সিলেট কারা কর্তৃপক্ষের বরাবরে যে আবেদনটি করেছিলেন সেটি দুই মাসের মধ্যে নিষ্পত্তি করতে বলেছেন হাইকোর্ট।’
