সৌভাগ্যের গোলাপি হীরা

আপডেট : ১১ নভেম্বর ২০২২, ০১:৫২ এএম

বিশ্বে হীরক জগতে দুর্লভ গোলাপি হীরা। এগুলোরই একটি ফরচুন পিংক ডায়মন্ড। নামের সঙ্গে ফরচুন বা সৌভাগ্য-সমৃদ্ধি থাকার কারণ হলো এই বিরল হীরা তো আর যার-তার ভাগ্যে জুটবে না। বলা হয়, সম্রাটের রতœভাণ্ডারে পাওয়া যায় এই ধরনের অমূল্য রতন। সম্প্রতি সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় নিলামে উঠেছিল ‘ফরচুন পিংক’ নামের ১৮.১৮ ক্যারেটের হীরাটি। শেষ পর্যন্ত ২৮ লাখ ডলারেরও বেশি দামে এই গোলাপি হীরার মালিক হয়েছেন এশিয়ার একজন ক্রেতা।

নিলামে ২৮.৪ লাখ সুইস ফ্রাঙ্ক অর্থাৎ সাড়ে ১৮ লাখ ডলারে শুরু হয় ডাক। নিলামকারী সংস্থা জানিয়েছে, এশিয়ার একজন ক্রেতা এই গোলাপি হীরার মালিক হয়েছেন। নিলামের আয়োজনকারীরা জানান, বিরল শ্রেণিতে পড়ে এই হীরাটি। উজ্জ্বল গোলাপি রঙের সঙ্গে নাশপাতি আকৃতির এই হীরাটি সৌন্দর্যে অনন্য।  

ফরচুন পিংক হীরাটি ১৫ বছর আগে ব্রাজিলে খননের সময় পাওয়া গিয়েছিল। অনুমান করা হয়েছিল, ২৫ থেকে ৩৫ লাখ ডলারের মধ্যে বিক্রি হবে এটি। যদিও নিলামের আয়োজকরা দেখেন, হীরাটির মধ্যে একটি বিশেষত্ব রয়েছে। ক্যারেটের হিসাবে এর ওজন ১৮.১৮; যা এশিয়ার দেশগুলোতে সমৃদ্ধি ফিরিয়ে আনে বলে বিশ্বাস করা হয়। 

জেনেভার হোটেল ডেস বার্গেসে একটি বিশাল অলঙ্কার বিক্রির সময় হীরাটির নিলাম করা হয়েছিল। জেনেভায় ক্রিস্টি’স লাক্সারি উইক সেল চলাকালীন এই হীরাটি কেনার জন্য মানুষের মধ্যে প্রচুর উৎসাহ দেখা যায়। চার মিনিট ধরে চলেছিল দরকষাকষি। গোলাপি হীরাটি প্রথম জেনেভাতে প্রদর্শিত হয়েছিল। তারপর শোরুম সফরের অংশ হিসেবে এটি নিউ ইয়র্ক, সাংহাই, তাইওয়ান ও সিঙ্গাপুর সফর করে অক্টোবরে সুইজারল্যান্ডে ফিরে আসে।

গোলাপি হীরা পৃথিবীতে পাওয়া দুর্লভ রতœগুলোর মধ্যে একটি; তাই এগুলো খুব বেশি দামে বিক্রি হয়। প্রথম গোলাপি হীরাটি ভারতের গোলকুন্ডা খনিতে পাওয়া গিয়েছিল। ষোড়শ শতকের পরবর্তী বছরগুলোতে এ ধরনের হীরা অস্ট্রেলিয়া, আফ্রিকা, ব্রাজিল ও রাশিয়াতেও পাওয়া যায়। গোলাপি এই হীরার গোলাপি রং একটি ত্রুটির কারণে আসে, খনিতে সাধারণ হীরার চেয়ে এগুলো অতিরিক্ত প্রাকৃতিক চাপে গোলাপি হয়। একই কারণে এই হীরাতে আলোও ভিন্নভাবে প্রতিফলিত হয়, যা এর উজ্জ্বলতা আরও বাড়িয়ে দেয়।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত