এইচএসসি ও সমমানের প্রশ্ন নিয়ে বিতর্ক পিছু ছাড়ছে না। ঢাকা বোর্ডের বাংলা প্রথম পত্রে সাম্প্রদায়িক উসকানিমূলক প্রশ্নের পর এবার কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের প্রশ্নে একজন সাহিত্যিককে হেয় করে প্রশ্ন করার অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ খতিয়ে দেখতে গতকাল বৃহস্পতিবার তিন সদস্যবিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিকে পরবর্তী তিন কর্মদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে।
কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের সচিব মোহাম্মদ আবদুল্লাহ আল মাহমুদ জামানকে আহ্বায়ক করে গঠিত কমিটির অন্য দুজন সদস্য হলেন বোর্ডের পরিদর্শক খালেদ হোসেন ও উপপরীক্ষা নিয়ন্ত্রক (ডিপ্লোমা) মোহাম্মদ শাহিন কাওসার সরকার। গত ৬ নভেম্বর কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের এইচএসসি (বিএম-বিজনেস ম্যানেজমেন্ট) ‘বাংলা’-২ পরীক্ষার ১ নম্বর প্রশ্নের উদ্দীপকে বলা হয়েছে, ‘প্রখ্যাত সাহিত্যিক আনিসুল হক লেখালেখি করে সুনাম অর্জন করতে চান। ২১শে বইমেলায় তাড়াহুড়ো করে তিনি বই প্রকাশ করেন। পাঠকদের কাছে তার লেখা খাপছাড়া মনে হয়। ফলে পাঠকদের কাছে তিনি সমাদৃত হন না।’
এই উদ্দীপকের বিপরীতে চারটি প্রশ্ন করা হয়েছে। সেগুলো হলো, (ক) ‘যশ’ শব্দের অর্থ কী? (খ) ‘লেখা ভালো হইলে সুনাম আপনি আসিবে’ উক্তিটি ব্যাখ্যা কর। (গ) আনিসুল হক কোন কারণে ব্যর্থ, তা ‘বাঙ্গালার নব্য লেখকদিগের প্রতি নিবেদন’ রচনার আলোকে ব্যাখ্যা কর। (ঘ) সাহিত্যের উন্নতিকল্পে ‘বাঙ্গালার নব্য লেখকদিগের প্রতি নিবেদন’ রচনায় লেখকের পরামর্শ বিশ্লেষণ কর।’
কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক মো. কেফায়েত উল্লাহ গত রাতে দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘আমরা প্রশ্নকর্তাকে চিহ্নিত করতে ও পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখতে তদন্ত কমিটি গঠন করেছি। কমিটি আগামী তিন কর্মদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দেবে। তা আমরা মন্ত্রণালয়ে পাঠাব। এর আলোকে মন্ত্রণালয় ব্যবস্থা নেবে। তবে আমি এটুকু বলতে পারি, এ ধরনের প্রশ্ন করা একেবারেই অযৌক্তিক। যিনি এই প্রশ্ন করেছেন ও অন্য যারা এরসঙ্গে জড়িত ছিলেন তাদের সবাইকে শাস্তির আওতায় আনা হবে। কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।’
এর আগে ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের বাংলা প্রথম পত্রের পরীক্ষায় সাম্প্রদায়িক উসকানিমূলক প্রশ্ন করার অভিযোগ নিয়ে দেশজুড়ে চলছে আলোচনা-সমালোচনা। ইতিমধ্যে ওই প্রশ্ন প্রণয়নের সঙ্গে জড়িত একজন প্রশ্নকর্তা ও চারজন মডারেটরকে চিহ্নিত করা হয়েছে। তাদের ব্যাপারে তদন্ত চলছে। প্রতিবেদন পাওয়ার পর কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে জানানো হয়েছে।
