নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটিতে 'ফার্মাফেস্ট ২০২২' অনুষ্ঠিত

আপডেট : ১০ নভেম্বর ২০২২, ০১:৫৬ পিএম

'ফার্মাসিস্ট ফর দা হেলদিয়ার ওয়ার্ল্ড' এই স্লোগানকে সামনে রেখে গত ৮ এবং ৯ নভেম্বর দেশ সেরা বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ে অনুষ্ঠিত হয়েছে 'ফার্মাফেস্ট ২০২২'। 

ফার্মাফেস্ট হলো দেশের শীর্ষ ওষুধ প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান এবং বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ফার্মেসি অনুষদের শিক্ষার্থীদের এক মহা মিলনমেলা। 

ওষুধ প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে শিক্ষার্থীদের পরিচয় ও সেতুবন্ধন তৈরি করা এবং শিক্ষার্থীদের সৃজনশীল প্রতিভাকে সবার সামনে তুলে ধরার লক্ষ্যে নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ফার্মাসিউটিক্যাল ক্লাব ২০১০ সাল থেকে প্রতিবছর ফার্মাফেস্টের আয়োজন করে আসছে। 

অনুষ্ঠানের মধ্যে ছিল ফার্মা অলিম্পিয়াড, ফার্মা ডিবেট, সারা দেশের অংশগ্রহণকারীদের নিয়ে পোস্টার প্রদর্শনী, নর্থসাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের স্টল প্রদর্শনীর মাধ্যমে উদ্ভাবনী ধারণা প্রদর্শনের পাশাপাশি বিনা মূল্যে রক্তচাপ, রক্তে শর্করা, রক্তদান কর্মসূচি ইত্যাদি। 

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ওষুধ প্রশাসন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মোহাম্মদ ইউসুফ। 

ফার্মাসিস্টদের ভূমিকা বোঝার লক্ষ্যে তরুণ মনের বিকাশ কীভাবে হবে, কীভাবে তারা নিরাপদ ওষুধ নিশ্চিত করবে এবং আমাদের দেশে স্বাস্থ্য সেবার ভবিষ্যৎ নিয়ে তারা কীভাবে সম্পৃক্ত থাকবে - এগুলো এ বছরের অনুষ্ঠানের প্রধান বিষয়গুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য। 

স্বাগত বক্তব্যের মাধ্যমে অনুষ্ঠানটির উদ্বোধন করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ফার্মেসি অনুষদের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. জি. এম. সাইদুর রহমান। 

অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন, উপ-উপাচার্য ড. মো. ইসমাইল হোসেন, ওষুধ প্রশাসন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মোহাম্মদ ইউসুফ এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের "স্কুল অব হেলথ অ্যান্ড লাইফ সাইন্স" - এর ডিন অধ্যাপক ড. হাসান মাহমুদ রেজা।  

বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য তার বক্তব্যে উল্লেখ করেন, ওষুধ বিভাগ বাংলাদেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। ওষুধের চাহিদা দেশে প্রতিবছর বাড়ছে কারণ একদিকে যেমন এদেশের মানুষের আয় বাড়ছে তেমনি অন্যদিকে মানুষের মধ্যে রোগ ও রোগের প্রতিরোধের ব্যাপারে সচেতনতা বাড়ছে। এর ফলে ওষুধের রপ্তানিও দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং এসব বিষয়বস্তু ফার্মাসিউটিক্যাল সেক্টরের দ্রুত বিকাশে অবদান রাখছে।   
 
প্রধান অতিথি ওষুধ প্রশাসন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মোহাম্মদ ইউসুফ স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থার সকল খাতে ফার্মাসিস্টদের বহুবিধ ভূমিকার ব্যাপারটিতে আলোকপাত করে বলেন, ফার্মাসিস্টদের ব্যতীত একটি কার্যকর স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থা কোনোভাবেই সম্ভব নয়। 

তিনি আরও বলেন, ঔষধখাত বর্তমানে দেশের সর্বোচ্চ উন্নত উৎপাদন খাত। করোনা মহামারিকালে এ দেশের ফার্মাসিস্টরা শুধু যে দেশে জীবন রক্ষাকারী পথ্য সরবরাহ করেছে তা নয়, বরং দেশের বাইরেও অত্যন্ত দ্রুততম সময়ে রপ্তানিতে ভূমিকা রেখেছে। উক্ত সংকটপূর্ণ মুহূর্তে দেশের জন্য অবদান রাখতে পারা ফার্মাসিস্টদের জন্য ছিল একটি সুবর্ণ সুযোগ। 

তিনি আরও উল্লেখ করেন, ৫৭টি ওআইসি অন্তর্ভুক্ত দেশের মধ্যে মাত্র তিনটি দেশের করোনা ভ্যাকসিন উৎপাদন ক্ষমতা রয়েছে, যার মধ্যে বাংলাদেশ অন্যতম এবং এ জন্য আমরা গর্বিত। 
 
এরপর বক্তব্য রাখেন বিশ্ববিদ্যালয়ের "স্কুল অব হেলথ অ্যান্ড লাইফ সায়েন্স" - এর ডিন অধ্যাপক ড. হাসান মাহমুদ রেজা। তিনি বর্ণনা করেন,  ফার্মাফেস্ট নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সেরা অনুষ্ঠান গুলির মধ্যে একটি। শুধু ফার্মেসি অনুষদের ছাত্রছাত্রীরা নয় সকল অনুষদের ছাত্রছাত্রীরাই এই অনুষ্ঠান ব্যাপকভাবে উপভোগ করে যেহেতু ফার্মাসিস্টদের অনেক রিসার্চ গবেষণা করতে হয়। তাই তিনি প্রধান অতিথিকে অনুরোধ করেন প্রাতিষ্ঠানিক ভাবে একাডেমিকভাবে শিক্ষার্থীদের জন্য গবেষণা করার সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধি করতে।

তিনি আরও , থাইল্যান্ড, আমেরিকা, ইন্দোনেশিয়াতে ওষুধের দোকানগুলো ফার্মটি রেজিস্টার্ড ফার্মাসিস্ট দ্বারাই পরিচালিত হয়। বাংলাদেশের ওষুধের বাজার গুলোতে ফার্মাসিস্টদের নিয়ন্ত্রণ কম। তাই ফার্মাসিস্টদের ওষুধ বাজার ভালোভাবে পর্যবেক্ষণ করতে হবে। আর খোয়াল রাখতে হবে অননুমোদিত কেউ যাতে বাজার পরিচালনা করতে না পারে।

অনুষ্ঠান শেষে ম্যাগাজিন কমিটি ও অতিথিদের বার্ষিক ম্যাগাজিন প্রদান করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রভাষক ও ফার্মাসিউটিক্যাল ক্লাবের ফ্যাকাল্টি উপদেষ্টা আনিকা তাবাসসুম বৃষ্টি। অনুষ্ঠানটি সফলভাবে উদ্‌যাপনে সম্মিলিতভাবে কাজ করেছে বিশ্ববিদ্যালয়ের ফার্মেসি অনুষদের শিক্ষক এবং ফার্মাসিউটিক্যাল ক্লাবের পরিচালনা পর্ষদ ও স্বেচ্ছাসেবকগণ।  

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত