বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর অভিযোগ করেছেন, ‘দুর্নীতি ও লুটপাটের মাধ্যমে রিজার্ভ ফাঁকা করে ফেলেছে সরকার। এখন আবার আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) কাছ থেকে ঋণ নিচ্ছে। এর মাধ্যমে সরকার জনগণকে আরও ঋণের জালে ফেলছে।’
গতকাল বৃহস্পতিবার জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে এবং বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ও তার স্ত্রী ডাক্তার জোবাইদা রহমানের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির প্রতিবাদে জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দলের উদ্যোগে আয়োজিত সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ অভিযোগ করেন।
মির্জা ফখরুল বলেন, ‘আইএমএফের ঋণ পেয়ে সরকার ডুগডুগি বাজাচ্ছে। আগে বলেছিল, আইএমএফের ঋণ লাগবে না। তাহলে এখন কেন ঋণ নিচ্ছে? কারণ দুর্নীতি করে রিজার্ভ ফাঁকা করে ফেলেছে সরকার। তারা আরও ঋণের মধ্যে ফেলেছে জনগণকে।’
তিনি বলেন, ‘টাকা পাচার করে বিদেশে ব্যবসা করার হিড়িক পড়েছে। বিশেষ একটি দেশে বাংলাদেশিদের বিনিয়োগ বাড়ছে। আওয়ামী লীগ সরকার আসার পর জনগণের ওপর ঋণের বোঝা চাপিয়ে দিয়েছে। আমরা করোনার সময় মেগা প্রকল্পগুলো বন্ধ করতে বলছিলাম। সরকার আমাদের কথায় কান দেয়নি।’
বিএনপি মহাসচিব অভিযোগ করেন, ‘গত ১৪ বছরে বিরোধী দল দমনে সরকার গায়েবি মামলাকে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছে। ১৪ বছর ধরে একই খেলা চলছে। মামলা দিয়ে দমানো যাবে না। গণসমাবেশে বাধা দেওয়া হচ্ছে। তারা জানে না, প্রতিটি ফ্যাসিবাদের পতন হয়েছে গণআন্দোলনের মাধ্যমে। নূর আলমদের রক্ত বৃথা যেতে দেওয়া হবে না।’
নেতাকর্মীদের সতর্ক করে তিনি বলেন, ‘অতীতের মতোই ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে আন্দোলনকে ভিন্ন খাতে প্রবাহের চেষ্টায় লিপ্ত হয়েছে সরকার। সবাইকে সতর্ক থেকে জনগণের দাবি আদায়ে মনোযোগ দিতে হবে। গুম, খুন, নিখোঁজ ব্যক্তিদের পরিবারের সদস্য ১০ বছর আগে “মায়ের ডাক” নামে একটি সংগঠন করেছিল। এর বিপরীতে “মায়ের কান্না” তৈরি করে পুরনো অলীক ইস্যুকে সামনে এনে চক্রান্ত হচ্ছে আন্দোলনকে ব্যর্থ করে দেওয়ার জন্য।’
বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের মাজার সরিয়ে নেওয়ার কথা বলে ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে। বিএনপি এটাকে হালকাভাবে নিচ্ছে না। জনগণের নজর ভিন্ন দিকে নিতে দেওয়া হবে না।’
সরকারের উদ্দেশে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘এখনো সময় আছে। পদত্যাগ করুন, সংসদ ভেঙে দিন, নিরপেক্ষ সরকারের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর করুন। এখন ক্ষমতা না ছাড়লে ক্ষমতা ছাড়ার আর সময় পাবেন না।’
স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি এসএম জিলানীর সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক রাজীব আহসানের পরিচালনায় সভায় অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন বিএনপির স্বেচ্ছাসেবকবিষয়ক সম্পাদক মীর শরাফত আলী সপু, স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সভাপতি ফজলুল হক মিলন, সাবেক সাধারণ সম্পাদক আবদুল কাদির ভূঁইয়া জুয়েল, স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সভাপতি মুস্তাফিজুর রহমান, ঢাকা মহানগর নেতা প্রকৌশলী ইশরাক হোসেন, যুবদল সভাপতি সুলতান সালাউদ্দিন টুকু প্রমুখ।
